ভারতের আসাম রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যায় নতুন করে দুইজনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি মৌসুমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের সাত জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এএসডিএমএ) দৈনিক বন্যা পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুই জেলায় নতুন মৃত্যু
এএসডিএমএর রোববার রাতের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গোলাঘাট ও কার্বি আংলং জেলায় বন্যার পানিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুই মৃত্যুর পর চলতি বছরের বন্যায় আসামে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছেছে।

বন্যায় এখন পর্যন্ত ৪৫৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে ১১ হাজার ৯৩৩ দশমিক ৪৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাত জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
এএসডিএমএর হিসাবে, ছারাইদেও, দরং, গোলাঘাট, যোরহাট, কার্বি আংলং, নগাঁও ও শিবসাগর—এই সাত জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন।
এর মধ্যে গোলাঘাট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। জেলাটিতে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। শিবসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার এবং যোরহাটে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার পানিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
বিপৎসীমার ওপরে একাধিক নদীর পানি
এএসডিএমএর এক কর্মকর্তা জানান, গোলাঘাট ও নুমালিগড়ে ধনসিঁড়ি নদী এবং শ্রীভূমিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিশেষ করে গোলাঘাট জেলায় ধনসিঁড়ি নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পানি আরও বাড়লে বন্যার প্রভাব নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চলছে ত্রাণ কার্যক্রম
বন্যাকবলিত মানুষের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এএসডিএমএ জানিয়েছে, ছয়টি জেলায় বর্তমানে ১২৫টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
এসব ত্রাণশিবির ও বিতরণকেন্দ্রে বর্তমানে ৪৯ হাজার ৬১ জন মানুষকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি সংকটজনক থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
আসামে চলতি বন্যায় একদিকে যেমন প্রাণহানি ১০০ জনে পৌঁছেছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















