যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ইরানি হুমকি নিয়ে ইসরায়েল যে গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল, সেটিকে সিআইএর কিছু বিশ্লেষক যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে করেননি। তবে ঝুঁকি এড়াতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের নিরাপত্তায় নজিরবিহীন গোপন অভিযান চালায় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সরকার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হত্যার হুমকির তথ্য সিআইএর কাছে পাঠায়। সিআইএর বিশ্লেষকদের একটি অংশ ওই তথ্যকে জোরালো মনে না করলেও বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানানো হয়। এক মার্কিন কর্মকর্তা এটিকে ‘ইসরায়েল থেকে পাওয়া তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সূত্র থেকে নয় এবং কম আস্থার’ তথ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গোপনে বদলে দেওয়া হয় ট্রাম্পের বিমান
৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজটি সম্ভাব্য বৈরী পরিবেশ থেকে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুবিধা রাখে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

এরপর ট্রাম্প প্রথমে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। কিন্তু গোপনে ওই বিমান থেকে নামিয়ে বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে করে তাকে অন্য একটি বিমানে নেওয়া হয়। পরে এয়ার ফোর্সের সি-৩২এ উড়োজাহাজে করে ট্রাম্প ও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ব্রিটেনে পৌঁছান। বিমানটিকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল বিমানঘাঁটি পর্যন্ত নিয়ে যায়।
সিক্রেট সার্ভিসের সিদ্ধান্ত
হোয়াইট হাউস সরাসরি জানায়নি, যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল বা কর্মকর্তারা সেটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছিলেন। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের জীবনের বিরুদ্ধে বহু হুমকি এসেছে, যার মধ্যে ইরানের হুমকিও রয়েছে। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সিক্রেট সার্ভিসের মূল দায়িত্ব এবং সে দায়িত্ব পালনে তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে।
ট্রাম্প নিজেও পরে বলেন, বিকল্প বিমানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সিক্রেট সার্ভিসের ছিল এবং তিনি তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন।
ইরানের হুমকি নিয়ে দীর্ঘ উদ্বেগ
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানি প্রতিশোধের আশঙ্কা বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ হয়ে আছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও আরও বহু শীর্ষ কর্মকর্তার নিহত হওয়ার পর সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে ট্রাম্প অন্তত তিনটি পরিচিত হত্যাচেষ্টার মুখে পড়েছেন। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি তথ্য নিয়ে প্রশ্ন
মার্কিন গোয়েন্দা মহলের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হুমকির তথ্য দিয়ে ইসরায়েল শুধু সতর্ক করতে চায়নি; এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ও ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেও প্রভাব ফেলার চেষ্টা থাকতে পারে।
ইসরায়েল ইরানকে তার সবচেয়ে জরুরি স্বল্পমেয়াদি হুমকি মনে করে। একই সঙ্গে তুরস্কের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও দেশটির উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কাছে পুরো ঘটনাটি আরও পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে। সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















