একসময় সমুদ্রের ওপর আধিপত্য মানেই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নাম। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী, অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরি, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং বিস্তৃত সামরিক ঘাঁটির কারণে বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছে। কিন্তু এখন সেই আধিপত্যের সামনে ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে চীন।
চ্যালেঞ্জটি শুধু চীনের নতুন নতুন যুদ্ধজাহাজ তৈরির কারণে নয়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চীন এমন একটি বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ শিল্প গড়ে তুলেছে, যা প্রয়োজন হলে সামরিক সক্ষমতার জন্যও কাজে লাগানো যায়। অর্থাৎ চীনের নৌ শক্তির পেছনে রয়েছে একটি বিশাল শিল্পভিত্তি।
এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা সবচেয়ে স্পষ্ট।
সমুদ্রের শক্তির হিসাব বদলে দিচ্ছে চীন
চীন গত কয়েক দশকে একটি অপেক্ষাকৃত সীমিত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবহরের অধিকারী দেশে পরিণত হয়েছে।
২০২০ সালের মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চীনের যুদ্ধ সক্ষমতাসম্পন্ন নৌযানের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫০টি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ছিল প্রায় ২৯৩টি।
চীনের নৌবহরে শুধু যুদ্ধজাহাজ নয়, বিমানবাহী রণতরি, মাইন অপসারণকারী জাহাজ, সহায়ক জাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান রয়েছে। চীনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে নৌবহরের আকার প্রায় ৪৩৫টি জাহাজে নিয়ে যাওয়া।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও নৌবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু নতুন জাহাজ নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি সেই পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলছে।
ফলে দুই দেশের নৌ প্রতিযোগিতায় প্রশ্নটি এখন আর শুধু ‘কার কাছে বেশি যুদ্ধজাহাজ’—এমন নয়। প্রশ্ন হলো, কে দ্রুত এবং ধারাবাহিকভাবে নতুন জাহাজ তৈরি করতে পারে?
চীনের আসল সুবিধা যুদ্ধজাহাজ নয়, কারখানা
চীনের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা তার বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ শিল্প।
গত ২৫ বছরে বিশ্ব জাহাজ নির্মাণে চীনের অংশ প্রায় ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবীতে যত বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি হয়, তার অর্ধেকের বেশি এখন চীনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
এই শিল্পে রয়েছে বিশাল জাহাজ নির্মাণ কারখানা, শুকনো ডক, ইস্পাত ও যন্ত্রাংশের সরবরাহব্যবস্থা, প্রকৌশলী এবং বিপুলসংখ্যক দক্ষ শ্রমিক।
একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আর একটি যুদ্ধজাহাজ এক নয়। যুদ্ধজাহাজে রাডার, অস্ত্রব্যবস্থা, সেন্সর, যোগাযোগ প্রযুক্তি ও বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু উভয়ের নির্মাণে অনেক মৌলিক দক্ষতা ও অবকাঠামো একই।
ইস্পাতের কাঠামো তৈরি, পাইপ বসানো, ইঞ্জিন স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রপেলার তৈরি, তারের জটিল সংযোগ এবং বিশাল কাঠামো একত্র করার দক্ষতা—এসবই দুই ধরনের জাহাজ নির্মাণে প্রয়োজন।
ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ শিল্প যত বড় হয়, সামরিক জাহাজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় শিল্পভিত্তিও তত শক্তিশালী হয়।
যুদ্ধ শুরু হলে কারখানাই হয়ে উঠতে পারে কৌশলগত সম্পদ
চীনের বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ নির্মাণ ব্যবস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করে।
বাণিজ্যিক জাহাজের অর্ডার কমে গেলে একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পরিবর্তে সামরিক কাজের দিকে যেতে পারে। এতে কারখানা, যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের ব্যবহার অব্যাহত থাকে।
অন্যদিকে যেসব দেশে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ প্রায় নেই, সেখানে সামরিক জাহাজ নির্মাণের জন্য আলাদা অবকাঠামো, দক্ষ শ্রমিক ও সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করতে হয়।
এ কারণে চীনের বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের ব্যাপকতা শুধু অর্থনৈতিক শক্তির পরিচয় নয়; এটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতারও ভিত্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীত চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও দেশটির বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ শিল্প বহু বছর ধরে সংকুচিত হয়েছে।
২০২৫ সালে বিশ্ব জাহাজ নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল মাত্র ০ দশমিক ০৩ শতাংশ। চীনের ৫০ শতাংশের বেশি অংশের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধানটি কতটা বিশাল, তা সহজেই বোঝা যায়।
একসময় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ শিল্প ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এশিয়ার দেশগুলো কম খরচে ও বৃহৎ পরিসরে জাহাজ নির্মাণে এগিয়ে যায়।
জাপান প্রথমে ইউরোপকে ছাড়িয়ে যায়। পরে দক্ষিণ কোরিয়া বড় শক্তি হয়ে ওঠে। এখন চীন সেই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে এগিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্র meanwhile সামরিক জাহাজ নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও বেসামরিক জাহাজ নির্মাণের শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
জোন্স আইন: সুরক্ষা নাকি উল্টো বোঝা?
যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ সংকটের আলোচনায় বহুবার উঠে আসে ১৯২০ সালের জোন্স আইন।
দেশটির অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য আমেরিকায় নির্মিত জাহাজ এবং আমেরিকান কর্মী ব্যবহারের নিয়ম এই আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং জাহাজ নির্মাণের খরচ বেড়েছে—এমন সমালোচনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি জাহাজ বিদেশে তৈরি একই ধরনের জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে। ফলে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে রক্ষা করার নীতি শেষ পর্যন্ত সেই শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকেই দুর্বল করেছে বলে অনেকে মনে করেন।
এর প্রভাব পড়ছে মার্কিন নৌবাহিনীতেও
বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণে দুর্বলতার প্রভাব এখন সামরিক জাহাজ নির্মাণে স্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য নির্মাণাধীন বেশ কিছু জাহাজ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। বিমানবাহী রণতরি নির্মাণেও সময়সূচি ভেঙে পড়েছে।
ফ্রিগেট, সাবমেরিন এবং অন্যান্য নৌযান নির্মাণ কর্মসূচির বড় অংশ নির্ধারিত সময়ের পেছনে রয়েছে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি জটিল সমস্যা তৈরি হয়েছে। একদিকে চীন দ্রুত নতুন জাহাজ তৈরি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোনো বহর আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি নতুন জাহাজ নির্মাণের দীর্ঘ সময়ের সমস্যার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।
চীনের নৌবহর শুধু সংখ্যায় বড় হচ্ছে না
চীনের নৌ শক্তির গুরুত্ব শুধু জাহাজের সংখ্যায় মাপলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না।
চীন একই সঙ্গে বিমানবাহী রণতরি, আধুনিক ধ্বংসকারী জাহাজ, সাবমেরিন, উভচর হামলাজাহাজ এবং সহায়ক নৌযান তৈরি করছে।
এর ফলে চীনের নৌবাহিনী উপকূলীয় প্রতিরক্ষা থেকে ধীরে ধীরে দূর সমুদ্রে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে।
দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান প্রণালি এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে চীনের সামরিক পরিকল্পনায় এই নৌ সক্ষমতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
তাইওয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ প্রতিযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর।
তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধজাহাজের মান নয়, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের জায়গায় নতুন জাহাজ আনার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন নৌযানের প্রয়োজন বাড়বে।
এখানে বড় শিল্পভিত্তি থাকা একটি দেশের সুবিধা তৈরি হতে পারে।
চীনের বিশাল জাহাজ নির্মাণ শিল্প তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেবল অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উদ্বেগেরও কারণ।
ইউরোপ দেখিয়েছে কীভাবে বেসামরিক শিল্প সামরিক শক্তি বাড়ায়
ইউরোপের উদাহরণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপের অনেক দেশ বিশেষায়িত বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। ক্রুজ জাহাজ, বরফভাঙা জাহাজ এবং সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি শিল্পের সহায়ক জাহাজ নির্মাণে তাদের দক্ষতা রয়েছে।
বিশাল ক্রুজ জাহাজ তৈরি করতে যে প্রকৌশল দক্ষতা প্রয়োজন, তার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ, জটিল পাইপলাইন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হাজার হাজার মানুষের জন্য সমন্বিত অবকাঠামো।
এই দক্ষতাগুলো সামরিক জাহাজ নির্মাণেও কাজে লাগে।
অর্থাৎ একটি শক্তিশালী বেসামরিক জাহাজ নির্মাণ শিল্প সামরিক শিল্পের জন্য এক ধরনের প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সহযোগিতা
নিজের দুর্বলতা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন মিত্র দেশগুলোর সহায়তা নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী। দেশটির বড় জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজ নির্মাণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন কারখানা তৈরিতে সহযোগিতা করছে।
এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে দক্ষ শ্রমিক, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে।
কিন্তু সমস্যা হলো—একটি জাহাজ নির্মাণ শিল্প রাতারাতি পুনর্গঠন করা যায় না।
কারখানা বানানো সম্ভব, কিন্তু দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে সময় লাগে। সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করতে সময় লাগে। নতুন প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতেও সময় লাগে।
দ্রুত সমাধান নেই
এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময়।
চীন ইতোমধ্যে বিশাল শিল্পভিত্তি তৈরি করে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে।
কিন্তু একটি দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে কয়েক দশক ধরে সংকুচিত হওয়ার পর আবার বিশ্বমানের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রয়োজন।
শুধু প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না।
প্রয়োজন হবে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণকে লাভজনক করা, দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা, সরবরাহব্যবস্থা পুনর্গঠন করা, নতুন কারখানা স্থাপন করা এবং বেসামরিক ও সামরিক জাহাজ নির্মাণের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
আগামী দিনের নৌ প্রতিযোগিতা হবে শিল্পের প্রতিযোগিতা
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ প্রতিযোগিতা আগামী দশকে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তির লড়াই হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু এই লড়াইয়ের ফল নির্ধারণ করবে শুধু কে বেশি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে বা কার বিমানবাহী রণতরি বেশি শক্তিশালী—তা নয়।
প্রশ্ন হবে, কে দ্রুত নতুন জাহাজ বানাতে পারে?
কে যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ মেরামত করতে পারে?
কে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে পারে?
কে পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিক ধরে রাখতে পারে?
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কে প্রয়োজনে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের বিশাল শিল্পকে সামরিক প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ধারিত হতে পারে।
আজকের বাস্তবতায় চীন শুধু একটি বড় নৌবহর তৈরি করছে না। তারা এমন একটি শিল্পব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা সেই নৌবহরকে দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনীকে আধুনিক রাখা এবং একই সঙ্গে প্রায় হারিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতাকে পুনরুজ্জীবিত করা।
এই কারণে চীন-আমেরিকার নৌ প্রতিযোগিতার আসল লড়াই হয়তো সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর যতটা দেখা যাচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি চলছে জাহাজ নির্মাণ কারখানার ভেতরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















