যন্ত্রর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং এর পর পুলিশের অভিযানের ঘটনা নিয়ে ভারতের সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে লোকসভার স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে নোটিশ দিতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে অমিত শাহের ‘লেকচার’ শুনতে বিরোধীরা আগ্রহী নন। তারা বরং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কথিত গুলি ও লাঠিচার্জের নির্দেশ কে দিয়েছিল, তার জবাব চান।
সংসদে আলোচনার প্রস্তাব শাহের
বুধবার সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অমিত শাহ বলেন, সরকার সংসদে সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে প্রস্তুত। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানান।
শাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসহ সব বিষয়ে সরকার আলোচনায় প্রস্তুত। এ বিষয়ে বিরোধীদের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিতভাবে নোটিশ দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টার মধ্যে বিরোধীরা লিখিত আবেদন দিলে বিকেল ৩টা থেকে পরদিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ, আলোচনার জন্য প্রায় ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
রাহুলের পাল্টা জবাব
তবে শাহের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার বদলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিরোধীরা অমিত শাহের কোনো ‘লেকচার’ শুনতে আগ্রহী নন। তাদের মূল দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কথিত গুলি ও লাঠিচার্জের নির্দেশ কে দিয়েছিল, তার জবাব দিতে হবে।
রাহুল প্রশ্ন তোলেন, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের গুলি করার নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং পেরেকযুক্ত লাঠি দিয়ে তাদের মারধরের নির্দেশই বা কে দিয়েছিল। অমিত শাহ নিজে এমন নির্দেশ দিয়ে থাকলে তাকে পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, গত ২০ দিন ধরে অমিত শাহ সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে বিষয়টির মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই।
অন্যদিকে শাহের বক্তব্যে সংসদের কার্যক্রম সচল রেখে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার প্রস্তাবই সামনে এসেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
যন্ত্রর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব এবং তার আগে লিখিত নোটিশ দেওয়ার শর্ত—এই দুই অবস্থানকে ঘিরেই বুধবার ভারতের সংসদে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















