১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
কিশোরী থেকে সুপারমডেল—কাইয়া গারবারের লালগালিচার ২০ নজরকাড়া সাজ স্মার্টফোন ছেড়ে ‘অ্যানালগ ব্যাগে’ ফিরছে তরুণ প্রজন্ম, জনপ্রিয় হচ্ছে পুরোনো দিনের শখ পুরোনো পোস্টে বিপাকে ফ্রান্সেসকা হং, উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারিতে তীব্র বিতর্ক ডেমোক্র্যাটদের সামনে কি আসছে ‘টি পার্টি মুহূর্ত’? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিড়ে মানুষের বুদ্ধির ডাক, ‘চ্যাটবটকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না’ কানের দুল পরানোর অভিজ্ঞতায় বড় বদল আনছে ক্লেয়ার্স পালানোর পথ নেই: দুবাই থেকে যেভাবে ধরা পড়েছে বিশ্বের কুখ্যাত অপরাধীরা মির্জা ফখরুলই বিএনপির প্রার্থী, তবে আগাম ঘোষণা করবে না দল দুবাইয়ে বদলাচ্ছে আবাসনের নিয়ম, পরিবার-ব্যাচেলর-শিক্ষার্থীরাও নিতে পারবেন বৈধ শেয়ার্ড বাসা বিমান, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে বড় সাইবার হামলা ঠেকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

বিমান, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে বড় সাইবার হামলা ঠেকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান চলাচল, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতকে লক্ষ্য করে চালানো একাধিক উন্নত ও সুসংগঠিত সাইবার হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। সোমবার দেশটির সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, হামলাকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোতে প্রবেশ, পরিচালনাগত হিসাব ও তথ্য দখলের চেষ্টা এবং প্রতারণামূলক বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার মতো বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছিল।

তবে হামলাগুলো শনাক্ত হওয়ার পরপরই জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। হামলার পথ ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির চিহ্ন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে হামলাকারীরা লক্ষ্যভুক্ত ব্যবস্থায় ঢুকতে বা গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত করতে পারেনি।

এক দিনে ৮ লাখের বেশি হামলার চেষ্টা

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিদিন ৮ লাখেরও বেশি সাইবার হামলার প্রচেষ্টার মুখোমুখি হয় বলে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা পরিষদের তথ্য। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলাগুলোকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Image

সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার সময় জাতীয় পর্যায়ের নজরদারি ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল। হামলা শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একদিকে আক্রান্ত ব্যবস্থাগুলোকে নিরাপদ করা হয়েছে, অন্যদিকে হামলার বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফলে হামলাকারীদের লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়নি এবং বিমান চলাচল, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ সেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

ছুটির মৌসুমে হামলার সময় নিয়ে উদ্বেগ

হামলার সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। গ্রীষ্মের ছুটি শেষে পরিবারগুলো যখন দেশে ফিরছে এবং শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিমান চলাচল বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হলে তার প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের ওপর নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারত।

মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক ও আফ্রিকা অঞ্চলে ইলুমিওর বিক্রয় বিভাগের পরিচালক স্যাম তায়ান বলেন, আধুনিক সাইবার সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্রমেই প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে।

তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে গত এক বছরে দেখা সংঘাত ও উত্তেজনা প্রমাণ করেছে যে রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। জ্বালানি নেটওয়ার্ক, বিমান চলাচল ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অপরিহার্য সেবায় আঘাত হেনে কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমান্ত অতিক্রম না করেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা সম্ভব।

Image

২৪ ঘণ্টাই নজরদারিতে ডিজিটাল পরিসর

সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, দেশের জাতীয় পর্যায়ের নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা চব্বিশ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন সক্রিয় রয়েছে। সম্ভাব্য হুমকির গতিপথ পর্যবেক্ষণ, হামলার ধরন বিশ্লেষণ এবং লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই তা প্রতিহত করার জন্য এই ব্যবস্থা কাজ করছে।

পরিষদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় সাইবার সক্ষমতার শক্তি তুলে ধরেছে। বিশেষ করে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সক্রিয়ভাবে হুমকি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন হামলার সংকেত দ্রুত একত্র করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা দেশটির ডিজিটাল নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এর আগেও আর্থিক খাতে হামলা ঠেকানো হয়

এর আগে গত ৩ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো অত্যাধুনিক সাইবার হামলাও প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও দেখিয়ে দিল, বিমানবন্দর থেকে জ্বালানি ব্যবস্থা কিংবা শিক্ষা অবকাঠামো—আধুনিক রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাই এখন ডিজিটাল নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। তাই হামলা শুরু হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি হামলার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে তা ঠেকানোই হয়ে উঠছে জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Image

 

Image

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরী থেকে সুপারমডেল—কাইয়া গারবারের লালগালিচার ২০ নজরকাড়া সাজ

বিমান, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে বড় সাইবার হামলা ঠেকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

১০:৪০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান চলাচল, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতকে লক্ষ্য করে চালানো একাধিক উন্নত ও সুসংগঠিত সাইবার হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। সোমবার দেশটির সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, হামলাকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোতে প্রবেশ, পরিচালনাগত হিসাব ও তথ্য দখলের চেষ্টা এবং প্রতারণামূলক বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার মতো বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছিল।

তবে হামলাগুলো শনাক্ত হওয়ার পরপরই জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। হামলার পথ ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির চিহ্ন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে হামলাকারীরা লক্ষ্যভুক্ত ব্যবস্থায় ঢুকতে বা গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত করতে পারেনি।

এক দিনে ৮ লাখের বেশি হামলার চেষ্টা

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিদিন ৮ লাখেরও বেশি সাইবার হামলার প্রচেষ্টার মুখোমুখি হয় বলে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা পরিষদের তথ্য। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলাগুলোকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Image

সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার সময় জাতীয় পর্যায়ের নজরদারি ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল। হামলা শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একদিকে আক্রান্ত ব্যবস্থাগুলোকে নিরাপদ করা হয়েছে, অন্যদিকে হামলার বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ফলে হামলাকারীদের লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়নি এবং বিমান চলাচল, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ সেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

ছুটির মৌসুমে হামলার সময় নিয়ে উদ্বেগ

হামলার সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। গ্রীষ্মের ছুটি শেষে পরিবারগুলো যখন দেশে ফিরছে এবং শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিমান চলাচল বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হলে তার প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের ওপর নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারত।

মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক ও আফ্রিকা অঞ্চলে ইলুমিওর বিক্রয় বিভাগের পরিচালক স্যাম তায়ান বলেন, আধুনিক সাইবার সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্রমেই প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে।

তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে গত এক বছরে দেখা সংঘাত ও উত্তেজনা প্রমাণ করেছে যে রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোকে কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। জ্বালানি নেটওয়ার্ক, বিমান চলাচল ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অপরিহার্য সেবায় আঘাত হেনে কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমান্ত অতিক্রম না করেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা সম্ভব।

Image

২৪ ঘণ্টাই নজরদারিতে ডিজিটাল পরিসর

সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, দেশের জাতীয় পর্যায়ের নজরদারি ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা চব্বিশ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন সক্রিয় রয়েছে। সম্ভাব্য হুমকির গতিপথ পর্যবেক্ষণ, হামলার ধরন বিশ্লেষণ এবং লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই তা প্রতিহত করার জন্য এই ব্যবস্থা কাজ করছে।

পরিষদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় সাইবার সক্ষমতার শক্তি তুলে ধরেছে। বিশেষ করে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সক্রিয়ভাবে হুমকি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন হামলার সংকেত দ্রুত একত্র করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা দেশটির ডিজিটাল নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এর আগেও আর্থিক খাতে হামলা ঠেকানো হয়

এর আগে গত ৩ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো অত্যাধুনিক সাইবার হামলাও প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল সাইবার নিরাপত্তা পরিষদ।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও দেখিয়ে দিল, বিমানবন্দর থেকে জ্বালানি ব্যবস্থা কিংবা শিক্ষা অবকাঠামো—আধুনিক রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাই এখন ডিজিটাল নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। তাই হামলা শুরু হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি হামলার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে তা ঠেকানোই হয়ে উঠছে জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Image

 

Image