০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
অভিবাসন অভিযানে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ, মার্কিন এজেন্টদের বিরুদ্ধে গুরুতর তথ্য তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষতি ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি: ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যে ‘কম আস্থা’ ছিল সিআইএর, তবু বদলানো হয় বিমান বিদ্যুৎমন্ত্রী বললেন, লোডশেডিং কমানোর সুযোগ নেই; গ্যাস সংকটে শিল্পে উৎপাদন ক্ষতি ৪০ শতাংশ বই বাছাইয়ে মানুষের রুচিই কেন এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাপে স্মার্টফোন থেকে গাড়ি—সবখানেই মেমোরি চিপের সংকট ১৫০ বছরেও ম্লান হয়নি বায়রয়থ উৎসবের মোহ, ওয়াগনারের সুরে আজও তীর্থযাত্রা টেনিসের ইতিহাসে রেনে রিচার্ডস: পথ দেখানো এক নারীর উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পকে বাঁচাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিক-সরকারি কর্মকর্তারাই কি ‘অজান্তের ঢাল’? আমেরিকার লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা ছয় বিস্ময়, যেখানে প্রকৃতি এখনো নির্জন ও দুর্দান্ত

তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষতি

তীব্র তাপপ্রবাহ, ঝড়, দাবানল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন আর শুধু মানুষের জীবনযাত্রায় দুর্ভোগ তৈরি করছে না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্য নষ্ট হওয়া, বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়া এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠান ও সরকার—দুই পক্ষকেই বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি বেকারির ঘটনা এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। জুনের শুরুতে প্রবল ঝড় ও অসহনীয় গরমের মধ্যে স্টেফানি হার্টের বেকারিতে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন তার প্রতিষ্ঠানে একটি রেস্তোরাঁর জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ৫০০টি আইসক্রিম বার নষ্ট হয়ে যায়। চকলেটজাত পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার মূল্যের কেক, যা সংরক্ষিত ছিল শীতলঘরে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে হার্ট কর্মীদের দিয়ে শীতলঘরে শুকনো বরফ ঢোকান। এতে তার খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলার। এরপর তিনি পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চান। শেষ পর্যন্ত পরদিন বিদ্যুৎ ফিরে আসে এবং কেকগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়।

কিন্তু এই ঘটনা তার উদ্বেগ কমায়নি। বরং গ্রীষ্মকালজুড়ে ঘন ঘন ঝড় ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় তিনি এখন অনেক কেক আগাম তৈরি না করে অর্ডার পাওয়ার পর বানাচ্ছেন। এতে সরবরাহে দেরি হচ্ছে, কাজও অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। আগামী গ্রীষ্মের জন্য তিনি একটি ব্যয়বহুল বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা বসানোর কথাও ভাবছেন।

হার্টের ভাষায়, চরম আবহাওয়ার জন্য কেকের মতো ব্যবসা পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

তাপপ্রবাহে অর্থনীতির ওপর দ্বিমুখী চাপ

Heat, fire, smoke and storms are wreaking havoc on the economy

শিকাগোর মতো একটি শহরের কয়েক হাজার ব্যবসার ক্ষতি একসঙ্গে বিবেচনা করলে সমস্যার ব্যাপ্তি বোঝা যায়। প্রবল বৃষ্টিতে বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়ছে, একই সময়ে প্রচণ্ড গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের চাহিদা বেড়ে গিয়ে বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

আর এই ক্ষতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, দাবানল, ধোঁয়া, ঝড় ও অতিবৃষ্টির কারণে ব্যবসা এবং পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

চলতি জুলাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে নথিভুক্ত ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুলাই। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলেও জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ।

অর্থনীতিবিদেরা দীর্ঘদিন ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চরম আবহাওয়ার ঘটনা ব্যবসার জন্য এমন বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করছে, যা আর উপেক্ষা করা কঠিন।

উৎপাদন কমছে, বাড়ছে বিদ্যুতের খরচ

অতিরিক্ত গরম অর্থনীতিতে প্রধানত দুটি পথে আঘাত করে। প্রথমত, এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ও জটিলতা বাড়ে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ কিংবা গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র—প্রায় সব ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থাই অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কম দক্ষ হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে মানুষ ও প্রতিষ্ঠান গরম থেকে বাঁচতে আরও বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ব্যবহার করে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা একদিকে বাড়ে, অন্যদিকে উৎপাদনক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফল হিসেবে বিদ্যুতের দাম বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকিও বাড়ে।

দ্বিতীয় বড় প্রভাব পড়ে মানুষের উৎপাদনশীলতায়। প্রচণ্ড গরমে নির্মাণকাজের সময় কমিয়ে দিতে হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় কর্মীদের কর্মক্ষমতাও কমে যায়। আবার অতিরিক্ত তাপ, দাবানলের ধোঁয়া কিংবা অন্যান্য দুর্যোগের কারণে স্কুল ও শিশুসেবা কেন্দ্র বন্ধ হলে অভিভাবকদের কর্মস্থলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে স্কুলভিত্তিক শিশুসেবা এক দিন বন্ধ থাকলে ছোট সন্তানের মায়েদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা প্রায় এক শতাংশ কমে যায়।

Heat, Fire, Smoke and Storms Are Wreaking Havoc on the Economy - The New  York Times

তাপের প্রভাব ধনী দেশেও

অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা শুধু দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতেও এর প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানার পর কয়েক মাস পর্যন্ত সেখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

তবে তাপপ্রবাহের সরাসরি ক্ষতির বাইরেও রয়েছে দাবানল, ঝড় ও বন্যার মতো আরও বিধ্বংসী বিপদ। চলতি বছর ইউরোপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে, শহরগুলোকে ধোঁয়ায় ঢেকে দিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা

একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর যদি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উষ্ণ পাঁচ বছরের মতো আবহাওয়া দেখা যায়, তাহলে ফ্রান্স, জাপান, ইতালি, জার্মানি ও স্পেনের মতো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনৈতিক উৎপাদন ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাভাবিক পূর্বাভাসের তুলনায় পাঁচ থেকে সাত শতাংশ কমে যেতে পারে।

এর প্রভাব সরকারি অর্থনীতিতেও পড়বে। অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদন ও ভোগ কমলে কর আদায় কমবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতে সরকারের ব্যয় বাড়বে।

ইউরোপের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবছর সরকারি বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে ঋণের বোঝায় থাকা দেশগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পূর্বাভাসও সম্ভবত পুরো ঝুঁকি তুলে ধরছে না। কারণ ২০২৬ সালেই তাপমাত্রা পূর্ববর্তী চরম পরিস্থিতির অনেক পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Heat, Fire, Smoke and Storms Are Wreaking Havoc on the Economy - The New  York Times

কৃষি ও খাদ্য সরবরাহেও আঘাত

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য উৎপাদনেও পড়ছে। সামনে শরৎকাল এলেও স্বস্তি ফেরার বদলে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে ভয়াবহ খরা এবং অন্য অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এতে ফসল বোনা ও কাটার সময়সূচি ব্যাহত হবে। গম, ভুট্টা ও চিনির মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের উৎপাদনও কমে যেতে পারে।

অতিরিক্ত গরমে শুধু ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। মুরগিও কম ডিম পাড়ে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে উৎপাদন কমে যেতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শীতলীকরণব্যবস্থার সমস্যা। বিদ্যুৎ চলে গেলে কৃষিপণ্য ও খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও চাপে

জলবায়ুজনিত সংকট এমন এক সময়ে অর্থনীতিতে আঘাত করছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সার সরবরাহে সংকট তৈরি করেছে।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর চাপ অনুভব করতে পারে। কিন্তু সুদের হার বাড়ালে খাদ্য উৎপাদন বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ে না; বরং ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

ফলে জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় শুধু মুদ্রানীতি ব্যবহার করা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

জলবায়ু সুরক্ষায় বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন

চরম আবহাওয়ার ক্ষতি ঠেকাতে বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচে নেওয়া, অতিরিক্ত সূর্যের তাপ থেকে ফসল রক্ষা করা, উন্নত শীতলীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অবকাঠামোকে জলবায়ু সহনশীল করে তোলার মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থায় আগাম যে অর্থ ব্যয় হবে, ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর মাধ্যমে তার চেয়েও বেশি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে পুরোপুরি সুরক্ষিত অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিবছর বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।

স্বল্পমেয়াদে বিভিন্ন দেশ কাজের সময়সূচি পরিবর্তন, শীতল আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এবং শ্রমিকদের নিয়মিত পানি ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেসব দেশে আগে ব্যাপকভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না, সেখানেও এখন এর ব্যবহার বাড়ছে।

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো দেশেও গরম মোকাবিলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবহার বাড়ছে।

শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে সমাধান হবে না

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকে জলবায়ু পরিবর্তনের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ এতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। অথচ অতিরিক্ত গরমের সময়ই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে।

মাঝারি মেয়াদে তাই এমন ভবন নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। শহরে বেশি গাছপালা ও সবুজ এলাকা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সবচেয়ে উষ্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের শীতলীকরণব্যবস্থাকে শুধু যন্ত্রনির্ভর না দেখে পুরো নগর ও অবকাঠামো ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

অভিযোজন শুধু সময় কিনবে, সমাধান করবে না

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা এখন জরুরি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি সীমিত করার একমাত্র পথ হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়তে না দেওয়া।

কারণ তাপপ্রবাহ, দাবানল, ঝড়, বন্যা ও খাদ্যসংকট মোকাবিলায় যত বেশি অর্থ ব্যয় করা হবে, ভবিষ্যতে সেই ব্যয় আরও বাড়তে থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো, জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উদ্যোগ মানুষকে কিছুটা সময় কিনে দিতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকলে সেই অভিযোজনের খরচও একসময় অসহনীয় হয়ে উঠবে। তাই এখন থেকেই নিঃসরণ কমানো এবং অর্থনীতি ও অবকাঠামোকে জলবায়ু সহনশীল করে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।

জলবায়ু পরিবর্তন তাই আর ভবিষ্যতের কোনো দূরবর্তী অর্থনৈতিক হুমকি নয়। শিকাগোর একটি বেকারির গলে যাওয়া আইসক্রিম ও ঝুঁকিতে পড়া কেক থেকে শুরু করে ইউরোপের দাবানল এবং বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ—সবখানেই এর আর্থিক মূল্য এখন দৃশ্যমান।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিবাসন অভিযানে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ, মার্কিন এজেন্টদের বিরুদ্ধে গুরুতর তথ্য

তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষতি

০৩:২১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র তাপপ্রবাহ, ঝড়, দাবানল ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন আর শুধু মানুষের জীবনযাত্রায় দুর্ভোগ তৈরি করছে না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্য নষ্ট হওয়া, বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়া এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠান ও সরকার—দুই পক্ষকেই বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর একটি বেকারির ঘটনা এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। জুনের শুরুতে প্রবল ঝড় ও অসহনীয় গরমের মধ্যে স্টেফানি হার্টের বেকারিতে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন তার প্রতিষ্ঠানে একটি রেস্তোরাঁর জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ৫০০টি আইসক্রিম বার নষ্ট হয়ে যায়। চকলেটজাত পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার মূল্যের কেক, যা সংরক্ষিত ছিল শীতলঘরে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে হার্ট কর্মীদের দিয়ে শীতলঘরে শুকনো বরফ ঢোকান। এতে তার খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলার। এরপর তিনি পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চান। শেষ পর্যন্ত পরদিন বিদ্যুৎ ফিরে আসে এবং কেকগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়।

কিন্তু এই ঘটনা তার উদ্বেগ কমায়নি। বরং গ্রীষ্মকালজুড়ে ঘন ঘন ঝড় ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় তিনি এখন অনেক কেক আগাম তৈরি না করে অর্ডার পাওয়ার পর বানাচ্ছেন। এতে সরবরাহে দেরি হচ্ছে, কাজও অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। আগামী গ্রীষ্মের জন্য তিনি একটি ব্যয়বহুল বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা বসানোর কথাও ভাবছেন।

হার্টের ভাষায়, চরম আবহাওয়ার জন্য কেকের মতো ব্যবসা পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

তাপপ্রবাহে অর্থনীতির ওপর দ্বিমুখী চাপ

Heat, fire, smoke and storms are wreaking havoc on the economy

শিকাগোর মতো একটি শহরের কয়েক হাজার ব্যবসার ক্ষতি একসঙ্গে বিবেচনা করলে সমস্যার ব্যাপ্তি বোঝা যায়। প্রবল বৃষ্টিতে বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়ছে, একই সময়ে প্রচণ্ড গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের চাহিদা বেড়ে গিয়ে বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

আর এই ক্ষতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, দাবানল, ধোঁয়া, ঝড় ও অতিবৃষ্টির কারণে ব্যবসা এবং পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

চলতি জুলাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে নথিভুক্ত ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুলাই। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলেও জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ।

অর্থনীতিবিদেরা দীর্ঘদিন ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চরম আবহাওয়ার ঘটনা ব্যবসার জন্য এমন বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করছে, যা আর উপেক্ষা করা কঠিন।

উৎপাদন কমছে, বাড়ছে বিদ্যুতের খরচ

অতিরিক্ত গরম অর্থনীতিতে প্রধানত দুটি পথে আঘাত করে। প্রথমত, এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ও জটিলতা বাড়ে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ কিংবা গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র—প্রায় সব ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থাই অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কম দক্ষ হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে মানুষ ও প্রতিষ্ঠান গরম থেকে বাঁচতে আরও বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ব্যবহার করে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা একদিকে বাড়ে, অন্যদিকে উৎপাদনক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফল হিসেবে বিদ্যুতের দাম বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকিও বাড়ে।

দ্বিতীয় বড় প্রভাব পড়ে মানুষের উৎপাদনশীলতায়। প্রচণ্ড গরমে নির্মাণকাজের সময় কমিয়ে দিতে হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় কর্মীদের কর্মক্ষমতাও কমে যায়। আবার অতিরিক্ত তাপ, দাবানলের ধোঁয়া কিংবা অন্যান্য দুর্যোগের কারণে স্কুল ও শিশুসেবা কেন্দ্র বন্ধ হলে অভিভাবকদের কর্মস্থলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে স্কুলভিত্তিক শিশুসেবা এক দিন বন্ধ থাকলে ছোট সন্তানের মায়েদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা প্রায় এক শতাংশ কমে যায়।

Heat, Fire, Smoke and Storms Are Wreaking Havoc on the Economy - The New  York Times

তাপের প্রভাব ধনী দেশেও

অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা শুধু দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতেও এর প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানার পর কয়েক মাস পর্যন্ত সেখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

তবে তাপপ্রবাহের সরাসরি ক্ষতির বাইরেও রয়েছে দাবানল, ঝড় ও বন্যার মতো আরও বিধ্বংসী বিপদ। চলতি বছর ইউরোপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে, শহরগুলোকে ধোঁয়ায় ঢেকে দিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার আশঙ্কা

একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর যদি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উষ্ণ পাঁচ বছরের মতো আবহাওয়া দেখা যায়, তাহলে ফ্রান্স, জাপান, ইতালি, জার্মানি ও স্পেনের মতো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনৈতিক উৎপাদন ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাভাবিক পূর্বাভাসের তুলনায় পাঁচ থেকে সাত শতাংশ কমে যেতে পারে।

এর প্রভাব সরকারি অর্থনীতিতেও পড়বে। অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদন ও ভোগ কমলে কর আদায় কমবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতে সরকারের ব্যয় বাড়বে।

ইউরোপের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবছর সরকারি বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে ঋণের বোঝায় থাকা দেশগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পূর্বাভাসও সম্ভবত পুরো ঝুঁকি তুলে ধরছে না। কারণ ২০২৬ সালেই তাপমাত্রা পূর্ববর্তী চরম পরিস্থিতির অনেক পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Heat, Fire, Smoke and Storms Are Wreaking Havoc on the Economy - The New  York Times

কৃষি ও খাদ্য সরবরাহেও আঘাত

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য উৎপাদনেও পড়ছে। সামনে শরৎকাল এলেও স্বস্তি ফেরার বদলে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে ভয়াবহ খরা এবং অন্য অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এতে ফসল বোনা ও কাটার সময়সূচি ব্যাহত হবে। গম, ভুট্টা ও চিনির মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের উৎপাদনও কমে যেতে পারে।

অতিরিক্ত গরমে শুধু ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। মুরগিও কম ডিম পাড়ে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে উৎপাদন কমে যেতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শীতলীকরণব্যবস্থার সমস্যা। বিদ্যুৎ চলে গেলে কৃষিপণ্য ও খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও চাপে

জলবায়ুজনিত সংকট এমন এক সময়ে অর্থনীতিতে আঘাত করছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সার সরবরাহে সংকট তৈরি করেছে।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর চাপ অনুভব করতে পারে। কিন্তু সুদের হার বাড়ালে খাদ্য উৎপাদন বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ে না; বরং ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

ফলে জলবায়ুজনিত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় শুধু মুদ্রানীতি ব্যবহার করা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

জলবায়ু সুরক্ষায় বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন

চরম আবহাওয়ার ক্ষতি ঠেকাতে বিদ্যুতের লাইন মাটির নিচে নেওয়া, অতিরিক্ত সূর্যের তাপ থেকে ফসল রক্ষা করা, উন্নত শীতলীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অবকাঠামোকে জলবায়ু সহনশীল করে তোলার মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থায় আগাম যে অর্থ ব্যয় হবে, ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর মাধ্যমে তার চেয়েও বেশি অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে পুরোপুরি সুরক্ষিত অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিবছর বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।

স্বল্পমেয়াদে বিভিন্ন দেশ কাজের সময়সূচি পরিবর্তন, শীতল আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এবং শ্রমিকদের নিয়মিত পানি ও বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেসব দেশে আগে ব্যাপকভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না, সেখানেও এখন এর ব্যবহার বাড়ছে।

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো দেশেও গরম মোকাবিলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবহার বাড়ছে।

শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে সমাধান হবে না

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকে জলবায়ু পরিবর্তনের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ এতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। অথচ অতিরিক্ত গরমের সময়ই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে।

মাঝারি মেয়াদে তাই এমন ভবন নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যেগুলো স্বাভাবিকভাবেই তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। শহরে বেশি গাছপালা ও সবুজ এলাকা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সবচেয়ে উষ্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের শীতলীকরণব্যবস্থাকে শুধু যন্ত্রনির্ভর না দেখে পুরো নগর ও অবকাঠামো ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

অভিযোজন শুধু সময় কিনবে, সমাধান করবে না

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা এখন জরুরি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি সীমিত করার একমাত্র পথ হলো বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়তে না দেওয়া।

কারণ তাপপ্রবাহ, দাবানল, ঝড়, বন্যা ও খাদ্যসংকট মোকাবিলায় যত বেশি অর্থ ব্যয় করা হবে, ভবিষ্যতে সেই ব্যয় আরও বাড়তে থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো, জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উদ্যোগ মানুষকে কিছুটা সময় কিনে দিতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকলে সেই অভিযোজনের খরচও একসময় অসহনীয় হয়ে উঠবে। তাই এখন থেকেই নিঃসরণ কমানো এবং অর্থনীতি ও অবকাঠামোকে জলবায়ু সহনশীল করে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।

জলবায়ু পরিবর্তন তাই আর ভবিষ্যতের কোনো দূরবর্তী অর্থনৈতিক হুমকি নয়। শিকাগোর একটি বেকারির গলে যাওয়া আইসক্রিম ও ঝুঁকিতে পড়া কেক থেকে শুরু করে ইউরোপের দাবানল এবং বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ—সবখানেই এর আর্থিক মূল্য এখন দৃশ্যমান।