পাকিস্তানের করাচি শহরে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন সেবার খরচ বাড়ানো হয়েছে। সিন্ধু প্রাদেশিক সরকার করাচি পানি ও পয়োনিষ্কাশন করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পানি ও পয়োনিষ্কাশন খরচ ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। নতুন এই হার গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে করাচির আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ করপোরেশনের নির্ধারিত বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবার মাসিক খরচ বাড়বে। শহরের বিশাল জনগোষ্ঠীর পানি সরবরাহ এবং পুরোনো পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো সচল রাখতে বাড়তি অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে খরচ পুনর্নির্ধারণ
সিন্ধু সরকারের ১০ আগস্ট প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে নতুন খরচের বিষয়টি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, গড় ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবার খরচ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে করাচি পানি ও পয়োনিষ্কাশন করপোরেশনের পরিচালনা পর্ষদ খুচরা ও পাইকারি—দুই ধরনের গ্রাহকের জন্যই খরচ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছিল। সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
জমির আয়তনের ভিত্তিতে আবাসিক খরচ
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, আবাসিক ভবনের পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবার মাসিক খরচ জমির আয়তনের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ বিভিন্ন আয়তনের আবাসিক সম্পত্তির জন্য নির্ধারিত খরচ এক হবে না।
একই সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন খরচের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসাকেন্দ্র, দোকান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনার জন্য আলাদা নির্দিষ্ট মাসিক খরচ প্রযোজ্য হবে।
রাজস্ব বাড়িয়ে সেবা টেকসই করার লক্ষ্য
করাচি পানি ও পয়োনিষ্কাশন করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন খরচ নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো করপোরেশনের রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা। এর মাধ্যমে শহরে নিয়মিত ও টেকসই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
করাচির জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রতিদিন পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিক সেবার ওপর চাপও বাড়ছে। এই বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও পুরোনো ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে আরও অর্থ প্রয়োজন বলে মনে করছে করপোরেশন।
পুরোনো অবকাঠামো নিয়ে বাড়ছে চাপ
করাচি দীর্ঘদিন ধরেই পানি সরবরাহের সংকট, দুর্বল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পুরোনো নাগরিক অবকাঠামোর নানা সমস্যার মুখোমুখি। অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ধরে রাখা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর মধ্যেই পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবার খরচ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। কর্তৃপক্ষের আশা, বাড়তি রাজস্ব ব্যবস্থাটির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।
১ জুলাই থেকে নতুন হার কার্যকর
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি গত ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী গ্রাহকদের পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবার খরচ হিসাব করা হবে।
তবে করাচির সাধারণ মানুষের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন সেবার মান নিয়ে আগে থেকেই যেসব নাগরিকের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছে বাড়তি খরচের বিনিময়ে সেবার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।



















