০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়? কৃষ্ণসাগরের বন্দর ঘিরে রাশিয়ার নতুন চাপ, শস্য রপ্তানি থমকে গেলে বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্যঝুঁকি ‘দ্য অডিসি’তে ওডিসিউসের অপরাধবোধ, যুদ্ধের নৃশংসতা ও সভ্যতার পুনর্জন্ম: ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাখ্যা মাদুরো পতনের পর ওয়াশিংটনের ছায়ায় ভেনেজুয়েলা, ক্ষমতার কেন্দ্রে দেলসি রদ্রিগেজ পাইথনের সহজতা আর সি-এর গতি—দুই জগতকে এক করতে পারে জুলিয়া? শিশুরা পড়তে পারে, কিন্তু বুঝতে পারছে তো? শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকট চীনের পাঠশালা থেকে জীবনের পাঠ: এক শিক্ষকের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি আবারও আলোচনায় আফ্রোম্যান, ফিরছে পুরোনো এক সাংস্কৃতিক উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, হাসিনার প্রত্যর্পণে দিল্লিকে তাগিদ হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২

মহাকাশের স্বপ্নে ছুটছেন আইশোস্পিড, এবার লক্ষ্য মহাশূন্য

মাত্র ২১ বছর বয়সেই বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের পরিচিত মুখ আইশোস্পিড। ফুটবল, সরাসরি সম্প্রচার, ভ্রমণ আর উচ্ছল কাণ্ডকারখানায় নিজের জন্য আলাদা এক জগৎ তৈরি করা এই তরুণের পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়—মহাকাশে যাওয়া।

আইশোস্পিড নামে পরিচিত ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ ও মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় বায়ুমণ্ডল নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে মহাকাশের প্রতি তার আগ্রহ আরও গভীর হয়। এখন নিজের সম্প্রচারজীবনের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা সেই পুরোনো অনুসন্ধিৎসু মনকে আবারও জাগিয়ে তুলেছে।

শৈশবের স্বপ্ন এখন নতুন সম্ভাবনা

আইশোস্পিডের ভাষায়, ছোটবেলায় তার ইচ্ছা ছিল মহাকাশচারী হওয়ার। মহাকাশ সম্পর্কে জানার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। পৃথিবীর নানা দেশ ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে সেই অনুসন্ধানী মানসিকতারই যেন নতুন প্রকাশ ঘটেছে।

এখন তার স্বপ্ন হলো সরাসরি মহাকাশ থেকে সম্প্রচার করা। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ছোটবেলার মহাকাশচারী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার বর্তমান জীবনের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে। পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতার পর মহাকাশে যাওয়াকে তিনি নিজের অভিযাত্রার পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছেন।

সুযোগ এলে সবকিছু ছেড়ে যেতে প্রস্তুত

মহাকাশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইশোস্পিড স্পষ্টভাবেই জানান, সুযোগ এলে তিনি দেরি করবেন না। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে এখন এমন স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আগের চেয়ে অনেক বেশি বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষ করে ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তির সক্ষমতার প্রসঙ্গ উঠলে আইশোস্পিড বলেন, বর্তমানে এমন প্রযুক্তি রয়েছে যা তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। এমনকি মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ এখনই এলে তিনি নিজের অন্য সব কাজ ছেড়ে সেখানে যেতে প্রস্তুত বলেও জানান।

তবে মাস্ককে ঘিরে বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইশোস্পিড মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শূন্য থেকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি

আইশোস্পিডের মহাকাশের স্বপ্নকে বুঝতে হলে তার উঠে আসার গল্পটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে কিশোর বয়সে ভিডিও প্রকাশ শুরু করেছিলেন তিনি। তবে মহামারির সময়, ২০২০ সালে, পূর্ণকালীন সরাসরি সম্প্রচারে মন দেন।

সে সময় তার জীবন অনেকটাই থমকে গিয়েছিল। স্কুলে যাওয়া বন্ধ, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা নেই, ফুটবল অনুশীলনও নেই—দিন কাটছিল ভিডিও গেম খেলে। নিজের ভাষায়, তখন তিনি জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

অ্যানিমেশনভিত্তিক ধারাবাহিক ‘ওয়ান পিস’-এর প্রধান চরিত্র লুফি তাকে কঠিন সময় পার হতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষের মধ্যে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও অর্থপূর্ণ জীবনের অনুভূতি ছড়িয়ে দেওয়াকে নিজের কাজের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে দেখেন তিনি।

Make it happen @nasa 🚀👀 IShowSpeed says he plans to stream in space after  he visits every country on Earth. [📸: @ishowspeed]

ঘর থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর পথে

একসময় আইশোস্পিডের সম্প্রচার ছিল মূলত ঘর ও কম্পিউটারকেন্দ্রিক। কিন্তু জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসেন।

২০২৪ সালে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় চিতাবাঘের সঙ্গে দৌড়, ফিলিপাইনে ম্যানি প্যাকিয়াওয়ের সঙ্গে মুষ্টিযুদ্ধের অনুশীলন, জ্যামাইকা ও বার্বাডোসে ভক্তদের ভিড়—এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার সম্প্রচারকে নিছক বিনোদনের বাইরে নিয়ে যায়।

ইন্দোনেশিয়ায় একসঙ্গে ১০ লাখ দর্শক তার সরাসরি সম্প্রচার দেখেছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা সম্প্রচার চালান তিনি। এমনকি ঘুমানোর সময়ও ক্যামেরা বন্ধ করেননি।

বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি। তার এই বিশাল দর্শকগোষ্ঠীকে তিনি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, অনুপ্রেরণার মাধ্যম হিসেবেও দেখতে চান।

মহাকাশ থেকে সম্প্রচার—নতুন যুগের স্বপ্ন

আইশোস্পিডের গল্প তাই কেবল একজন জনপ্রিয় তরুণের সাফল্যের গল্প নয়। এটি বদলে যাওয়া গণমাধ্যমেরও একটি প্রতিচ্ছবি। কোটি কোটি অনুসারী নিয়ে একজন ব্যক্তি এখন নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ গণমাধ্যমের মতো কাজ করতে পারেন।

তার কাছে সরাসরি সম্প্রচার শুধু ক্যামেরার সামনে বসে কথা বলা নয়; এটি শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন এক ধরনের পরিবেশনা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, হঠাৎ নতুন কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া, ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া—সবকিছুকেই তিনি নিজের কাজের অংশ মনে করেন।

এই পথের পরবর্তী গন্তব্য যদি সত্যিই মহাকাশ হয়, তাহলে আইশোস্পিডের সম্প্রচার হয়তো পৃথিবীর কোটি দর্শককে প্রথমবারের মতো একজন জনপ্রিয় অনলাইন তারকার চোখ দিয়ে মহাশূন্য দেখার সুযোগ করে দিতে পারে।

তবে সেই স্বপ্ন এখনো ভবিষ্যতের। নিশ্চিত যা, তা হলো—কিশোর বয়সে যে তরুণ ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলতে খেলতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, তিনিই আজ পৃথিবী ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তার নিজের ভাষায়, জীবনের কঠিন সময় মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথও তৈরি করা সম্ভব।

মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আইশোস্পিডের নতুন লক্ষ্য: জনপ্রিয় এই তরুণ স্ট্রিমার পৃথিবীজুড়ে ভ্রমণের পর এবার মহাশূন্য থেকে সরাসরি সম্প্রচারের স্বপ্ন দেখছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়?

মহাকাশের স্বপ্নে ছুটছেন আইশোস্পিড, এবার লক্ষ্য মহাশূন্য

০৬:৩৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মাত্র ২১ বছর বয়সেই বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের পরিচিত মুখ আইশোস্পিড। ফুটবল, সরাসরি সম্প্রচার, ভ্রমণ আর উচ্ছল কাণ্ডকারখানায় নিজের জন্য আলাদা এক জগৎ তৈরি করা এই তরুণের পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়—মহাকাশে যাওয়া।

আইশোস্পিড নামে পরিচিত ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ ও মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় বায়ুমণ্ডল নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে মহাকাশের প্রতি তার আগ্রহ আরও গভীর হয়। এখন নিজের সম্প্রচারজীবনের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা সেই পুরোনো অনুসন্ধিৎসু মনকে আবারও জাগিয়ে তুলেছে।

শৈশবের স্বপ্ন এখন নতুন সম্ভাবনা

আইশোস্পিডের ভাষায়, ছোটবেলায় তার ইচ্ছা ছিল মহাকাশচারী হওয়ার। মহাকাশ সম্পর্কে জানার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। পৃথিবীর নানা দেশ ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে সেই অনুসন্ধানী মানসিকতারই যেন নতুন প্রকাশ ঘটেছে।

এখন তার স্বপ্ন হলো সরাসরি মহাকাশ থেকে সম্প্রচার করা। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ছোটবেলার মহাকাশচারী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার বর্তমান জীবনের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে। পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতার পর মহাকাশে যাওয়াকে তিনি নিজের অভিযাত্রার পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছেন।

সুযোগ এলে সবকিছু ছেড়ে যেতে প্রস্তুত

মহাকাশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইশোস্পিড স্পষ্টভাবেই জানান, সুযোগ এলে তিনি দেরি করবেন না। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে এখন এমন স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আগের চেয়ে অনেক বেশি বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষ করে ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তির সক্ষমতার প্রসঙ্গ উঠলে আইশোস্পিড বলেন, বর্তমানে এমন প্রযুক্তি রয়েছে যা তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। এমনকি মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ এখনই এলে তিনি নিজের অন্য সব কাজ ছেড়ে সেখানে যেতে প্রস্তুত বলেও জানান।

তবে মাস্ককে ঘিরে বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আইশোস্পিড মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শূন্য থেকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি

আইশোস্পিডের মহাকাশের স্বপ্নকে বুঝতে হলে তার উঠে আসার গল্পটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে কিশোর বয়সে ভিডিও প্রকাশ শুরু করেছিলেন তিনি। তবে মহামারির সময়, ২০২০ সালে, পূর্ণকালীন সরাসরি সম্প্রচারে মন দেন।

সে সময় তার জীবন অনেকটাই থমকে গিয়েছিল। স্কুলে যাওয়া বন্ধ, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা নেই, ফুটবল অনুশীলনও নেই—দিন কাটছিল ভিডিও গেম খেলে। নিজের ভাষায়, তখন তিনি জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবেও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

অ্যানিমেশনভিত্তিক ধারাবাহিক ‘ওয়ান পিস’-এর প্রধান চরিত্র লুফি তাকে কঠিন সময় পার হতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষের মধ্যে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও অর্থপূর্ণ জীবনের অনুভূতি ছড়িয়ে দেওয়াকে নিজের কাজের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে দেখেন তিনি।

Make it happen @nasa 🚀👀 IShowSpeed says he plans to stream in space after  he visits every country on Earth. [📸: @ishowspeed]

ঘর থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর পথে

একসময় আইশোস্পিডের সম্প্রচার ছিল মূলত ঘর ও কম্পিউটারকেন্দ্রিক। কিন্তু জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসেন।

২০২৪ সালে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় চিতাবাঘের সঙ্গে দৌড়, ফিলিপাইনে ম্যানি প্যাকিয়াওয়ের সঙ্গে মুষ্টিযুদ্ধের অনুশীলন, জ্যামাইকা ও বার্বাডোসে ভক্তদের ভিড়—এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার সম্প্রচারকে নিছক বিনোদনের বাইরে নিয়ে যায়।

ইন্দোনেশিয়ায় একসঙ্গে ১০ লাখ দর্শক তার সরাসরি সম্প্রচার দেখেছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা সম্প্রচার চালান তিনি। এমনকি ঘুমানোর সময়ও ক্যামেরা বন্ধ করেননি।

বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি। তার এই বিশাল দর্শকগোষ্ঠীকে তিনি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, অনুপ্রেরণার মাধ্যম হিসেবেও দেখতে চান।

মহাকাশ থেকে সম্প্রচার—নতুন যুগের স্বপ্ন

আইশোস্পিডের গল্প তাই কেবল একজন জনপ্রিয় তরুণের সাফল্যের গল্প নয়। এটি বদলে যাওয়া গণমাধ্যমেরও একটি প্রতিচ্ছবি। কোটি কোটি অনুসারী নিয়ে একজন ব্যক্তি এখন নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ গণমাধ্যমের মতো কাজ করতে পারেন।

তার কাছে সরাসরি সম্প্রচার শুধু ক্যামেরার সামনে বসে কথা বলা নয়; এটি শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন এক ধরনের পরিবেশনা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, হঠাৎ নতুন কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া, ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া—সবকিছুকেই তিনি নিজের কাজের অংশ মনে করেন।

এই পথের পরবর্তী গন্তব্য যদি সত্যিই মহাকাশ হয়, তাহলে আইশোস্পিডের সম্প্রচার হয়তো পৃথিবীর কোটি দর্শককে প্রথমবারের মতো একজন জনপ্রিয় অনলাইন তারকার চোখ দিয়ে মহাশূন্য দেখার সুযোগ করে দিতে পারে।

তবে সেই স্বপ্ন এখনো ভবিষ্যতের। নিশ্চিত যা, তা হলো—কিশোর বয়সে যে তরুণ ঘরে বসে ভিডিও গেম খেলতে খেলতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, তিনিই আজ পৃথিবী ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তার নিজের ভাষায়, জীবনের কঠিন সময় মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথও তৈরি করা সম্ভব।

মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আইশোস্পিডের নতুন লক্ষ্য: জনপ্রিয় এই তরুণ স্ট্রিমার পৃথিবীজুড়ে ভ্রমণের পর এবার মহাশূন্য থেকে সরাসরি সম্প্রচারের স্বপ্ন দেখছেন।