কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর রাতভর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ধ্বংসস্তূপে আটকে ২৫ জন
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি কালি। শহরটিতে অন্তত ৮৫ জন নিহত এবং ৮৮৫ জন আহত হয়েছেন। কালি শহরের ক্যাপ্রি এলাকায় একটি ধসে পড়া ভবনের নিচে অন্তত ২৫ জন আটকে আছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র আলেহান্দ্রো এদের।
আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর ও তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করছে কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনী। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতিও কাজে লাগানো হচ্ছে। স্থানীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা কংক্রিটের নিচে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে চারপাশে নীরবতা বজায় রেখে শোনার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছেন।
বিমানবন্দর, হাসপাতাল ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত
কলম্বিয়ার রাজধানী শহরগুলোর সংগঠন জানিয়েছে, পেরেইরা, কালি, কিবদো, মানিজালেস ও আরমেনিয়া এখনো সর্বোচ্চ সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। এসব এলাকায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর, হাসপাতাল, সড়ক, বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
পেরেইরার মেয়র মরিসিও সালাজার জানিয়েছেন, সেখানে ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কোরদোবা-কুরি অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। মানিজালেসের মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস জানিয়েছেন, সেখানে পাঁচজন নিহত এবং ১৬০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার কিছু পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের সান হোসে দেল পালমারের কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।
কম্পন রাজধানী বোগোতাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছে। প্রতিবেশী ইকুয়েডর, পানামা ও ভেনেজুয়েলাতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়।
আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তুতি
ভূমিকম্পের মাত্র তিন দিন আগে দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন। পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্য তিনি একটি একীভূত কমান্ড পোস্ট স্থাপন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কলম্বিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশটির জনগণ ও সরকারের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। জরুরি আশ্রয়, খাদ্য সহায়তা ও ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট সেবা সক্রিয় করেছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশা ধরে রেখেছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















