ইউনেস্কো বলছে, নারী ও মেয়েদের শিক্ষা থেকে দূরে রাখা তাদের মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। সংস্থাটির শিক্ষা বিষয়ক জরুরি কর্মসূচির সমন্বয়কারী হোদা জাবেরিয়ান এক ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আফগানিস্তানই বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে শিক্ষার বাইরে থাকা কোনো শিশুর জন্য সাময়িক বাধা নয়। এটি একজন শিক্ষার্থীর প্রায় পুরো মাধ্যমিক শিক্ষাজীবনের সমান সময়। তাই মেয়েদের ও নারীদের মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার ‘অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে’ পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।
ক্ষমতা দখলের পরই শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা
২০২১ সালের ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী দুই দশকের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার শুরু করলে তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ক্ষমতায় আসার পরপরই তারা মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। পরে উচ্চশিক্ষা, চাকরি এবং জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নারীদের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
জাতিসংঘ, মানবিক সহায়তা সংস্থা, অধিকার সংগঠন এবং কয়েকটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও তালেবান তা বহাল রেখেছে। তাদের বক্তব্য, এটি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
দুই দশকের শিক্ষাগত অগ্রগতি উল্টে গেছে
ইউনেস্কোর মতে, মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা গত দুই দশকে আফগানিস্তানের শিক্ষা খাতে অর্জিত অগ্রগতির বড় অংশকে পিছিয়ে দিয়েছে। ২০০১ সালে দেশটিতে মেয়েদের স্কুলশিক্ষায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত ছিল। কিন্তু ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তি হয়েছিল।
ইউনেস্কোর হোদা জাবেরিয়ান বলেন, সেই অগ্রগতির বড় অংশই এখন পুরোপুরি উল্টে গেছে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম
মেয়েদের শিক্ষার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইউনেস্কো আফগানিস্তানে কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষা, সাক্ষরতা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এসব শিক্ষা কার্যক্রম অনেক সময় স্থানীয় কমিউনিটি স্পেস ও প্রশিক্ষকদের বাড়িতে পরিচালিত হয়। কর্তৃপক্ষ এসব কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচিতে এক হাজারের বেশি সাক্ষরতা প্রশিক্ষক যুক্ত আছেন। তাদের অধিকাংশই ইউনেস্কো ও অংশীদার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
জাবেরিয়ান বলেন, বিধিনিষেধ বহাল থাকলেও আফগান শিক্ষার্থীদের পরিত্যাগ করা যাবে না। শিক্ষার সুযোগ যতটুকু সম্ভব ধরে রাখতে ইউনেস্কো স্থানীয় সম্প্রদায় ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















