০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ফিলিপাইনের লাখো চাকরি কেড়ে নেবে, নাকি খুলে দেবে নতুন দরজা? ব্রাজিলের নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ, ভোটারদের মনে অনীহা—লুলার সামনে কঠিন লড়াই মাস্কের ভবিষ্যদ্বাণী ও নীতির দায়: এই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কি প্রযুক্তি, নাকি মানবিকতা? প্রাণীর ওপর পরীক্ষা বন্ধে আমেরিকার দুই দল একজোট, কিন্তু মানুষের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নামছে কি বড় ঝুঁকি? মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে বাংলাদেশের এইচপি দলের বড় জয় হাঙ্গুতে সেনা অভিযানে ক্যাপ্টেন শহীদ, নিহত ৭ ‘সন্ত্রাসী’ আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই ৫৬৫ শ্রমিক ছাঁটাই, কার্যাদেশ ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি পানিতে ডুবে, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ: স্থায়ী নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি নড়াইলে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় নষ্ট আউশ ধান, কৃষকের ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা সাঘাটায় ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতকর্মীর ৪৮ দিন পর ঢাকার হাসপাতালে মৃত্যু

এআইয়ের সোনালি ঢেউয়ে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, চিপ কর্মীদের হাতে লাখ লাখ ডলারের বোনাস

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও সমাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান এমন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে, যার প্রভাব শুধু প্রযুক্তি শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এআই-নির্ভর বিশ্বে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর অন্যতম জোগানদাতা দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় চিপ নির্মাতারা বিপুল মুনাফা করছে। আর সেই মুনাফার একটি অংশ পৌঁছে যাচ্ছে কর্মীদের হাতেও। ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের ধনী কর্মজীবী শ্রেণি, বদলে যাচ্ছে সামাজিক মর্যাদার পুরোনো হিসাব-নিকাশও।

একটি দক্ষিণ কোরীয় হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠানের সাম্প্রতিক কৌতুকে এই পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অগোছালো পোশাকের এক ব্যক্তি দামি দোকানে ঢুকলে কর্মীরা তাকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু তিনি গায়ের জ্যাকেট খুলে দেখান, ভেতরে একটি বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা পোশাক। মুহূর্তেই বদলে যায় কর্মীদের আচরণ। কৌতুকের আড়ালে লুকিয়ে আছে বাস্তবতার ইঙ্গিত—দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখন নতুন ধরনের সামাজিক আকর্ষণের কেন্দ্রে।

বিয়ে ঘটানোর প্রতিষ্ঠানগুলোও বলছে, বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৌশলীদের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। চিকিৎসক ও আইনজীবীদের মতো ঐতিহ্যগতভাবে সম্মানিত পেশাজীবীদের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে তাদের সামাজিক মর্যাদা।

চিপ শিল্পে এআইয়ের বিপুল অর্থবৃষ্টি

এআইয়ের বিস্ফোরণ শুধু সফটওয়্যার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করেনি। এই প্রযুক্তি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতার স্মৃতি চিপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামোর জোগান দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো।

দেশটির কর্মকর্তারা তাই এআইয়ের বর্তমান উত্থানকে অনেকটা সোনার খনির উন্মাদনার সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে এখানে সোনা খোঁজা প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা অনিশ্চিত হলেও সেই সোনার খনির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরিকারী চিপ নির্মাতারা ইতিমধ্যেই বিপুল অর্থ উপার্জন করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দুই বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের পরিচালন মুনাফা এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ওনে পৌঁছেছে। এর মাত্র এক দিন আগে এসকে হাইনিক্স জানায়, একই সময়ে তাদের পরিচালন মুনাফা এক বছরের তুলনায় ৫৫৭ শতাংশ বেড়েছে।

এই বিপুল মুনাফা স্বাভাবিকভাবেই কর্মীদের মধ্যেও প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

Fierce debates are raging in Seoul about how South Korea should share and  protect AI fortunes. The government is trying to strike a balance between  protecting the private sector and spreading the

লাখ লাখ ডলারের বোনাসে তৈরি হচ্ছে ‘সিলিকন কলার’ শ্রেণি

এসকে হাইনিক্স গত বছর পরিচালন মুনাফার ১০ শতাংশ কর্মীদের বোনাস হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়নও বিপুল মুনাফার অংশ কর্মীদের দেওয়ার দাবিতে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল।

শেষ মুহূর্তের সমঝোতায় কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো গেলেও কর্মীদের জন্য যে ধরনের বোনাসের ব্যবস্থা হয়েছে, তা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত আয় কাঠামোর তুলনায় অবিশ্বাস্য। কিছু কর্মীর বোনাস ৪ লাখ ডলারেরও বেশি হতে পারে।

যে দেশে গড় বার্ষিক বেতন ৪০ হাজার ডলারের নিচে, সেখানে এক বছরে কয়েক লাখ ডলারের বোনাস শুধু ব্যক্তিগত সম্পদই বাড়াচ্ছে না, বরং সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসেও পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তি শিল্পে কাজ করা এসব কর্মীকে তাই অনেকে নতুন ধরনের ‘সিলিকন কলার’ কর্মী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন—যারা প্রচলিত সাদা কলার বা নীল কলারের পরিচয়ের বাইরে এক নতুন অর্থনৈতিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছেন।

এআইয়ের লাভ সবার ঘরে পৌঁছাচ্ছে না

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এআই-সমৃদ্ধির গল্পের অন্য একটি দিকও রয়েছে। এই বিপুল সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ এখনো চিপ শিল্পের ভেতরেই আটকে আছে।

সরকার ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করেছে। কিন্তু এর বড় কারণ চিপ রপ্তানির উত্থান। চিপ কারখানার আশপাশের অঞ্চল ছাড়া দেশের অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের ভোগব্যয় এখনো দুর্বল।

এ কারণে প্রযুক্তি শিল্পের বাইরে থাকা মানুষও শেয়ারবাজারের মাধ্যমে এআই-সমৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করেছেন। মে ও জুন মাসে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে প্রায় ৭৮ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগ করেন। কিন্তু জুলাইয়ে বাজারে বড় পতন হওয়ায় তাদের অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েন।

দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক গত এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হলেও জুলাইয়ে এক মাসেই ২২ শতাংশ পড়ে যায়। এ ধরনের তীব্র ওঠানামার কারণে দেশটির শেয়ারবাজার বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির বাজারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

এবার সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন—এই সম্পদ যাবে কোথায়?

চিপ শিল্পের বিপুল মুনাফার সবচেয়ে বিস্তৃত সুফল সম্ভবত আসবে কর রাজস্বের মাধ্যমে।

স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের কাছ থেকেই সরকারের কর আদায় এত বেশি হতে পারে যে, তা পুরো বছর করপোরেট খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ কর পাওয়ার আশা করেছিল, তার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

আগামী বছর দক্ষিণ কোরিয়ার মোট কর রাজস্ব ৫০০ ট্রিলিয়ন ওনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশ এবং একটি রেকর্ড পরিমাণ।

এই বাড়তি অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে এখন দেশটিতে তীব্র বিতর্ক চলছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ অতিরিক্ত কর রাজস্ব থেকে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছেন। এমনকি নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ লভ্যাংশ বা মৌলিক আয়ের ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও মনে করছেন, মৌলিক আয়সহ বিভিন্ন সামাজিক নীতি এই নতুন সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

‘জনগণের বিনিয়োগেই তৈরি হয়েছে এই সাফল্য’

অন্য একটি পক্ষ আরও বড় ধরনের সম্পদ পুনর্বণ্টনের দাবি তুলেছে। তাদের যুক্তি হলো, দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ শিল্প রাতারাতি তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের সরকারি বিনিয়োগ, করদাতাদের অর্থ এবং সামগ্রিক জনসমাজের সহায়তার ওপর দাঁড়িয়েই এই শিল্প বিশ্বমানের অবস্থানে পৌঁছেছে।

তাই এ শিল্প থেকে তৈরি হওয়া বিপুল সম্পদের একটি অংশ জনগণের কাছেও ফিরে যাওয়া উচিত বলে তারা মনে করছেন।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মুনাফা করা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন উচ্চ করহার, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর বিশেষ কর এবং সাধারণ জনগণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অংশীদারত্ব তৈরির মতো উদ্যোগ।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর আরেকটি দাবি হলো, নতুন কর থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ প্রথমে চিপ শিল্পের ঠিকাদার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে দেওয়া হোক। কারণ শিল্পের মন্দার সময় পুরো সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে বিপুল মুনাফার সময়ও সেই সুবিধা পুরো শিল্পব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়া উচিত বলে তাদের মত।

How AI-fuelled wealth is reshaping South Korea

কিন্তু অতিরিক্ত কর কি উল্টো ক্ষতি করবে?

সবাই অবশ্য এই মতের সঙ্গে একমত নন।

বিরোধীদের যুক্তি, চিপ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। অতিরিক্ত কর বা নতুন ধরনের মুনাফা কর প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

তাদের মতে, বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর জনগণের দাবি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস সম্পদের ওপর জনগণের অধিকারের মতো নয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রি চ্যাং-ইয়ংয়ের যুক্তি আরও সরল। চিপ নির্মাতারা এআইয়ের উত্থান থেকে লাভবান হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারা নিজেরা এআই প্রতিষ্ঠান নয়। ফলে এআই প্রযুক্তির কারণে তৈরি হওয়া প্রতিটি অতিরিক্ত মুনাফাকে সরাসরি সামাজিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার যুক্তিও সীমিত।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ ধরে রাখতে নতুন তহবিল

সরকার এখন তাই দুই বিপরীত স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে—একদিকে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতা ও বিনিয়োগের সক্ষমতা রক্ষা, অন্যদিকে এআই-সৃষ্ট নতুন সম্পদের সুফল সমাজের বৃহত্তর অংশে পৌঁছে দেওয়া।

এই লক্ষ্যেই সরকার ‘ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়া তহবিল’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে নতুন কোনো বড় কর আরোপ না করে বিদ্যমান করব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে আসা অতিরিক্ত রাজস্ব ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

এই তহবিল থেকে ভবিষ্যৎ শিল্প, তরুণ প্রজন্ম, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এটি শুধু বর্তমানের অর্থনৈতিক উত্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা নয়; ভবিষ্যতের জন্য সেই সম্পদ সংরক্ষণেরও একটি উদ্যোগ।

এআই বিনিয়োগের পরবর্তী ঢেউয়ের প্রস্তুতি

দক্ষিণ কোরিয়া শুধু বর্তমান মুনাফা ভাগাভাগির পথ খুঁজছে না, ভবিষ্যতের এআই অর্থনীতির জন্যও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

সরকার দেশটির বিদ্যমান সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে অন্তত ২০ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার নতুন অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই অর্থ এআই, তথ্যকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে।

একই সঙ্গে বড় চিপ নির্মাতাদের দেশের অপেক্ষাকৃত কম উন্নত অঞ্চলগুলোতেও বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—এআইয়ের অর্থনৈতিক সুফল যেন শুধু রাজধানী বা চিপ কারখানাকেন্দ্রিক কয়েকটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থাকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়া এখন এক বিরল অর্থনৈতিক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এআইয়ের উত্থান দেশটির চিপ শিল্পকে অভূতপূর্ব মুনাফার সুযোগ দিয়েছে। কর্মীদের আয় বাড়ছে, সরকারের কর রাজস্ব বাড়ছে, বিনিয়োগ বাড়ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু এই সমৃদ্ধির সঙ্গে ঝুঁকিও কম নয়। শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক ওঠানামা, শিল্পের বাইরে থাকা মানুষের আয় ও ভোগে স্থবিরতা, সম্পদের অসম বণ্টন এবং অতিরিক্ত করের কারণে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা—সবকিছু মিলিয়ে সরকারের সামনে কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এআই যুগকে আগুন আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিন্তু আগুন যেমন মানুষের সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে, তেমনি নিয়ন্ত্রণের অভাবে ধ্বংসও ডেকে আনতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে তাই প্রশ্ন শুধু কত বেশি অর্থ আয় করা যাবে, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো—এআইয়ের এই অভূতপূর্ব সম্পদ কীভাবে এমনভাবে ব্যবহার করা হবে, যাতে আজকের প্রযুক্তিগত সাফল্য আগামী প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির ভিত্তি হয়ে ওঠে।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া সেই ভারসাম্য খোঁজার পথেই হাঁটছে। এ দেশের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এআই যত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, তত বেশি দেশকেই একদিন একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—প্রযুক্তি যখন বিপুল সম্পদ তৈরি করবে, সেই সম্পদের মালিক হবে কারা, আর তার সুফল পৌঁছাবে কতজনের ঘরে?

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ফিলিপাইনের লাখো চাকরি কেড়ে নেবে, নাকি খুলে দেবে নতুন দরজা?

এআইয়ের সোনালি ঢেউয়ে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, চিপ কর্মীদের হাতে লাখ লাখ ডলারের বোনাস

০৭:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও সমাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান এমন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে, যার প্রভাব শুধু প্রযুক্তি শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এআই-নির্ভর বিশ্বে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর অন্যতম জোগানদাতা দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় চিপ নির্মাতারা বিপুল মুনাফা করছে। আর সেই মুনাফার একটি অংশ পৌঁছে যাচ্ছে কর্মীদের হাতেও। ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের ধনী কর্মজীবী শ্রেণি, বদলে যাচ্ছে সামাজিক মর্যাদার পুরোনো হিসাব-নিকাশও।

একটি দক্ষিণ কোরীয় হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠানের সাম্প্রতিক কৌতুকে এই পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অগোছালো পোশাকের এক ব্যক্তি দামি দোকানে ঢুকলে কর্মীরা তাকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু তিনি গায়ের জ্যাকেট খুলে দেখান, ভেতরে একটি বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা পোশাক। মুহূর্তেই বদলে যায় কর্মীদের আচরণ। কৌতুকের আড়ালে লুকিয়ে আছে বাস্তবতার ইঙ্গিত—দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখন নতুন ধরনের সামাজিক আকর্ষণের কেন্দ্রে।

বিয়ে ঘটানোর প্রতিষ্ঠানগুলোও বলছে, বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৌশলীদের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। চিকিৎসক ও আইনজীবীদের মতো ঐতিহ্যগতভাবে সম্মানিত পেশাজীবীদের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে তাদের সামাজিক মর্যাদা।

চিপ শিল্পে এআইয়ের বিপুল অর্থবৃষ্টি

এআইয়ের বিস্ফোরণ শুধু সফটওয়্যার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করেনি। এই প্রযুক্তি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতার স্মৃতি চিপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামোর জোগান দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো।

দেশটির কর্মকর্তারা তাই এআইয়ের বর্তমান উত্থানকে অনেকটা সোনার খনির উন্মাদনার সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে এখানে সোনা খোঁজা প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা অনিশ্চিত হলেও সেই সোনার খনির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরিকারী চিপ নির্মাতারা ইতিমধ্যেই বিপুল অর্থ উপার্জন করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দুই বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের পরিচালন মুনাফা এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ওনে পৌঁছেছে। এর মাত্র এক দিন আগে এসকে হাইনিক্স জানায়, একই সময়ে তাদের পরিচালন মুনাফা এক বছরের তুলনায় ৫৫৭ শতাংশ বেড়েছে।

এই বিপুল মুনাফা স্বাভাবিকভাবেই কর্মীদের মধ্যেও প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

Fierce debates are raging in Seoul about how South Korea should share and  protect AI fortunes. The government is trying to strike a balance between  protecting the private sector and spreading the

লাখ লাখ ডলারের বোনাসে তৈরি হচ্ছে ‘সিলিকন কলার’ শ্রেণি

এসকে হাইনিক্স গত বছর পরিচালন মুনাফার ১০ শতাংশ কর্মীদের বোনাস হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়নও বিপুল মুনাফার অংশ কর্মীদের দেওয়ার দাবিতে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছিল।

শেষ মুহূর্তের সমঝোতায় কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো গেলেও কর্মীদের জন্য যে ধরনের বোনাসের ব্যবস্থা হয়েছে, তা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত আয় কাঠামোর তুলনায় অবিশ্বাস্য। কিছু কর্মীর বোনাস ৪ লাখ ডলারেরও বেশি হতে পারে।

যে দেশে গড় বার্ষিক বেতন ৪০ হাজার ডলারের নিচে, সেখানে এক বছরে কয়েক লাখ ডলারের বোনাস শুধু ব্যক্তিগত সম্পদই বাড়াচ্ছে না, বরং সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসেও পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তি শিল্পে কাজ করা এসব কর্মীকে তাই অনেকে নতুন ধরনের ‘সিলিকন কলার’ কর্মী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন—যারা প্রচলিত সাদা কলার বা নীল কলারের পরিচয়ের বাইরে এক নতুন অর্থনৈতিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছেন।

এআইয়ের লাভ সবার ঘরে পৌঁছাচ্ছে না

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এআই-সমৃদ্ধির গল্পের অন্য একটি দিকও রয়েছে। এই বিপুল সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ এখনো চিপ শিল্পের ভেতরেই আটকে আছে।

সরকার ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করেছে। কিন্তু এর বড় কারণ চিপ রপ্তানির উত্থান। চিপ কারখানার আশপাশের অঞ্চল ছাড়া দেশের অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষের ভোগব্যয় এখনো দুর্বল।

এ কারণে প্রযুক্তি শিল্পের বাইরে থাকা মানুষও শেয়ারবাজারের মাধ্যমে এআই-সমৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করেছেন। মে ও জুন মাসে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে প্রায় ৭৮ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগ করেন। কিন্তু জুলাইয়ে বাজারে বড় পতন হওয়ায় তাদের অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েন।

দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক গত এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হলেও জুলাইয়ে এক মাসেই ২২ শতাংশ পড়ে যায়। এ ধরনের তীব্র ওঠানামার কারণে দেশটির শেয়ারবাজার বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির বাজারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

এবার সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন—এই সম্পদ যাবে কোথায়?

চিপ শিল্পের বিপুল মুনাফার সবচেয়ে বিস্তৃত সুফল সম্ভবত আসবে কর রাজস্বের মাধ্যমে।

স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের কাছ থেকেই সরকারের কর আদায় এত বেশি হতে পারে যে, তা পুরো বছর করপোরেট খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ কর পাওয়ার আশা করেছিল, তার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।

আগামী বছর দক্ষিণ কোরিয়ার মোট কর রাজস্ব ৫০০ ট্রিলিয়ন ওনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশ এবং একটি রেকর্ড পরিমাণ।

এই বাড়তি অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে এখন দেশটিতে তীব্র বিতর্ক চলছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ অতিরিক্ত কর রাজস্ব থেকে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছেন। এমনকি নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ লভ্যাংশ বা মৌলিক আয়ের ব্যবস্থার কথাও আলোচনায় এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও মনে করছেন, মৌলিক আয়সহ বিভিন্ন সামাজিক নীতি এই নতুন সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

‘জনগণের বিনিয়োগেই তৈরি হয়েছে এই সাফল্য’

অন্য একটি পক্ষ আরও বড় ধরনের সম্পদ পুনর্বণ্টনের দাবি তুলেছে। তাদের যুক্তি হলো, দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ শিল্প রাতারাতি তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের সরকারি বিনিয়োগ, করদাতাদের অর্থ এবং সামগ্রিক জনসমাজের সহায়তার ওপর দাঁড়িয়েই এই শিল্প বিশ্বমানের অবস্থানে পৌঁছেছে।

তাই এ শিল্প থেকে তৈরি হওয়া বিপুল সম্পদের একটি অংশ জনগণের কাছেও ফিরে যাওয়া উচিত বলে তারা মনে করছেন।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মুনাফা করা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন উচ্চ করহার, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর বিশেষ কর এবং সাধারণ জনগণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অংশীদারত্ব তৈরির মতো উদ্যোগ।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর আরেকটি দাবি হলো, নতুন কর থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ প্রথমে চিপ শিল্পের ঠিকাদার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে দেওয়া হোক। কারণ শিল্পের মন্দার সময় পুরো সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে বিপুল মুনাফার সময়ও সেই সুবিধা পুরো শিল্পব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়া উচিত বলে তাদের মত।

How AI-fuelled wealth is reshaping South Korea

কিন্তু অতিরিক্ত কর কি উল্টো ক্ষতি করবে?

সবাই অবশ্য এই মতের সঙ্গে একমত নন।

বিরোধীদের যুক্তি, চিপ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। অতিরিক্ত কর বা নতুন ধরনের মুনাফা কর প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

তাদের মতে, বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মুনাফার ওপর জনগণের দাবি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস সম্পদের ওপর জনগণের অধিকারের মতো নয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রি চ্যাং-ইয়ংয়ের যুক্তি আরও সরল। চিপ নির্মাতারা এআইয়ের উত্থান থেকে লাভবান হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারা নিজেরা এআই প্রতিষ্ঠান নয়। ফলে এআই প্রযুক্তির কারণে তৈরি হওয়া প্রতিটি অতিরিক্ত মুনাফাকে সরাসরি সামাজিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার যুক্তিও সীমিত।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ ধরে রাখতে নতুন তহবিল

সরকার এখন তাই দুই বিপরীত স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে—একদিকে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতা ও বিনিয়োগের সক্ষমতা রক্ষা, অন্যদিকে এআই-সৃষ্ট নতুন সম্পদের সুফল সমাজের বৃহত্তর অংশে পৌঁছে দেওয়া।

এই লক্ষ্যেই সরকার ‘ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়া তহবিল’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে নতুন কোনো বড় কর আরোপ না করে বিদ্যমান করব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে আসা অতিরিক্ত রাজস্ব ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

এই তহবিল থেকে ভবিষ্যৎ শিল্প, তরুণ প্রজন্ম, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এটি শুধু বর্তমানের অর্থনৈতিক উত্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা নয়; ভবিষ্যতের জন্য সেই সম্পদ সংরক্ষণেরও একটি উদ্যোগ।

এআই বিনিয়োগের পরবর্তী ঢেউয়ের প্রস্তুতি

দক্ষিণ কোরিয়া শুধু বর্তমান মুনাফা ভাগাভাগির পথ খুঁজছে না, ভবিষ্যতের এআই অর্থনীতির জন্যও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

সরকার দেশটির বিদ্যমান সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে অন্তত ২০ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার নতুন অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এই অর্থ এআই, তথ্যকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে।

একই সঙ্গে বড় চিপ নির্মাতাদের দেশের অপেক্ষাকৃত কম উন্নত অঞ্চলগুলোতেও বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—এআইয়ের অর্থনৈতিক সুফল যেন শুধু রাজধানী বা চিপ কারখানাকেন্দ্রিক কয়েকটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থাকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়া এখন এক বিরল অর্থনৈতিক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এআইয়ের উত্থান দেশটির চিপ শিল্পকে অভূতপূর্ব মুনাফার সুযোগ দিয়েছে। কর্মীদের আয় বাড়ছে, সরকারের কর রাজস্ব বাড়ছে, বিনিয়োগ বাড়ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু এই সমৃদ্ধির সঙ্গে ঝুঁকিও কম নয়। শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক ওঠানামা, শিল্পের বাইরে থাকা মানুষের আয় ও ভোগে স্থবিরতা, সম্পদের অসম বণ্টন এবং অতিরিক্ত করের কারণে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা—সবকিছু মিলিয়ে সরকারের সামনে কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এআই যুগকে আগুন আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিন্তু আগুন যেমন মানুষের সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে, তেমনি নিয়ন্ত্রণের অভাবে ধ্বংসও ডেকে আনতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে তাই প্রশ্ন শুধু কত বেশি অর্থ আয় করা যাবে, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো—এআইয়ের এই অভূতপূর্ব সম্পদ কীভাবে এমনভাবে ব্যবহার করা হবে, যাতে আজকের প্রযুক্তিগত সাফল্য আগামী প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির ভিত্তি হয়ে ওঠে।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া সেই ভারসাম্য খোঁজার পথেই হাঁটছে। এ দেশের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এআই যত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, তত বেশি দেশকেই একদিন একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—প্রযুক্তি যখন বিপুল সম্পদ তৈরি করবে, সেই সম্পদের মালিক হবে কারা, আর তার সুফল পৌঁছাবে কতজনের ঘরে?