১০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট মোদির পাকিস্তান নীতি: সংলাপহীনতার আড়ালে কি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি? বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে জ্বালানি, ডলার, বকেয়া ও আস্থার সংকট উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সংসদে অমিত শাহের লেকচার শুনতে আগ্রহী নই: রাহুল গান্ধী লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে একদিনে তিন জাহাজে হামলা, নিহত ৬; ৩ পাকিস্তানি ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান তালেবান শাসনে ২৪ লাখ আফগান কিশোরীর মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ, অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান ইউনেস্কোর বাইডেনের স্বাস্থ্য সংকট ডেমোক্র্যাটদের গভীর রাজনৈতিক সংকটও উন্মোচন করছে লোডশেডিং ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন

হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে পুলিশের গাফিলতি স্বীকার, পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি স্পষ্ট বলে স্বীকার করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে নিহত বিরজু কেওটের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি নিহতের স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিরজু কেওট গত ৮ আগস্ট পুলিশ হেফাজতে মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং সেই নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে যে নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সেই অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত হবে। পাশাপাশি বিরজু কেওটকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে যুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও ব্যারাকপুর পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে—এ বিষয়টি স্পষ্ট। তাঁর ভাষায়, পুলিশের গাফিলতিও দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। জেনি শর্মা আগে তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের চেয়ে তাঁর কাছে স্বামীর মৃত্যুর ন্যায়বিচার বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

‘ক্ষতিপূরণের চেয়ে বিচার চাই’

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে। তাঁর দাবি, বিরজু কেওটের পরিবার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়নি এবং তারা প্রশাসনের কাছ থেকেই ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বলেছেন, তাঁরা শুধু ন্যায়বিচার চান। প্রশাসনই সেই বিচার নিশ্চিত করতে পারে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। সরকারের প্রতি পরিবারের এই আস্থাকে তিনি বড় দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন।

Custodial death: Bengal CM visits kin of Trinamool worker, suspends IO,  announces ex gratia

মমতার গাড়িতে হামলা ঘিরে উত্তেজনা

বিরজু কেওটের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের এক দিন আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর সফরের সময় গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাটিকে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

তাঁর সফরের সময় স্থানীয় কিছু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পুলিশ যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। স্থানীয় মানুষের স্লোগানকে তিনি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

প্রতিবাদে তৃণমূল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন। বিধানসভাতেও তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়ক প্রতিবাদে অংশ নেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অবস্থান নেওয়া নেতাদের সঙ্গে মিলে ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

একদিকে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা, অন্যদিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা—দুই ঘটনাকে ঘিরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্নতা: নতুন বিশ্বব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত সংকট

হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতে পুলিশের গাফিলতি স্বীকার, পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

০৬:৫০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি স্পষ্ট বলে স্বীকার করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে নিহত বিরজু কেওটের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি নিহতের স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিরজু কেওট গত ৮ আগস্ট পুলিশ হেফাজতে মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং সেই নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে যে নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সেই অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত হবে। পাশাপাশি বিরজু কেওটকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে যুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও ব্যারাকপুর পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে—এ বিষয়টি স্পষ্ট। তাঁর ভাষায়, পুলিশের গাফিলতিও দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। জেনি শর্মা আগে তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের চেয়ে তাঁর কাছে স্বামীর মৃত্যুর ন্যায়বিচার বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

‘ক্ষতিপূরণের চেয়ে বিচার চাই’

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে। তাঁর দাবি, বিরজু কেওটের পরিবার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়নি এবং তারা প্রশাসনের কাছ থেকেই ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বলেছেন, তাঁরা শুধু ন্যায়বিচার চান। প্রশাসনই সেই বিচার নিশ্চিত করতে পারে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। সরকারের প্রতি পরিবারের এই আস্থাকে তিনি বড় দায়িত্ব হিসেবেও উল্লেখ করেন।

Custodial death: Bengal CM visits kin of Trinamool worker, suspends IO,  announces ex gratia

মমতার গাড়িতে হামলা ঘিরে উত্তেজনা

বিরজু কেওটের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের এক দিন আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর সফরের সময় গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাটিকে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।

তাঁর সফরের সময় স্থানীয় কিছু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পুলিশ যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। স্থানীয় মানুষের স্লোগানকে তিনি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

প্রতিবাদে তৃণমূল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন। বিধানসভাতেও তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়ক প্রতিবাদে অংশ নেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অবস্থান নেওয়া নেতাদের সঙ্গে মিলে ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

একদিকে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা, অন্যদিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা—দুই ঘটনাকে ঘিরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।