জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দুর্বল অবস্থান দেশটির বহুজাতিক সংস্থাগুলোর ব্যবসায় বড় ধরনের সুবিধা এনে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক আয়-পর্যালোচনার মৌসুমে জাপানের বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি পুরো বছরের মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টয়োটা, সনি ও মুজির মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান।
ইয়েনের দর কমে যাওয়ায় বিদেশে ব্যবসা করা জাপানি কোম্পানিগুলো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। বিদেশি মুদ্রায় অর্জিত আয় ইয়েনে হিসাব করার সময় তার মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা পণ্য ও সেবা থেকে পাওয়া আয় জাপানি মুদ্রায় রূপান্তরের পর কোম্পানিগুলোর মোট রাজস্ব ও মুনাফা বাড়ছে।
ইয়েন আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা
জাপানের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক টপিক্সে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইয়েনের সম্ভাব্য বিনিময় হার নিয়ে করা হিসাবেও পরিবর্তন এসেছে। চলতি আগস্ট মাসে এসব কোম্পানির প্রত্যাশিত গড় বিনিময় হার প্রতি ডলারে প্রায় ১৫৪ ইয়েনে পৌঁছেছে। মে মাসের শেষ দিকে এই হিসাব ছিল প্রায় ১৫০ ইয়েন।
অর্থাৎ জাপানের বড় করপোরেশনগুলো এখন ইয়েনের আরও দুর্বল অবস্থানের সম্ভাবনা ধরে তাদের ব্যবসায়িক হিসাব করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েনের দর একপর্যায়ে ডলারের বিপরীতে ১৬০-এর ওপরে নেমে যাওয়ার পর মুদ্রাটির দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিদেশি বাজারে থাকা কোম্পানিগুলো এগিয়ে
ইয়েন দুর্বল হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায় যেসব জাপানি কোম্পানির বিদেশে উৎপাদন, বিক্রি ও বিনিয়োগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি আয় জাপানি মুদ্রায় হিসাব করার সময় তুলনামূলক বেশি অর্থে পরিণত হয়।
বিশেষ করে গাড়ি, ইলেকট্রনিকস, বিনোদন ও ভোগ্যপণ্যের মতো খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান থাকা কোম্পানিগুলোর জন্য এটি বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে। টয়োটার মতো গাড়ি নির্মাতাদের পাশাপাশি সনির মতো প্রযুক্তি ও বিনোদনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও এর সুফল পাচ্ছে।
মুজির মতো ভোক্তাপণ্য বিক্রেতার ক্ষেত্রেও বিদেশি বাজার থেকে আসা আয়ের মূল্য ইয়েনের হিসাবে বাড়তে পারে। ফলে জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবৃদ্ধি ধীর হলেও বিদেশি কার্যক্রমের মাধ্যমে সামগ্রিক মুনাফা ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
মুনাফার পূর্বাভাসে ইতিবাচক পরিবর্তন
সাম্প্রতিক আর্থিক ফল প্রকাশের সময় বেশ কয়েকটি জাপানি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের পুরো বছরের মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। দুর্বল ইয়েন এই সংশোধনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করছে।

তবে ইয়েনের দুর্বলতা সব কোম্পানির জন্য সমান সুবিধা বয়ে আনে না। যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কাঁচামাল, জ্বালানি বা বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে, তাদের ব্যয় বরং বেড়ে যেতে পারে। তাই মুদ্রার দরপতনের প্রভাব কোম্পানির ব্যবসার ধরন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও বিদেশি আয়ের ওপর নির্ভর করছে।
জাপানের অর্থনীতিতে মিশ্র প্রভাব
দুর্বল ইয়েন জাপানের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করলেও সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব সবসময় ইতিবাচক নয়। আমদানি করা জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে গেলে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে বিদেশি বাজারে প্রতিযোগিতায় থাকা জাপানি কোম্পানিগুলো দুর্বল ইয়েনের কারণে তুলনামূলক মূল্য সুবিধা পেতে পারে। এতে তাদের আন্তর্জাতিক আয় বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
সব মিলিয়ে, জাপানের বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বর্তমান দুর্বল ইয়েন যেন একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। বিদেশ থেকে আসা আয়ের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মুনাফার সম্ভাবনা বাড়লেও আমদানি ব্যয়ের চাপ এবং মুদ্রার ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















