বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত শোনার প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি গানকে আলাদা করে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি সংগীতের পাশে ‘এআই পারসোনাস’ পরিচয় দেখা যাবে। এর ফলে শ্রোতারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন গান বাস্তব শিল্পীর তৈরি আর কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি।
স্পটিফাই জানিয়েছে, আগামী ১১ আগস্ট থেকে শিল্পীরা চাইলে নিজেদের গান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করার সুযোগ পাবেন। তবে গানগুলোর পাশে এই পরিচয় দেখা যাবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুপারিশ নয়
স্পটিফাইয়ের নতুন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ‘এআই পারসোনাস’ হিসেবে চিহ্নিত গান সাধারণ সুপারিশ তালিকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাখা হবে না। কোনো শ্রোতা নিজে থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি গান শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তবেই সেগুলো তার জন্য সুপারিশ করা হবে।

কোম্পানিটির ভাষ্য, শ্রোতারা বারবার জানিয়েছেন—মানুষের মতো দেখতে কোনো শিল্পীর পরিচিতি দেখে গান শুনতে গিয়ে পরে জানতে পারা যে সেই শিল্পী আসলে কৃত্রিমভাবে তৈরি, বিষয়টি তাদের কাছে অস্বস্তিকর। নতুন পরিচয় ব্যবস্থার মাধ্যমে এই বিভ্রান্তি কমানোই স্পটিফাইয়ের লক্ষ্য।
ভুল পরিচয়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ
নতুন ব্যবস্থায় শ্রোতারাও কোনো গানকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বলে সন্দেহ হলে তা স্পটিফাইকে জানাতে পারবেন। অন্যদিকে, কোনো শিল্পীর গান ভুলভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বলে চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পী সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
ফলে শুধু স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই নয়, ভুলভাবে কোনো শিল্পীর কাজকে এআই-নির্ভর বলে চিহ্নিত করা ঠেকানোর ব্যবস্থাও রাখছে স্পটিফাই।
কয়েক সেকেন্ডেই তৈরি হচ্ছে পেশাদার মানের গান
সংগীতজগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নিয়ে এরই মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে সংগীত বিষয়ে খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকা ব্যক্তিরাও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পেশাদার মানের গান তৈরি করতে পারছেন।
এর ফলে সংগীতের স্বাতন্ত্র্য, শিল্পীর পরিচয় এবং শ্রোতার কাছে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত বছর ‘ভেলভেট সানডাউন’ নামে একটি কথিত ব্যান্ডকে ঘিরে এমন বিতর্ক আরও তীব্র হয়। ব্যান্ডটির গান দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি কল্পিত সদস্যদের কৃত্রিম ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে বিষয়টি সংগীতশিল্পী ও শ্রোতাদের মধ্যে এআই-নির্মিত সংগীতের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় আলোচনা তৈরি করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আরও উদ্যোগ স্পটিফাইয়ের
স্পটিফাই এরই মধ্যে সংগীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শনাক্ত ও প্রকাশের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘এআই ক্রেডিটস’, যার মাধ্যমে শিল্পীরা তাদের গানের কোন অংশে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছেন, তা জানাতে পারেন।
নতুন ‘এআই পারসোনাস’ পরিচয় সেই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল। সংগীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই শ্রোতাদের সামনে সেই তথ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। স্পটিফাইয়ের নতুন পদক্ষেপ সেই স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পথেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংগীত তৈরির প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুললেও শিল্পীর পরিচয় ও সৃষ্টির সত্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, স্পটিফাইয়ের নতুন ব্যবস্থা সেই প্রশ্নের একটি প্রযুক্তিনির্ভর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















