দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে সহ-পাইলট পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে যাত্রী ও ক্রুদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে। সংঘর্ষের সময় বিমানটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
ঘটনার পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে যাত্রীদের বিকল্প বিমানে করে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নেওয়া হয়।
ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে কাবু করেন যাত্রীরা

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করার পর ককপিটে হামলার ঘটনা ঘটে। সহ-পাইলট পাইলটকে ছুরিকাঘাত করার পর উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে।
আহত পাইলট রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই সময় বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করেন।
যাত্রী আসাফ রাজুয়ান জানান, পরিবার ও সন্তানকে বাঁচাতে তিনি কোনো কিছু না ভেবেই ককপিটে ছুটে গিয়েছিলেন। সংঘর্ষের পর তার কপালেও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
‘অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছি’
বিমানে থাকা ১৭৪ জনের অধিকাংশই ইসরায়েলি নাগরিক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দীর্ঘ সময়ের যাত্রা ও জরুরি অবতরণের পর যাত্রীরা ইসরায়েলে ফিরে ঘটনাটিকে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

যাত্রী লিতাল শাচাফ বলেন, তারা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। তার ভাষায়, পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ ও উন্মত্ত; শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দুই পাইলটকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানায়, ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে শরীরের ওপরের অংশে আঘাতের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার অবস্থা মৃদু।
সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সৌদি আরব
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা সহ-পাইলটকে ওমানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে তার হামলার উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন।
ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ঘটনার মূল কারণ এখনো জানা যায়নি এবং আগাম কোনো অনুমান না করার জন্য সতর্ক করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও ঘটনাটিকে একটি নিরাপত্তাজনিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ইসরায়েলে বাড়ছে পাইলট যাচাই
ঘটনার পর ইসরায়েল জানিয়েছে, দেশটিতে যেসব পাইলট বিমান নিয়ে প্রবেশ করবেন, তাদের পরিচয় আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। নেতানিয়াহুর এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি পাইলটের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের বিষয়ে নিরাপত্তা যাচাই করা হবে।
দুবাই-তেল আবিব রুটটি ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে জনপ্রিয় এবং ফ্লাইদুবাই এই পথে প্রতিদিন যাতায়াত করে। সাধারণত বিমানটি সৌদি আরব ও জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহার করে।
২০২০ সালে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বেড়েছে। এমন সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে আঞ্চলিক বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি যে বিবরণ শুনেছেন, সেটি নেতানিয়াহুর কাছ থেকে পাওয়া এবং সেটি সম্পূর্ণ সত্য কি না, তা তিনি নিজে নিশ্চিত করেননি।












