দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইউরোপের আকাশে দেখা মিলতে যাচ্ছে বিরল এক সূর্যগ্রহণের। বুধবারের এই মহাজাগতিক ঘটনা রাশিয়া ও ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। কোনো কোনো এলাকায় চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলবে, আবার অনেক জায়গায় সূর্যের বড় একটি অংশ আড়াল হয়ে যাবে।
১৯৯৯ সালের পর মূল ভূখণ্ড ইউরোপ থেকে দৃশ্যমান প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে এটি। পূর্ণগ্রহণের রেখা গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশের ওপর দিয়ে যাবে। এসব এলাকায় চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে দেওয়ার ফলে দিনের আকাশ অল্প সময়ের জন্য অন্ধকার হয়ে যাবে। তখন সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল, অর্থাৎ করোনা, স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে।
রাশিয়ায় কোথায় দেখা যাবে
রাশিয়ার মধ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গে সূর্যগ্রহণের দৃশ্য তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে ভালো হওয়ার কথা। মস্কো সময় রাত ৮টার দিকে চাঁদ সূর্যের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে শুরু করবে। রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে সূর্যের প্রায় ৮০ শতাংশ ঢেকে যেতে পারে।

তবে সূর্য তখন দিগন্তের খুব কাছে থাকবে। গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কয়েক মিনিট পরই সূর্য অস্ত যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সেন্ট পিটার্সবার্গে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিগন্তের কাছে নিচু অবস্থানে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
মুরমানস্ক, আরখানগেলস্ক ও কালিনিনগ্রাদেও উল্লেখযোগ্য আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগোলে গ্রহণের মাত্রা দ্রুত কমে যাবে। মস্কোতে সূর্যের খুব সামান্য অংশই ঢেকে যাওয়ার কথা, তাও সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ আগে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন রূপ
ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে সূর্যগ্রহণের দৃশ্য একরকম হবে না। কোথাও এটি পূর্ণগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে, আবার কোথাও সূর্যের বড় একটি অংশ ঢেকে যাবে।
বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ইউরোপজুড়ে গ্রহণের প্রভাব দেখা যাবে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী প্রায় বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা।
যুক্তরাজ্যেও সূর্যের বড় অংশ ঢেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এ কারণে দেশটির বড় একটি গৃহস্থালি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে গ্রাহকদের বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

একই সময়ে আরও মহাজাগতিক আয়োজন
সূর্যগ্রহণের সময়ের কাছাকাছি আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ পর্যায় এবং কয়েকটি গ্রহের সারিবদ্ধ অবস্থান। তবে এসব ঘটনা সূর্যগ্রহণের ঠিক একই সময়ে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে না; প্রত্যেকটির পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা সময় উপযোগী হবে।
খালি চোখে সূর্য দেখা বিপজ্জনক
সূর্যগ্রহণ দেখতে গিয়ে চোখের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। এমনকি খুব গাঢ় রঙের সাধারণ সানগ্লাসও চোখের রেটিনাকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না।
দূরবীন, টেলিস্কোপ বা অন্য কোনো অপটিক্যাল যন্ত্রের মাধ্যমে যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া সূর্যের দিকে তাকানো আরও বেশি বিপজ্জনক। সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট গ্রহণচশমা বা সূর্য পর্যবেক্ষণের উপযোগী অনুমোদিত ফিল্টার ব্যবহার করা উচিত।
মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়েও সরাসরি সূর্যের ছবি তোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া দীর্ঘ সময় সূর্যের দিকে ক্যামেরা তাক করালে ক্যামেরার সেন্সর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















