ভারতের কর্ণাটকে কাবেরী নদীর পানি তামিলনাড়ুকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যব্যাপী বন্ধ পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন কন্নড় সংগঠন ও কৃষক সংগঠনের ডাকা এই কর্মসূচিকে ঘিরে বেঙ্গালুরুসহ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও এখন পর্যন্ত রাজ্যের স্বাভাবিক জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
খোলা রয়েছে স্কুল, হাসপাতাল ও ব্যাংক
বন্ধের প্রভাব সবচেয়ে কম পড়েছে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সেবায়। স্কুল, ব্যাংক, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি গণপরিবহনও চলাচল করছে। বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরেও যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বেঙ্গালুরু মহানগর পরিবহন সংস্থা ও কর্ণাটক রাজ্য সড়ক পরিবহন সংস্থার কর্মী সংগঠন বন্ধে সমর্থন না দেওয়ায় বাস চলাচলেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়নি। বেসরকারি বাস, পরিবহন ও অটোরিকশা সংগঠনগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ থেকে দূরে রয়েছে।
বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা
বন্ধকে কেন্দ্র করে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সদস্যরা নজরদারি করছেন। তবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং যাত্রী পরিবহনেও কোনো বড় ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দর থেকে ওলা, উবার, বিমানবন্দর ট্যাক্সি ও কর্ণাটক পর্যটন উন্নয়ন সংস্থার ট্যাক্সিও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
কাবেরীর পানি নিয়ে ক্ষোভ
কাবেরী পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্ণাটককে ১২ আগস্ট থেকে টানা ১৫ দিন প্রতিদিন ১২ হাজার কিউসেক পানি তামিলনাড়ুর দিকে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই কর্ণাটকের কৃষক ও কন্নড়পন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের দাবি, কর্ণাটক নিজেই পানির সংকটে রয়েছে। কৃষি ও মানুষের পানীয় জলের প্রয়োজন মেটানোর পরই অন্য রাজ্যে পানি ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
মাণ্ড্যসহ কাবেরী অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ করেছেন। কিছু কন্নড় সংগঠনও রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে বন্ধের ডাক দেয়।
মাণ্ড্য ও মহীশূরে বিক্ষোভ
মাণ্ড্য জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য বড় জমায়েতের কথা বিবেচনায় কয়েকটি এলাকায় মদ বিক্রি, পরিবহন ও সংরক্ষণ এক দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মহীশূরেও বিক্ষোভ হলেও দোকানপাট, হোটেল, বাস, অটোরিকশা ও ট্যাক্সি স্বাভাবিকভাবে চলেছে। বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কয়েকজন কন্নড়পন্থী কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।
বন্ধ নিয়ে সংগঠনগুলোর মধ্যেও মতভেদ

কর্ণাটকের সব কন্নড় সংগঠন সরাসরি বন্ধকে সমর্থন করছে না। কয়েকটি সংগঠন কর্মসূচির প্রতি নৈতিক সমর্থন জানালেও পুরোপুরি বন্ধ পালনে রাজি হয়নি। অন্যদিকে কৃষক সংগঠনগুলোর একটি অংশ কাবেরীর পানি ছাড়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বন্ধের অন্যতম সমর্থক কন্নড় নেতা ভাটাল নাগরাজ দাবি করেছেন, কর্ণাটকের পানির প্রয়োজন মেটানো সম্ভব না হলে তামিলনাড়ুকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত নয়।
শান্ত থাকার আহ্বান পুলিশের
বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে কাউকে জোর করে বন্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা, দোকানপাট বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাপ দেওয়া, যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা কারও ওপর হামলা বা হুমকি দেওয়া যাবে না। জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানি পিছিয়েছে
কাবেরীর পানি নিয়ে বিরোধের আইনি লড়াইও নতুন মোড় নিয়েছে। তামিলনাড়ুর করা আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট তা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতি বিক্রম নাথ ভাইরাল জ্বরে অসুস্থ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্ণাটক সরকার জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশ—দুই বিষয়ই বিবেচনায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















