০৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক দুনিয়ায় আমেরিকার নতুন বাজি, ঐকমত্য নয়—উদ্ভাবনেই ভবিষ্যৎ

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার বদলে দিচ্ছে চীনের কর্মজগতের চেহারা। একদিকে প্রযুক্তি, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দেশটির শিল্প ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তি একের পর এক মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কর্মশক্তির দেশগুলোর একটি চীন এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একই সঙ্গে আশীর্বাদ ও বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

চীনের অর্থনীতিতে নতুন আশার জায়গা হিসেবে যে ক্ষুদ্র নাটকের ব্যবসা দ্রুত বড় হয়েছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগমনে সেই শিল্পেই প্রথম ধাক্কাটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির ঝেংঝৌ শহর ক্ষুদ্র নাটকের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। মাত্র এক মিনিটের মতো দৈর্ঘ্যের ধারাবাহিক এসব নাটক চীনের মানুষের মোবাইল পর্দায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০২৫ সালে এই শিল্পের ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ইউয়ানে। তৈরি হয়েছিল প্রায় ৭ লাখ সরাসরি কর্মসংস্থান এবং আরও প্রায় ১৩ লাখ পরোক্ষ কাজ।

কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসে সেই হিসাব দ্রুত পাল্টে দিয়েছে।

৩২ বছর বয়সী সাবেক ট্রাফিক পুলিশ লি দাঝি অভিনয়ের জগতে নতুন করে সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রতি মাসে তিনি আট থেকে ১৫টি কল্পনাধর্মী চিত্রনাট্য পড়তেন। কিন্তু নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তার কাজের পরিমাণ কমে যায়। যে ধারাবাহিক তৈরি করতে আগে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, এখন তা কয়েক দিনের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়ও কমে গেছে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে অভিনেতা ও অন্যান্য কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত কমছে। লির দৈনিক পারিশ্রমিক অর্ধেকে নেমে এসেছে, অনেকের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।

কাজ হারানো অনেকেই এখন বাধ্য হয়ে বীমা বিক্রি করছেন, দোকানের ছোট ব্যবসা করছেন, খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন কিংবা যাত্রী পরিবহনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করতে পারে—এমন বিশ্বাস থাকলেও লির অভিজ্ঞতা বলছে, তার নিজের শিল্পে এই প্রযুক্তি আপাতত সুবিধার চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে।

চীনের নেতৃত্ব অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল কর্মসংস্থানের হুমকি হিসেবে দেখছে না। বরং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই প্রযুক্তি। দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়া জনসংখ্যার কারণে ভবিষ্যতে শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সেই ঘাটতি সামাল দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে চীন। বিশেষ করে মানুষের তৈরি পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানো—অর্থাৎ রোবট, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন ও অন্যান্য যন্ত্রে বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ব্যবহার—নিয়ে দেশটির ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এখানেই তৈরি হচ্ছে বড় দ্বন্দ্ব। ভবিষ্যতের শ্রমিক সংকট মোকাবিলার জন্য যে প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে, সেই প্রযুক্তিই আবার বর্তমানের শ্রমিকদের কাজ কেড়ে নিতে পারে।

ট্রাক চালকের জীবনেও ঢুকে পড়েছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি

চীনের পরিবহন খাতেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। ৪৪ বছর বয়সী জিয়া চুনছি বহু বছর ধরে কয়লা ও ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চালিয়েছেন। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে তার পিঠে ব্যথা ও চোখে ক্লান্তি জমেছে। কিন্তু এখন তার ট্রাকের অত্যাধুনিক সহায়ক প্রযুক্তি অনেক কাজ নিজেই করতে পারে। মহাসড়কে ওঠা বা শহরের কিছু নির্দিষ্ট অংশে চলার সময় ছাড়া তাকে খুব বেশি কিছু করতে হয় না।

আগে আরেকজন চালকের সঙ্গে পালা করে গাড়ি চালাতে হতো। এখন তিনি যাত্রাপথে মার্শাল আর্টের গল্প শোনেন এবং নিজের নয় বছরের সন্তানের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। কাজ কিছুটা আরামদায়ক হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে আরও নিঃসঙ্গ।

চীনে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ট্রাকচালক দেশের মোট পণ্য পরিবহনের ৭০ শতাংশের বেশি সামলান। কিন্তু এই চালকদের বয়স বাড়ছে এবং নতুন প্রজন্মের খুব কম মানুষ এই পেশায় আসতে আগ্রহী। ফলে শ্রমিক সংকট মোকাবিলা, দুর্ঘটনা কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তিতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

একটি বড় পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ট্রাকের মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ট্রাকে এমন প্রযুক্তি বসানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে কেনা সব ট্রাকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে চালকের প্রয়োজন প্রায় ৩০ শতাংশ কমতে পারে এবং পরিবহন ব্যয়ও ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমে আসতে পারে।

চালক ছাড়াই ট্রাক চলার পরীক্ষা

চীনের বড় অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান জেডি ডটকম জুলাইয়ে বেইজিংয়ের উপকণ্ঠে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ট্রাক চলাচলের পথ চালু করেছে। সেখানে ট্রাক নিজে চলতে পারে, তবে নিরাপত্তার জন্য একজন চালককে গাড়ির ভেতরে থাকতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লিউ ছিয়াংতুং আগামী পাঁচ বছরে ৩০ লাখ রোবট, ১০ লাখ চালকবিহীন যান এবং ১ লাখ উড়ন্ত যন্ত্র কেনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

তার বক্তব্যে ভবিষ্যতের একটি কঠিন বাস্তবতা স্পষ্ট। একসময় হয়তো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য মানুষের প্রয়োজনই থাকবে না। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি কর্মীদের বেকার করে দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন। বরং কর্মীদের রোবট রক্ষণাবেক্ষণের মতো নতুন কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

সমস্যা হলো, সব কর্মীকে নতুন প্রযুক্তির কাজে প্রশিক্ষণ দিলেই কি তাদের সবার জন্য কাজ তৈরি হবে?

নতুন কাজ তৈরি হবে, কিন্তু কতটা?

প্রযুক্তির সমর্থকদের যুক্তি হলো, ইতিহাসে নতুন প্রযুক্তি পুরোনো কাজ ধ্বংস করার পাশাপাশি নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। জেডি ডটকমের অর্থনীতিবিদ শেন জিয়াংগুয়াং চীনের অনলাইন বাণিজ্য খাতকে এর উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, আট বছর আগে জেডি ডটকমে কর্মীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজারে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার গুদাম আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও বেড়েছে। এমনকি মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পণ্য বিক্রির প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র দিয়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন প্রযুক্তি নতুন কাজ তৈরি করবে—এই আশাবাদ সবার কাছে সমান বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ একটি পুরোনো কাজ হারানোর পর নতুন কাজ তৈরি হতে সময় লাগে। আর যে মানুষটি কাজ হারিয়েছেন, তিনি সবসময় নতুন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ দ্রুত অর্জন করতে পারেন না।

এই ব্যবধানটিই চীনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

রোবটের দেশ হওয়ার পথে চীন

চীনের কর্মক্ষম জনসংখ্যা দ্রুত কমছে এবং বয়স বাড়ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা চীনের জন্য প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

দক্ষিণ চীনের শেনঝেন শহর ইতোমধ্যেই রোবট শিল্পের বড় কেন্দ্র হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সেখানে রোবট দিয়ে ঘাস কাটা হচ্ছে, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং চালকবিহীন যানবাহন শহরের রাস্তায় চলছে।

মানুষের প্রতিক্রিয়াও লক্ষণীয়। কেউ ভয় পাচ্ছেন, কেউ আবার বাস্তবতাকে মেনে নিচ্ছেন। অনেক শ্রমিক মনে করছেন, প্রযুক্তির কারণে সবকিছু চিরকাল একই থাকবে—এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। তাই মানুষের জায়গায় যন্ত্রের আসা হয়তো ভবিষ্যতের স্বাভাবিক বাস্তবতা।

মানবাকৃতির রোবটের বড় পরীক্ষা

২০২৪ সালে চীন প্রায় ৩ লাখ শিল্প রোবট স্থাপন করেছিল, যা ওই বছর বিশ্বে স্থাপিত মোট শিল্প রোবটের অর্ধেকেরও বেশি। দেশটিতে শিল্প রোবটের মোট সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০ লাখে পৌঁছেছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।

তবে প্রচলিত রোবটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই ধরনের নির্দিষ্ট কাজ করতে তারা ভালো হলেও কাজের ধরন বা পরিবেশ বদলে গেলে সমস্যা হয়। মানবাকৃতির রোবটের ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা কমানোর চেষ্টা চলছে। এসব রোবট বিভিন্ন আকার, ওজন, স্পর্শ ও চাপ বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।

চীনের লক্ষ্য এখন এই মানবাকৃতির রোবটকে কারখানা ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১০ হাজার মানবাকৃতির রোবটকে বাস্তব কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে এই শিল্প আরও দ্রুত বড় হতে পারে।

রোবট নির্মাতাদের ধারণা, দাম কমে এলে প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত রোবট একসঙ্গে কিনতে আগ্রহী হবে। মানুষের তুলনায় রোবটকে আরও দক্ষ, নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে কম ব্যয়বহুল কর্মী হিসেবে দেখছেন অনেক ব্যবসায়ী।

রোবটকে শেখাতেও দরকার মানুষ

তবে প্রযুক্তির এই নতুন পৃথিবীতেও মানুষের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং রোবটকে শেখানোর জন্য নতুন ধরনের মানুষের কাজ তৈরি হচ্ছে।

চীনে রোবট প্রশিক্ষণের জন্য মানুষকে বিভিন্ন বাস্তব কাজ করতে হচ্ছে। গাড়ির কারখানা, হাসপাতাল ও বিপণিকেন্দ্রে মানুষের করা কাজের তথ্য সংগ্রহ করে রোবটকে শেখানো হচ্ছে। তিয়ানজিনের একটি কারখানায় শত শত মানুষ সেন্সরযুক্ত পোশাক পরে এমন কাজ করছেন, যা ভবিষ্যতের মানবাকৃতির রোবটের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হবে।

কিন্তু এই নতুন কাজগুলো সবসময় আকর্ষণীয় নয়।

শেনঝেনের ২৫ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক দাও সিনইউয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন। একসময় তিনি কফি তৈরির কাজে ছিলেন। পরে রোবট প্রশিক্ষণের একটি চাকরির সাক্ষাৎকারে গিয়ে তাকে ৩০ মিনিট ধরে কাপড় ভাঁজ করতে হয়। কাজটি এতটাই একঘেয়ে লেগেছিল যে প্রতিদিন এমন কাজ করার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।

এদিকে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে তিনি চালকবিহীন গাড়ির চলাচল দেখেন। মনে মনে চান, কোনো ভুল হোক—যাতে প্রমাণ হয়, অন্তত আরেকজন চালকের জায়গা এখনো পুরোপুরি রোবট নিতে পারেনি। কিন্তু গাড়িগুলো ভালোভাবেই চলছে।

তরুণদের জন্য সংকট আরও বড়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব তরুণ কর্মীদের ওপর বিশেষভাবে পড়তে পারে। চীনের অর্থনীতি ইতোমধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট, কম মজুরি বৃদ্ধি এবং উচ্চ যুব বেকারত্বের চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে প্রযুক্তির কারণে নতুন করে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

চীনের সরকারও এখন বিষয়টি নিয়ে সতর্ক। একদিকে তারা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামাতে চায় না, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান হারালে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ফলে সরকারকে এমন একটি ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশও চলবে এবং শ্রমিকদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।

কিছু ক্ষেত্রে চীনের আদালত ইতোমধ্যে কর্মীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হাংঝৌতে একটি মামলায় আদালত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওই কাজ করতে পারে—এই যুক্তিতে একজন প্রযুক্তিকর্মীকে বরখাস্ত করাকে বেআইনি বলে বিবেচনা করেছে। কর্মীকে আগে অন্য কাজে প্রশিক্ষণ বা পুনর্বিন্যাসের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। স্কুল পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিক্ষা যুক্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন নতুন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বুদ্ধিমান যন্ত্র, কৃষি রোবটসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা ক্ষেত্র।

অন্যদিকে পুরোনো ও কম চাহিদাসম্পন্ন কিছু বিষয়ে শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতার দিকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকার পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কারিগরি শিক্ষায়ও বিনিয়োগ করছে।

কিন্তু যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবেন না, তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে—সেটিও বড় প্রশ্ন।

রোবট বাড়লে সামাজিক নিরাপত্তার টাকাও কমবে?

চীনের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ কর্মী কমে গেলে মজুরি থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অর্থ দেওয়ার লোকও কমে যাবে। অথচ বেকার বা কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে রোবটনির্ভর উৎপাদন থেকে কর আদায়ের প্রস্তাবও উঠেছে। কেউ কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর বসানোর কথা বলেছেন। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কাজ হারানো মানুষের জন্য বেকারত্ব বিমা ও নগদ সহায়তার মতো নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবও রয়েছে।

চীনের বিপুল সংখ্যক অনানুষ্ঠানিক বা নমনীয় কর্মীও এই পরিবর্তনের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। খাবার সরবরাহকারী, যাত্রী পরিবহনকর্মী, সরাসরি পণ্য বিক্রির কর্মী ও দৈনিক মজুরির শ্রমিকসহ এই বিশাল কর্মশক্তির সংখ্যা চলতি বছর প্রায় ৩২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

শেষ পর্যন্ত মানুষ কোথায় দাঁড়াবে?

চীনের ঝেংঝৌ শহরের একটি স্টুডিওতে ভবিষ্যতের কর্মজগতের একটি ছবি যেন চোখের সামনে ফুটে উঠেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০টি মানবকর্মী দল শুটিং করত, এখন সেখানে মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নির্দেশনা দেওয়া কর্মীরা সারি সারি বসে আছেন।

তাদের কাজ হলো নির্দেশনা লেখা—কোনো চরিত্রের মুখ কেমন হবে, চোখে কী অভিব্যক্তি থাকবে, দৃশ্যটি কীভাবে তৈরি হবে। এরপর সফটওয়্যার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য তৈরি করে দেয়। সেখানে নেই ক্যামেরাম্যান, নেই আলোকসজ্জার দল, নেই অভিনেতাদের আগের সেই ব্যস্ততা। আছে মানুষ, কিন্তু মানুষের কাজের ধরন বদলে গেছে।

এটাই হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

প্রযুক্তি শুধু মানুষের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে—বিষয়টি এত সরল নয়। প্রযুক্তি নতুন কাজও তৈরি করছে। কিন্তু পুরোনো কাজ হারানোর গতি যদি নতুন কাজ তৈরির গতির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে মাঝখানের সময়টুকুতে মানুষের জীবন কীভাবে চলবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

চীন ভবিষ্যতের শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় রোবট চাইছে। শিল্পকে আরও উৎপাদনশীল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাইছে। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

রোবট হয়তো ভবিষ্যতের শ্রমিক সংকটের সমাধান হতে পারে। কিন্তু সেই ভবিষ্যতে মানুষ যেন নিজের কাজ, আয় ও মর্যাদা হারিয়ে কেবল রোবটের প্রশিক্ষক হয়ে না থাকে—সেটিই এখন চীনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

চীনের অভিজ্ঞতা তাই শুধু চীনের গল্প নয়। এটি এমন এক ভবিষ্যতের আভাস, যেখানে প্রযুক্তির প্রশ্ন আর শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন থাকবে না; তা হয়ে উঠবে মানুষের কাজ, আয়, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের সমাজে নিজের জায়গা ধরে রাখার প্রশ্ন।

চীন এখন রোবটের ভবিষ্যৎ তৈরি করছে। সেই ভবিষ্যতে মানুষের জায়গা কতটা থাকবে—তার উত্তরই হয়তো আগামী দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজকে সহজ করবে, নাকি মানুষের কাজই ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে নিয়ে নেবে—চীনের বর্তমান পরিবর্তন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সবচেয়ে বড় লড়াই হয়তো মানুষ বনাম যন্ত্রের নয়; বরং মানুষ কীভাবে যন্ত্রের সঙ্গে টিকে থাকার মতো নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে, সেই লড়াই।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের দ্রুত বিস্তারে চীনের কর্মসংস্থান বড় পরিবর্তনের মুখে। প্রযুক্তি নতুন কাজ তৈরি করলেও পুরোনো চাকরি হারানোর গতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে?

০৮:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার বদলে দিচ্ছে চীনের কর্মজগতের চেহারা। একদিকে প্রযুক্তি, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দেশটির শিল্প ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তি একের পর এক মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কর্মশক্তির দেশগুলোর একটি চীন এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একই সঙ্গে আশীর্বাদ ও বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

চীনের অর্থনীতিতে নতুন আশার জায়গা হিসেবে যে ক্ষুদ্র নাটকের ব্যবসা দ্রুত বড় হয়েছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগমনে সেই শিল্পেই প্রথম ধাক্কাটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির ঝেংঝৌ শহর ক্ষুদ্র নাটকের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। মাত্র এক মিনিটের মতো দৈর্ঘ্যের ধারাবাহিক এসব নাটক চীনের মানুষের মোবাইল পর্দায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০২৫ সালে এই শিল্পের ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ইউয়ানে। তৈরি হয়েছিল প্রায় ৭ লাখ সরাসরি কর্মসংস্থান এবং আরও প্রায় ১৩ লাখ পরোক্ষ কাজ।

কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসে সেই হিসাব দ্রুত পাল্টে দিয়েছে।

৩২ বছর বয়সী সাবেক ট্রাফিক পুলিশ লি দাঝি অভিনয়ের জগতে নতুন করে সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রতি মাসে তিনি আট থেকে ১৫টি কল্পনাধর্মী চিত্রনাট্য পড়তেন। কিন্তু নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তার কাজের পরিমাণ কমে যায়। যে ধারাবাহিক তৈরি করতে আগে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, এখন তা কয়েক দিনের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়ও কমে গেছে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে অভিনেতা ও অন্যান্য কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত কমছে। লির দৈনিক পারিশ্রমিক অর্ধেকে নেমে এসেছে, অনেকের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।

কাজ হারানো অনেকেই এখন বাধ্য হয়ে বীমা বিক্রি করছেন, দোকানের ছোট ব্যবসা করছেন, খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন কিংবা যাত্রী পরিবহনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করতে পারে—এমন বিশ্বাস থাকলেও লির অভিজ্ঞতা বলছে, তার নিজের শিল্পে এই প্রযুক্তি আপাতত সুবিধার চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে।

চীনের নেতৃত্ব অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল কর্মসংস্থানের হুমকি হিসেবে দেখছে না। বরং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই প্রযুক্তি। দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়া জনসংখ্যার কারণে ভবিষ্যতে শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সেই ঘাটতি সামাল দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে চীন। বিশেষ করে মানুষের তৈরি পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানো—অর্থাৎ রোবট, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন ও অন্যান্য যন্ত্রে বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ব্যবহার—নিয়ে দেশটির ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এখানেই তৈরি হচ্ছে বড় দ্বন্দ্ব। ভবিষ্যতের শ্রমিক সংকট মোকাবিলার জন্য যে প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে, সেই প্রযুক্তিই আবার বর্তমানের শ্রমিকদের কাজ কেড়ে নিতে পারে।

ট্রাক চালকের জীবনেও ঢুকে পড়েছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি

চীনের পরিবহন খাতেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। ৪৪ বছর বয়সী জিয়া চুনছি বহু বছর ধরে কয়লা ও ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চালিয়েছেন। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে তার পিঠে ব্যথা ও চোখে ক্লান্তি জমেছে। কিন্তু এখন তার ট্রাকের অত্যাধুনিক সহায়ক প্রযুক্তি অনেক কাজ নিজেই করতে পারে। মহাসড়কে ওঠা বা শহরের কিছু নির্দিষ্ট অংশে চলার সময় ছাড়া তাকে খুব বেশি কিছু করতে হয় না।

আগে আরেকজন চালকের সঙ্গে পালা করে গাড়ি চালাতে হতো। এখন তিনি যাত্রাপথে মার্শাল আর্টের গল্প শোনেন এবং নিজের নয় বছরের সন্তানের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। কাজ কিছুটা আরামদায়ক হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে আরও নিঃসঙ্গ।

চীনে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ট্রাকচালক দেশের মোট পণ্য পরিবহনের ৭০ শতাংশের বেশি সামলান। কিন্তু এই চালকদের বয়স বাড়ছে এবং নতুন প্রজন্মের খুব কম মানুষ এই পেশায় আসতে আগ্রহী। ফলে শ্রমিক সংকট মোকাবিলা, দুর্ঘটনা কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তিতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

একটি বড় পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ট্রাকের মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ট্রাকে এমন প্রযুক্তি বসানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে কেনা সব ট্রাকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে চালকের প্রয়োজন প্রায় ৩০ শতাংশ কমতে পারে এবং পরিবহন ব্যয়ও ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমে আসতে পারে।

চালক ছাড়াই ট্রাক চলার পরীক্ষা

চীনের বড় অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান জেডি ডটকম জুলাইয়ে বেইজিংয়ের উপকণ্ঠে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ট্রাক চলাচলের পথ চালু করেছে। সেখানে ট্রাক নিজে চলতে পারে, তবে নিরাপত্তার জন্য একজন চালককে গাড়ির ভেতরে থাকতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লিউ ছিয়াংতুং আগামী পাঁচ বছরে ৩০ লাখ রোবট, ১০ লাখ চালকবিহীন যান এবং ১ লাখ উড়ন্ত যন্ত্র কেনার পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

তার বক্তব্যে ভবিষ্যতের একটি কঠিন বাস্তবতা স্পষ্ট। একসময় হয়তো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য মানুষের প্রয়োজনই থাকবে না। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি কর্মীদের বেকার করে দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন। বরং কর্মীদের রোবট রক্ষণাবেক্ষণের মতো নতুন কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

সমস্যা হলো, সব কর্মীকে নতুন প্রযুক্তির কাজে প্রশিক্ষণ দিলেই কি তাদের সবার জন্য কাজ তৈরি হবে?

নতুন কাজ তৈরি হবে, কিন্তু কতটা?

প্রযুক্তির সমর্থকদের যুক্তি হলো, ইতিহাসে নতুন প্রযুক্তি পুরোনো কাজ ধ্বংস করার পাশাপাশি নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। জেডি ডটকমের অর্থনীতিবিদ শেন জিয়াংগুয়াং চীনের অনলাইন বাণিজ্য খাতকে এর উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, আট বছর আগে জেডি ডটকমে কর্মীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজারে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার গুদাম আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও বেড়েছে। এমনকি মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পণ্য বিক্রির প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র দিয়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন প্রযুক্তি নতুন কাজ তৈরি করবে—এই আশাবাদ সবার কাছে সমান বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ একটি পুরোনো কাজ হারানোর পর নতুন কাজ তৈরি হতে সময় লাগে। আর যে মানুষটি কাজ হারিয়েছেন, তিনি সবসময় নতুন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ দ্রুত অর্জন করতে পারেন না।

এই ব্যবধানটিই চীনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

রোবটের দেশ হওয়ার পথে চীন

চীনের কর্মক্ষম জনসংখ্যা দ্রুত কমছে এবং বয়স বাড়ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা চীনের জন্য প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

দক্ষিণ চীনের শেনঝেন শহর ইতোমধ্যেই রোবট শিল্পের বড় কেন্দ্র হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সেখানে রোবট দিয়ে ঘাস কাটা হচ্ছে, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং চালকবিহীন যানবাহন শহরের রাস্তায় চলছে।

মানুষের প্রতিক্রিয়াও লক্ষণীয়। কেউ ভয় পাচ্ছেন, কেউ আবার বাস্তবতাকে মেনে নিচ্ছেন। অনেক শ্রমিক মনে করছেন, প্রযুক্তির কারণে সবকিছু চিরকাল একই থাকবে—এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। তাই মানুষের জায়গায় যন্ত্রের আসা হয়তো ভবিষ্যতের স্বাভাবিক বাস্তবতা।

মানবাকৃতির রোবটের বড় পরীক্ষা

২০২৪ সালে চীন প্রায় ৩ লাখ শিল্প রোবট স্থাপন করেছিল, যা ওই বছর বিশ্বে স্থাপিত মোট শিল্প রোবটের অর্ধেকেরও বেশি। দেশটিতে শিল্প রোবটের মোট সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০ লাখে পৌঁছেছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় দ্বিগুণ।

তবে প্রচলিত রোবটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই ধরনের নির্দিষ্ট কাজ করতে তারা ভালো হলেও কাজের ধরন বা পরিবেশ বদলে গেলে সমস্যা হয়। মানবাকৃতির রোবটের ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা কমানোর চেষ্টা চলছে। এসব রোবট বিভিন্ন আকার, ওজন, স্পর্শ ও চাপ বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।

চীনের লক্ষ্য এখন এই মানবাকৃতির রোবটকে কারখানা ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১০ হাজার মানবাকৃতির রোবটকে বাস্তব কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে এই শিল্প আরও দ্রুত বড় হতে পারে।

রোবট নির্মাতাদের ধারণা, দাম কমে এলে প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত রোবট একসঙ্গে কিনতে আগ্রহী হবে। মানুষের তুলনায় রোবটকে আরও দক্ষ, নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে কম ব্যয়বহুল কর্মী হিসেবে দেখছেন অনেক ব্যবসায়ী।

রোবটকে শেখাতেও দরকার মানুষ

তবে প্রযুক্তির এই নতুন পৃথিবীতেও মানুষের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং রোবটকে শেখানোর জন্য নতুন ধরনের মানুষের কাজ তৈরি হচ্ছে।

চীনে রোবট প্রশিক্ষণের জন্য মানুষকে বিভিন্ন বাস্তব কাজ করতে হচ্ছে। গাড়ির কারখানা, হাসপাতাল ও বিপণিকেন্দ্রে মানুষের করা কাজের তথ্য সংগ্রহ করে রোবটকে শেখানো হচ্ছে। তিয়ানজিনের একটি কারখানায় শত শত মানুষ সেন্সরযুক্ত পোশাক পরে এমন কাজ করছেন, যা ভবিষ্যতের মানবাকৃতির রোবটের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হবে।

কিন্তু এই নতুন কাজগুলো সবসময় আকর্ষণীয় নয়।

শেনঝেনের ২৫ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক দাও সিনইউয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন। একসময় তিনি কফি তৈরির কাজে ছিলেন। পরে রোবট প্রশিক্ষণের একটি চাকরির সাক্ষাৎকারে গিয়ে তাকে ৩০ মিনিট ধরে কাপড় ভাঁজ করতে হয়। কাজটি এতটাই একঘেয়ে লেগেছিল যে প্রতিদিন এমন কাজ করার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।

এদিকে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে তিনি চালকবিহীন গাড়ির চলাচল দেখেন। মনে মনে চান, কোনো ভুল হোক—যাতে প্রমাণ হয়, অন্তত আরেকজন চালকের জায়গা এখনো পুরোপুরি রোবট নিতে পারেনি। কিন্তু গাড়িগুলো ভালোভাবেই চলছে।

তরুণদের জন্য সংকট আরও বড়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব তরুণ কর্মীদের ওপর বিশেষভাবে পড়তে পারে। চীনের অর্থনীতি ইতোমধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট, কম মজুরি বৃদ্ধি এবং উচ্চ যুব বেকারত্বের চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে প্রযুক্তির কারণে নতুন করে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

চীনের সরকারও এখন বিষয়টি নিয়ে সতর্ক। একদিকে তারা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামাতে চায় না, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান হারালে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ফলে সরকারকে এমন একটি ভারসাম্য খুঁজতে হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশও চলবে এবং শ্রমিকদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।

কিছু ক্ষেত্রে চীনের আদালত ইতোমধ্যে কর্মীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হাংঝৌতে একটি মামলায় আদালত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওই কাজ করতে পারে—এই যুক্তিতে একজন প্রযুক্তিকর্মীকে বরখাস্ত করাকে বেআইনি বলে বিবেচনা করেছে। কর্মীকে আগে অন্য কাজে প্রশিক্ষণ বা পুনর্বিন্যাসের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

শিক্ষা ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। স্কুল পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শিক্ষা যুক্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন নতুন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বুদ্ধিমান যন্ত্র, কৃষি রোবটসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা ক্ষেত্র।

অন্যদিকে পুরোনো ও কম চাহিদাসম্পন্ন কিছু বিষয়ে শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতার দিকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকার পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কারিগরি শিক্ষায়ও বিনিয়োগ করছে।

কিন্তু যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবেন না, তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে—সেটিও বড় প্রশ্ন।

রোবট বাড়লে সামাজিক নিরাপত্তার টাকাও কমবে?

চীনের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ কর্মী কমে গেলে মজুরি থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অর্থ দেওয়ার লোকও কমে যাবে। অথচ বেকার বা কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে রোবটনির্ভর উৎপাদন থেকে কর আদায়ের প্রস্তাবও উঠেছে। কেউ কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর বসানোর কথা বলেছেন। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কাজ হারানো মানুষের জন্য বেকারত্ব বিমা ও নগদ সহায়তার মতো নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবও রয়েছে।

চীনের বিপুল সংখ্যক অনানুষ্ঠানিক বা নমনীয় কর্মীও এই পরিবর্তনের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। খাবার সরবরাহকারী, যাত্রী পরিবহনকর্মী, সরাসরি পণ্য বিক্রির কর্মী ও দৈনিক মজুরির শ্রমিকসহ এই বিশাল কর্মশক্তির সংখ্যা চলতি বছর প্রায় ৩২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

শেষ পর্যন্ত মানুষ কোথায় দাঁড়াবে?

চীনের ঝেংঝৌ শহরের একটি স্টুডিওতে ভবিষ্যতের কর্মজগতের একটি ছবি যেন চোখের সামনে ফুটে উঠেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০টি মানবকর্মী দল শুটিং করত, এখন সেখানে মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নির্দেশনা দেওয়া কর্মীরা সারি সারি বসে আছেন।

তাদের কাজ হলো নির্দেশনা লেখা—কোনো চরিত্রের মুখ কেমন হবে, চোখে কী অভিব্যক্তি থাকবে, দৃশ্যটি কীভাবে তৈরি হবে। এরপর সফটওয়্যার কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য তৈরি করে দেয়। সেখানে নেই ক্যামেরাম্যান, নেই আলোকসজ্জার দল, নেই অভিনেতাদের আগের সেই ব্যস্ততা। আছে মানুষ, কিন্তু মানুষের কাজের ধরন বদলে গেছে।

এটাই হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

প্রযুক্তি শুধু মানুষের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে—বিষয়টি এত সরল নয়। প্রযুক্তি নতুন কাজও তৈরি করছে। কিন্তু পুরোনো কাজ হারানোর গতি যদি নতুন কাজ তৈরির গতির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে মাঝখানের সময়টুকুতে মানুষের জীবন কীভাবে চলবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

চীন ভবিষ্যতের শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় রোবট চাইছে। শিল্পকে আরও উৎপাদনশীল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাইছে। কিন্তু একই সঙ্গে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

রোবট হয়তো ভবিষ্যতের শ্রমিক সংকটের সমাধান হতে পারে। কিন্তু সেই ভবিষ্যতে মানুষ যেন নিজের কাজ, আয় ও মর্যাদা হারিয়ে কেবল রোবটের প্রশিক্ষক হয়ে না থাকে—সেটিই এখন চীনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

চীনের অভিজ্ঞতা তাই শুধু চীনের গল্প নয়। এটি এমন এক ভবিষ্যতের আভাস, যেখানে প্রযুক্তির প্রশ্ন আর শুধু প্রযুক্তির প্রশ্ন থাকবে না; তা হয়ে উঠবে মানুষের কাজ, আয়, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের সমাজে নিজের জায়গা ধরে রাখার প্রশ্ন।

চীন এখন রোবটের ভবিষ্যৎ তৈরি করছে। সেই ভবিষ্যতে মানুষের জায়গা কতটা থাকবে—তার উত্তরই হয়তো আগামী দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজকে সহজ করবে, নাকি মানুষের কাজই ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে নিয়ে নেবে—চীনের বর্তমান পরিবর্তন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সবচেয়ে বড় লড়াই হয়তো মানুষ বনাম যন্ত্রের নয়; বরং মানুষ কীভাবে যন্ত্রের সঙ্গে টিকে থাকার মতো নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে, সেই লড়াই।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের দ্রুত বিস্তারে চীনের কর্মসংস্থান বড় পরিবর্তনের মুখে। প্রযুক্তি নতুন কাজ তৈরি করলেও পুরোনো চাকরি হারানোর গতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।