পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ সোহেল আফ্রিদি ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত লং মার্চকে সামনে রেখে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপথের আন্দোলন শুরু করেছেন। নিজের জেলা খাইবার থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি।
খাইবারের ঐতিহাসিক বাব-ই-খাইবার এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সোহেল আফ্রিদি বলেন, খাইবারের মানুষই ২৭ সেপ্টেম্বরের লং মার্চের সূচনা করেছে। এই পদযাত্রা খাইবার থেকে শুরু হয়ে ইসলামাবাদে গিয়ে শেষ হবে।
তিনি জানান, আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ন্যায়ের জন্য লং মার্চ’। সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের মুক্তি নিশ্চিত করা, ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ প্রতিষ্ঠা, ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানো এবং নিপীড়ন ও অবিচারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।
তরুণদের রাজপথে আসার আহ্বান

দেশের তরুণদের উদ্দেশে সোহেল আফ্রিদি বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন। তিনি তরুণদের সামনে এগিয়ে এসে দেশের পরিবর্তনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খাইবার থেকে শুরু হওয়া এই রাজপথের আন্দোলন ধীরে ধীরে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
খাইবারের জনগণের প্রশংসা করে সোহেল আফ্রিদি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও তাদের উৎসাহ, দৃঢ়তা ও সংকল্প ছিল উল্লেখ করার মতো।
দুই লাখ নয়, ২০ লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য
২৭ সেপ্টেম্বরের লং মার্চে ২০ লাখ মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে শুধু খাইবার জেলা থেকেই এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সদস্যসংখ্যা ইতোমধ্যে পাঁচ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। সদস্যসংখ্যার দিক থেকে বর্তমানে পাঞ্জাব এগিয়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সোহেল আফ্রিদির প্রত্যাশা, ২৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজপথে নেমে আসবেন।

‘আশা একজন বিশ্বাসীর শক্তি’
তরুণদের হতাশ না হয়ে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানিয়ে সোহেল আফ্রিদি বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও আশাবাদ ধরে রাখা একজন বিশ্বাসীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইমরান খানকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা, পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল করা এবং দেশের শাসনব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার জন্য যারা দায়ী, তাদের প্রতিও তিনি বার্তা দেন।
তার দাবি, বর্তমান ব্যবস্থা নিয়ে পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে ক্ষোভও ক্রমেই প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণদের আবেগ, সংকল্প ও দৃঢ়তা যদি পূর্ণ শক্তিতে রাজপথে প্রকাশ পায়, তাহলে এই আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া কারও পক্ষে সম্ভব হবে না।
২৭ সেপ্টেম্বরকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী
সোহেল আফ্রিদি বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। ওই দিন দেশের মানুষ রাজপথে নেমে নিজেদের ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, খাইবার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন শুধু একটি জেলার কর্মসূচি নয়; বরং পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে একত্রিত করে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















