চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৮ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরের রেমিট্যান্স বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। শুধু ২৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই এসেছে ৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অর্থবছরের হিসাবে এখনো এগিয়ে
পুরো অর্থবছরের চিত্র অবশ্য ভালো। ১ জুলাই থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৮৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে জুলাই ও আগস্টে প্রবাসী আয় যে গতিতে বেড়েছিল, সেপ্টেম্বরে সেই গতি অনেকটাই কমেছে। মাসের প্রথম ২১ দিনে এসেছিল প্রায় ২০৬ কোটি ডলার, পরের সাত দিনে যোগ হয়েছে আরও প্রায় ৪৭ কোটি ডলার। মাসের গড়ে দিনে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ডলার, ফলে ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রবাহ ছিল গড়ের চেয়ে কিছুটা বেশি।
জ্বালানির বাড়তি বিল, বাড়তি ডলারের চাপ
সেপ্টেম্বরের রেমিট্যান্সের এই গতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি। আমদানির দায় মেটানো, রিজার্ভ ধরে রাখা আর টাকার মান স্থিতিশীল রাখা, সবখানেই এর ভূমিকা আছে। এখন সেই প্রয়োজন আরও বেশি। হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকটে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির খরচ বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি আমদানি বিল মেটাতে বাড়তি ডলার লাগবে, যার বড় অংশ আসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ থেকে। বাজারে ডলারের সরবরাহ স্বস্তিদায়ক থাকলে আমদানিকারকদের ঋণপত্র খুলতেও সুবিধা হয়।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আশা
সামনে একটি সম্ভাব্য সুখবর আছে। মালয়েশিয়ায় ছয় মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরের শেষে শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে এর সুফল রেমিট্যান্সে পৌঁছাতে সময় লাগবে। কর্মীরা যাবেন ধাপে ধাপে, আর প্রথম বেতন দেশে আসতে আরও কিছু সময় লাগে। আগের দফায়, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে, একজন কর্মীর গড় অভিবাসন খরচ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, যেখানে সরকার নির্ধারিত খরচ ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। ফলে নতুন কর্মীদের প্রথম কয়েক মাসের আয়ের বড় অংশ চলে যায় ধারদেনা শোধে। তাই মালয়েশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বড় শ্রমবাজারগুলোর গতিও নজরে রাখতে হবে।
চূড়ান্ত হিসাব ১ অক্টোবর
পুরো সেপ্টেম্বরের চূড়ান্ত হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করবে বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর। শেষ দুই দিনে গড়ে দৈনিক ৯ কোটি ডলার এলে মাসের মোট অঙ্ক ২৭০ কোটি ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে। তখনই বোঝা যাবে, সেপ্টেম্বরের রেমিট্যান্সে এই শ্লথগতি এক মাসের ঘটনা, নাকি অর্থবছরের বাকি সময়ের জন্য সতর্কসংকেত।












