০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
ইপস্টেইন নথি ঘেঁটে কিশোর সাংবাদিকের প্রতিবেদন, এরপরই শুরু বড়দের তোলপাড় খেলার মাঠের সীমানা পেরিয়ে তারকার মুকুটে: প্রথমবারের মতো ‘টাইম১০০ স্পোর্টস’-এ ক্রীড়াজগতের মহাতারকারা মহাকাশের স্বপ্নে ছুটছেন আইশোস্পিড, এবার লক্ষ্য মহাশূন্য নারী ফুটবল দলের কোচ হয়ে ফিরেও কেন ব্যর্থ টেড ল্যাসো? দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধই কি নতুন স্বাভাবিকতা? কেন আধুনিক সংঘাতের শেষ হচ্ছে না ‘দ্য ওডিসি’ পেরিয়ে গেল ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’, নোলানের ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ আয় শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া: ‘রুটস’-এর ৫০ বছর এবং অ্যালেক্স হেলির অমর উত্তরাধিকার সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি, মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা মানুষের মতো রোবটের যুগ কি দরজায়? চীনের ইউনিট্রির হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ ইমরান খানের বন্দিত্ব ও ওয়াশিংটনের গণতন্ত্র-ভুলে যাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের রেকর্ড গড়ল হাম, টিকাদান কমায় বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে হাম আবারও বড় জনস্বাস্থ্য সংকেত হয়ে উঠেছে। চলতি বছর দেশটিতে হামের সংক্রমণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২৪ জুলাই প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ২ হাজার ৩১৮ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা এরই মধ্যে পুরো ২০২৫ সালে শনাক্ত হওয়া ২ হাজার ২৮৯টি সংক্রমণের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

হাম একসময় নিয়ন্ত্রণে চলে আসা রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে এর পুনরুত্থান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু একটি রোগের বিস্তার নয়; এর সঙ্গে শিশুদের টিকাদানের হার কমে যাওয়া, টিকা নিয়ে মানুষের আস্থার সংকট এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সামাজিক সুরক্ষার দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়ও জড়িয়ে আছে।

৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

চলতি বছরের ২ হাজার ৩১৮টি হামের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। কারণ, এর আগে এক বছরে এত বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে বহু বছর আগে। ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণকেও যখন বছরের মাঝামাঝিতেই ছাড়িয়ে যায়, তখন বোঝা যায় রোগটির বিস্তার কত দ্রুত ঘটছে।

হামের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একটি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ টিকাপ্রাপ্ত থাকলে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু টিকাদানের হার কমে গেলে এমন কিছু এলাকা তৈরি হয়, যেখানে ভাইরাস সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে তাই শুধু আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নয়, টিকাদানের সামগ্রিক হারও গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

টিকাদানের হার কমার প্রভাব

হাম থেকে একটি জনগোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখতে সাধারণভাবে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাপ্রাপ্ত থাকা প্রয়োজন। এই মাত্রাকে বলা হয় সামষ্টিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সীমা। অর্থাৎ সমাজের এত বড় অংশ যদি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে ভাইরাসের ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ অনেক কমে যায়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদানের হার সেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে নেমে গেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণাঙ্গ হার এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়ার হার ছিল ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ।

সংখ্যার ব্যবধানটি আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি মনে না হলেও সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে কয়েক শতাংশের এই পতনও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পুরো দেশের গড় হার একটি বিষয়; আর স্থানীয়ভাবে টিকাদানের হার আরও কমে যাওয়া এলাকাগুলো আরেকটি বিষয়। এমন এলাকাগুলোতেই সংক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।

আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবিহীন

চলতি বছর এবং ২০২৫ সালের পুরো সময়ের হামের আক্রান্তদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই টিকা না নেওয়া শিশু। এই তথ্য সংক্রমণের সঙ্গে টিকাদানের সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

২০২৬ সালে আক্রান্তদের প্রায় ৭ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত চলতি বছরে হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৫ সালে হাম আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুজন ছিলেন টিকা না নেওয়া শিশু।

অর্থাৎ হামকে শুধু শিশুদের একটি সাধারণ সংক্রমণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রোগটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

US Measles Infections Surpass 2025 Total to Hit 35-Year High - Bloomberg

টিকার নীতিতে পরিবর্তন ও আস্থার প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে হামের বর্তমান বিস্তারের পেছনে টিকাদানের হার কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। একই সময়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার নীতিতেও পরিবর্তন ঘটেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র শিশুদের টিকা দেওয়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে অন্যান্য উন্নত দেশের টিকা দেওয়ার সুপারিশ পর্যালোচনার পর এই পরিবর্তন করা হয়। নতুন নির্দেশনায় শিশুদের জন্য সুপারিশকৃত টিকার সংখ্যা ১৭টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে আনা হয়।

হামের টিকা অবশ্য নতুন সুপারিশের তালিকায় রয়েছে। কিন্তু নীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে টিকা সম্পর্কে জনসাধারণের আস্থার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের টিকা-সংক্রান্ত বার্তায় পরিবর্তনের ফলে মানুষের টিকার ওপর আস্থা কমেছে এবং টিকাকে অনিরাপদ মনে করার প্রবণতা বেড়েছে।

জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টিকা কার্যকর হলেও মানুষ যদি তা গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সক্ষমতা দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পুরোনো রোগের নতুন প্রত্যাবর্তন

হামের পুনরুত্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। একটি রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে মানেই সেটি চিরতরে বিলীন হয়ে গেছে—এমন ধারণা বিপজ্জনক। টিকাদানের হার কমতে শুরু করলে বহু বছর ধরে নিয়ন্ত্রণে থাকা সংক্রামক রোগও আবার ফিরে আসতে পারে।

হামের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি আরও বেশি, কারণ রোগটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে। একটি এলাকায় টিকাবিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলে সেখানে সংক্রমণের একটি ছোট ঘটনাও বড় প্রাদুর্ভাবের সূচনা করতে পারে।

এ কারণে ৩৫ বছরের সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ডকে কেবল একটি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্ব কমে যাবে। এটি আসলে টিকাদান কর্মসূচি, জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের হামের সংক্রমণ এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আক্রান্তদের বড় অংশ টিকাবিহীন শিশু হওয়া এবং সামগ্রিক টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের কাঙ্ক্ষিত সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় সংক্রমণ আরও বিস্তারের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের কাছে তাই প্রশ্নটি শুধু কতজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তা নয়। বরং কীভাবে টিকাদানের হার আবার নিরাপদ পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, কীভাবে টিকা নিয়ে মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা যায় এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া টিকাবিহীন জনগোষ্ঠীগুলোকে কীভাবে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়—এসব প্রশ্নই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ফিলাডেলফিয়ার শিশু হাসপাতালের টিকা শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক চিকিৎসক পল অফিটের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হাম এখন মহামারি পর্যায়ের পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে বলা যথার্থ। তাঁর মন্তব্যটি বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরে।

৩৫ বছর পর হামের এমন প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি রোগের পরিসংখ্যান নয়; এটি জনস্বাস্থ্যে অর্জিত অগ্রগতি কতটা ভঙ্গুর হতে পারে, তারও একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইপস্টেইন নথি ঘেঁটে কিশোর সাংবাদিকের প্রতিবেদন, এরপরই শুরু বড়দের তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের রেকর্ড গড়ল হাম, টিকাদান কমায় বাড়ছে উদ্বেগ

০৫:১৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে হাম আবারও বড় জনস্বাস্থ্য সংকেত হয়ে উঠেছে। চলতি বছর দেশটিতে হামের সংক্রমণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২৪ জুলাই প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ২ হাজার ৩১৮ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা এরই মধ্যে পুরো ২০২৫ সালে শনাক্ত হওয়া ২ হাজার ২৮৯টি সংক্রমণের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

হাম একসময় নিয়ন্ত্রণে চলে আসা রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে এর পুনরুত্থান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু একটি রোগের বিস্তার নয়; এর সঙ্গে শিশুদের টিকাদানের হার কমে যাওয়া, টিকা নিয়ে মানুষের আস্থার সংকট এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সামাজিক সুরক্ষার দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়ও জড়িয়ে আছে।

৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

চলতি বছরের ২ হাজার ৩১৮টি হামের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। কারণ, এর আগে এক বছরে এত বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে বহু বছর আগে। ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণকেও যখন বছরের মাঝামাঝিতেই ছাড়িয়ে যায়, তখন বোঝা যায় রোগটির বিস্তার কত দ্রুত ঘটছে।

হামের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একটি জনগোষ্ঠীর বড় অংশ টিকাপ্রাপ্ত থাকলে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু টিকাদানের হার কমে গেলে এমন কিছু এলাকা তৈরি হয়, যেখানে ভাইরাস সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে তাই শুধু আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নয়, টিকাদানের সামগ্রিক হারও গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

টিকাদানের হার কমার প্রভাব

হাম থেকে একটি জনগোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখতে সাধারণভাবে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাপ্রাপ্ত থাকা প্রয়োজন। এই মাত্রাকে বলা হয় সামষ্টিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সীমা। অর্থাৎ সমাজের এত বড় অংশ যদি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে ভাইরাসের ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ অনেক কমে যায়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদানের হার সেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে নেমে গেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণাঙ্গ হার এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়ার হার ছিল ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ।

সংখ্যার ব্যবধানটি আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি মনে না হলেও সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে কয়েক শতাংশের এই পতনও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পুরো দেশের গড় হার একটি বিষয়; আর স্থানীয়ভাবে টিকাদানের হার আরও কমে যাওয়া এলাকাগুলো আরেকটি বিষয়। এমন এলাকাগুলোতেই সংক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।

আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবিহীন

চলতি বছর এবং ২০২৫ সালের পুরো সময়ের হামের আক্রান্তদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই টিকা না নেওয়া শিশু। এই তথ্য সংক্রমণের সঙ্গে টিকাদানের সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

২০২৬ সালে আক্রান্তদের প্রায় ৭ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত চলতি বছরে হামে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৫ সালে হাম আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুজন ছিলেন টিকা না নেওয়া শিশু।

অর্থাৎ হামকে শুধু শিশুদের একটি সাধারণ সংক্রমণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রোগটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

US Measles Infections Surpass 2025 Total to Hit 35-Year High - Bloomberg

টিকার নীতিতে পরিবর্তন ও আস্থার প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে হামের বর্তমান বিস্তারের পেছনে টিকাদানের হার কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। একই সময়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার নীতিতেও পরিবর্তন ঘটেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র শিশুদের টিকা দেওয়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে অন্যান্য উন্নত দেশের টিকা দেওয়ার সুপারিশ পর্যালোচনার পর এই পরিবর্তন করা হয়। নতুন নির্দেশনায় শিশুদের জন্য সুপারিশকৃত টিকার সংখ্যা ১৭টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে আনা হয়।

হামের টিকা অবশ্য নতুন সুপারিশের তালিকায় রয়েছে। কিন্তু নীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে টিকা সম্পর্কে জনসাধারণের আস্থার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের টিকা-সংক্রান্ত বার্তায় পরিবর্তনের ফলে মানুষের টিকার ওপর আস্থা কমেছে এবং টিকাকে অনিরাপদ মনে করার প্রবণতা বেড়েছে।

জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টিকা কার্যকর হলেও মানুষ যদি তা গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সক্ষমতা দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পুরোনো রোগের নতুন প্রত্যাবর্তন

হামের পুনরুত্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। একটি রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে মানেই সেটি চিরতরে বিলীন হয়ে গেছে—এমন ধারণা বিপজ্জনক। টিকাদানের হার কমতে শুরু করলে বহু বছর ধরে নিয়ন্ত্রণে থাকা সংক্রামক রোগও আবার ফিরে আসতে পারে।

হামের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি আরও বেশি, কারণ রোগটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে। একটি এলাকায় টিকাবিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলে সেখানে সংক্রমণের একটি ছোট ঘটনাও বড় প্রাদুর্ভাবের সূচনা করতে পারে।

এ কারণে ৩৫ বছরের সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ডকে কেবল একটি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্ব কমে যাবে। এটি আসলে টিকাদান কর্মসূচি, জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থার অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের হামের সংক্রমণ এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আক্রান্তদের বড় অংশ টিকাবিহীন শিশু হওয়া এবং সামগ্রিক টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের কাঙ্ক্ষিত সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় সংক্রমণ আরও বিস্তারের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের কাছে তাই প্রশ্নটি শুধু কতজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তা নয়। বরং কীভাবে টিকাদানের হার আবার নিরাপদ পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, কীভাবে টিকা নিয়ে মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা যায় এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া টিকাবিহীন জনগোষ্ঠীগুলোকে কীভাবে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়—এসব প্রশ্নই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ফিলাডেলফিয়ার শিশু হাসপাতালের টিকা শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক চিকিৎসক পল অফিটের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হাম এখন মহামারি পর্যায়ের পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে বলা যথার্থ। তাঁর মন্তব্যটি বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরে।

৩৫ বছর পর হামের এমন প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি রোগের পরিসংখ্যান নয়; এটি জনস্বাস্থ্যে অর্জিত অগ্রগতি কতটা ভঙ্গুর হতে পারে, তারও একটি স্পষ্ট উদাহরণ।