কিম্বারলি ব্র্যাডির সামনে তখন আর তেমন কোনো পথ খোলা ছিল না। ৫৩ বছর বয়সী এই মার্কিন নারী মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা তাকে ভালো চাকরি এনে দিতে পারেনি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বড় খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিকস ও গয়না বিক্রির তুলনামূলক কম বেতনের চাকরিতে আটকে ছিলেন তিনি।
গ্রাহকসেবা ও বিক্রয় খাতে নতুন চাকরির জন্য প্রায় ৬২০টি আবেদন করেছিলেন ব্র্যাডি। কিন্তু একটির পর একটি আবেদন ব্যর্থ হয়। এর মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, যে ধরনের কাজের জন্য আবেদন করছেন, সেসব কাজও দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে বদলে যাচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের পেশা বদলের সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিষ্ঠানের চক্ষু-পরিষেবা বিভাগে কাজ পাওয়ার আশায় নিজেই নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা শুরু করেন। কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি না থাকায় প্রায় ছয় মাস ধরে বই ও অনলাইন ভিডিও দেখে নিজে নিজে চক্ষু-পরিষেবা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। জাতীয় পর্যায়ের দুটি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। দুটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য কয়েক হাজার ডলার খরচ করেন।
তারপরও চাকরি পাননি।
কারণ ছিল বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার অভাব। ব্র্যাডির ভাষায়, যোগ্যতা অর্জনের পরও প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়োগ দিতে রাজি হয়নি।
তার অভিজ্ঞতা শুধু একজন চাকরিপ্রার্থীর ব্যক্তিগত ব্যর্থতার গল্প নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরও বড় একটি সমস্যার প্রতিচ্ছবি। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বহু কর্মীকে পেশা বদলাতে হতে পারে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পুনঃদক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় হারাতে পারে কোটি চাকরি
গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক কোটি চাকরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বিলুপ্ত বা স্থানচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবনের শুরুর দিকের সাদা-কলারের চাকরি এবং নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এখনো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে চাকরি হারানোর দৃশ্য দেখা যায়নি। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ইতিমধ্যে কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতি পাঁচজন কর্মীর একজন মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার চাকরি নিয়ে নিতে পারে।
আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর ইতিহাস অবশ্য কিছুটা আশাব্যঞ্জক। বিদ্যুৎ থেকে কম্পিউটার—প্রতিটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিছু পুরোনো চাকরি বিলুপ্ত করেছে, আবার নতুন ধরনের কাজও তৈরি করেছে। কিন্তু এবার পরিবর্তনের গতি ও ব্যাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ কিছু প্রযুক্তিবিদ এমন ভবিষ্যতের কথা বলেছেন, যেখানে মানুষের আয় নিশ্চিত থাকবে, অথচ প্রচলিত অর্থে কাজের প্রয়োজন ক্রমেই কমে যাবে। তবে অধিকাংশ রাজনীতিক এই ধারণাকে বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে গ্রহণ করেন না।
তাদের সামনে বরং আরও কঠিন প্রশ্ন—কাজের জগৎ দ্রুত বদলে যাওয়ার আগে কীভাবে মানুষকে সেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করা যায়?

পুরোনো প্রশিক্ষণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শিক্ষা ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা মূলত এমন একটি ধারণার ওপর তৈরি যে মানুষ কর্মজীবনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করবে। এরপর চাকরি হারালেও সেটি হবে সাময়িক বিরতি এবং পরে একই ধরনের কাজে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।
কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে এই ধারণা হয়তো আর কার্যকর থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশ চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় ভর্তি হয়। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বড় অংশ দেওয়া হয় কমিউনিটি কলেজগুলোর মাধ্যমে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মশক্তি উন্নয়ন কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ যায় এবং প্রায় ৮০ লাখ মানুষ এসব কর্মসূচির আওতায় আসে।
তবু চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
২০২২ সালে নতুন কর্মীদের জন্য বাণিজ্য-সম্পর্কিত পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও সীমিত হয়েছে। ২০২৩ সালে চাকরি হারানো মানুষের জন্য প্রধান কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৭ কোটি ডলার। এতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ।
একটি অনুমোদিত কোর্সে অংশ নিতে সীমিত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, পুরো ব্যবস্থাটিই যেন প্রশিক্ষণে মানুষ কতক্ষণ উপস্থিত ছিল তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়, প্রশিক্ষণের পর তারা চাকরি পেল কি না বা আয় বাড়ল কি না—সেটি তুলনামূলকভাবে কম বিবেচনা করে।
ফলে পুরো ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে বিচ্ছিন্ন, জটিল এবং অর্থের দিক থেকে দুর্বল।
তরুণদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নতুন পথ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে যদি কর্মজীবনের শুরুর দিকের দাপ্তরিক চাকরিগুলো কমে যায়, তাহলে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির বাইরে তরুণদের জন্য কর্মজীবনে প্রবেশের আরও পথ তৈরি করতে হবে।
এর একটি সম্ভাব্য সমাধান হলো খাতভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এতে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণদাতারা একসঙ্গে কাজ করে এমন কোর্স তৈরি করতে পারে, যেগুলো বাস্তব চাকরির চাহিদার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা ও উৎপাদন খাতে পরিচালিত চারটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির ফলাফলে দেখা গেছে, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অংশগ্রহণকারীদের আয় ১১ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আরেকটি পথ হলো শিক্ষানবিশ ব্যবস্থা। এতে একজন তরুণ একই সঙ্গে বেতনভুক্ত কাজ করেন এবং কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষানবিশ কর্মসূচি জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে নিবন্ধিত শিক্ষানবিশের সংখ্যা প্রায় আট লাখ। জনসংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশের দেশ জার্মানিতে এর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। আবার যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষানবিশ ব্যবস্থা মূলত নির্মাণ ও কারিগরি পেশায় সীমাবদ্ধ। জার্মানিতে এর বিস্তার আরও অনেক বেশি খাতে।
নতুন উদ্যোগের শুরু
পরিস্থিতি বদলাতে কিছু নতুন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
রেইজ ইউএস নামের একটি অলাভজনক উদ্যোগ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। এর অর্থদাতাদের মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের বড় প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই, পাশাপাশি জেনারেল মোটরস ও ব্যাংক অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠান।
ইতিমধ্যে চারটি অঙ্গরাজ্যে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মেরিল্যান্ডে এমন একটি কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে তরুণদের এক বছর অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য অর্থ দেওয়া হয়। নতুন উদ্যোগে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো খাতে দীর্ঘমেয়াদি চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ।
পুরোনো কর্মীদের সমস্যা আরও জটিল
কর্মজীবনে থাকা মানুষদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আলাদা। তাদের শুধু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিলেই সবসময় সমাধান হবে না। অনেকের ক্ষেত্রে বর্তমান চাকরিটিই এমনভাবে বদলে যেতে পারে যে তাকে সম্পূর্ণ নতুন পেশায় যেতে হবে।
বড় বড় সাদা-কলারের প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে কর্মীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে। কিন্তু কর্মীদের বর্তমান কাজ যদি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়, তখন শুধু সেই কাজের নতুন সংস্করণ শেখানো যথেষ্ট হবে না।
সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সেলসফোর্স এ ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য মডেল তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের বিদ্যমান দক্ষতা বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোন কোন নতুন পদে তারা যেতে পারেন, তা চিহ্নিত করে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক যোগ্যতা অর্জনের খরচও ফেরত দেওয়া হয়।
কিন্তু এ ধরনের ব্যবস্থা এখনো খুবই বিরল।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো—অনেক কর্মীর জন্য ভবিষ্যতে ঠিক কোন দক্ষতাটি প্রয়োজন হবে, সেটিই এখনো পরিষ্কার নয়।
পেশা বদল শুধু দক্ষতার বিষয় নয়
কেউ দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করার পর হঠাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় চলে যাওয়া সহজ নয়। বিষয়টি শুধু প্রশিক্ষণ বা অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে মানুষের আত্মপরিচয় ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়ও জড়িত।
উত্তর ক্যারোলিনার বাণিজ্যবিষয়ক কর্মকর্তা লি লিলি মনে করেন, দুই দশক ধরে দাপ্তরিক পেশায় কাজ করা কাউকে হঠাৎ অন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন কারিগরি পেশায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
তাই নতুন প্রশিক্ষণব্যবস্থাকে শুধু চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করলেই হবে না। মানুষের আগের দক্ষতা ও পেশাগত পরিচয়কেও বিবেচনায় রাখতে হবে।
বারবার নতুন করে শেখার যুগ
প্রযুক্তির পরিবর্তন যত দ্রুত হবে, কর্মীদের তত বেশি বার পেশা বদলাতে হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে একজন মানুষ কর্মজীবনের শুরুতে একবার প্রশিক্ষণ নিয়েই পুরো জীবন একই দক্ষতার ওপর নির্ভর করবেন—এমন ধারণা হয়তো আর টিকবে না।
চাকরি হারানোর পর নতুন দক্ষতা অর্জনের জন্য বর্তমান সহায়তাও খুব সীমিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের বড় আইনগত প্যাকেজ অনুমোদিত কিছু আট থেকে ১৫ সপ্তাহের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষাঋণ ও অনুদানের সুযোগ বাড়িয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের বাজেট কার্যালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৪ সাল নাগাদ এতে বছরে অতিরিক্ত মাত্র এক লাখ মানুষ সুবিধা পেতে পারেন। গড় অনুদানের পরিমাণও হবে প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলার।
এত বড় পরিবর্তনের তুলনায় এই সহায়তা খুবই সামান্য।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বেকারত্বের আশঙ্কা দেখা দিলে ব্যবসায়ী নেতারা অর্থনীতিকে যুদ্ধকালীন অবস্থা থেকে শান্তিকালীন ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিলেন।
আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও তেমন একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কর্মীদের এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। সেটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ক্ষতিকর হবে।
কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্টও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চান। তার বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন পথ নিয়ে চিন্তা করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।
অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে কর্মী ও স্থানীয় অর্থনীতিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গবেষণা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যথাক্রমে ২০ কোটি ও ২৫ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কিন্তু এখানে একটি বড় বৈপরীত্যও রয়েছে। ওপেনএআই ২০৩০ সাল পর্যন্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে যে অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে, তার তুলনায় কর্মীদের সহায়তায় প্রতিশ্রুত ২৫ কোটি ডলার প্রায় তিন হাজার গুণ কম।
সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু কিছু চাকরি বিলুপ্ত করবে কি না—প্রশ্নটি এখন আর সেখানে সীমাবদ্ধ নেই। বড় প্রশ্ন হলো, যে মানুষগুলোকে নতুন কাজের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, তাদের সেই সুযোগ কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়া যাবে।
কিম্বারলি ব্র্যাডির গল্প দেখিয়েছে, নিজের উদ্যোগে নতুন দক্ষতা অর্জন করাই সবসময় যথেষ্ট নয়। প্রশিক্ষণের সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, নিয়োগের সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সেতুও প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র যদি তরুণদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের পথ তৈরি করতে পারে, কর্মরত মানুষকে চাকরির মধ্যেই নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ দিতে পারে এবং চাকরি হারানো মানুষকে দ্রুত নতুন পেশায় যাওয়ার সহায়তা দিতে পারে, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কা সামলানো সম্ভব হতে পারে।
কিন্তু শুধু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ালেই হবে না। সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিয়োগদাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ প্রযুক্তি যত দ্রুত বদলাচ্ছে, প্রশিক্ষণব্যবস্থা যদি তার চেয়ে ধীরে বদলায়, তাহলে লাখ লাখ কর্মী নতুন অর্থনীতির বাইরে পড়ে যেতে পারেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















