২০২৭ সালের আইপিএলের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক দায়িত্ব নিচ্ছেন হেমাং বাদানির জায়গায়। বাদানি গত দুই মৌসুম দলটির কোচ ছিলেন। দিল্লি ক্যাপিটালস এখনো আইপিএলের শিরোপা জেতেনি। সেই অপেক্ষা ঘোচানোই হবে সৌরভ গাঙ্গুলীর মূল চ্যালেঞ্জ। দায়িত্ব পেয়ে তিনি বলেছেন, নতুন মৌসুমে একটি শক্তিশালী ও নির্ভীক দল গড়তে চান।
দিল্লির সঙ্গে গাঙ্গুলীর সম্পর্ক নতুন নয়। ২০১৯ সালে তিনি দলটির উপদেষ্টা ছিলেন। পরে দিল্লির পুরুষ ও নারী দলের ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটোয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ ছিলেন গাঙ্গুলী। সেখান থেকেই পূর্ণাঙ্গ কোচিং ক্যারিয়ারে তাঁর যাত্রা শুরু। দক্ষিণ আফ্রিকার লিগের অভিজ্ঞতা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কোচিংয়ে তাঁর কাজে আসবে।
দিল্লির জন্য সময়টা ভালো যাচ্ছে না। ২০২৬ সালের আইপিএলে ১৪ ম্যাচে ৭ জয় নিয়ে দলটি ছিল ষষ্ঠ স্থানে। টানা দ্বিতীয় মৌসুম তারা প্লে-অফে উঠতে পারেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজির চেয়ারম্যান পার্থ জিন্দাল বলেছেন, গাঙ্গুলী দিল্লি পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর বিশ্বাস, গাঙ্গুলীর অধীনে দল শিরোপার লড়াইয়ের জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত থাকবে। সহ-মালিক কিরণ কুমার গ্রান্ধি বলেছেন, দল সম্পর্কে গাঙ্গুলীর বোঝাপড়া, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব খুব কাজে লাগবে। দলের ভারতীয় তরুণদের সঙ্গে বিদেশি তারকাদের মেলবন্ধন ঘটানোই হবে বড় পরীক্ষা।
খেলোয়াড় হিসেবে গাঙ্গুলীর অর্জন বড়। ভারতের হয়ে ১১৩টি টেস্ট ও ৩১১টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। দুই সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রান ১৮ হাজারের বেশি। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে ভারত ফাইনালে উঠেছিল। আইপিএলে তিনি খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্স ও পুনে ওয়ারিয়র্সের হয়ে। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিটালস ২০২০ সালে একবার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি।
অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয় দলে লড়াকু মানসিকতা এনেছিলেন গাঙ্গুলী। তাঁর নেতৃত্বেই উঠে এসেছিল একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার। কোচ হিসেবেও তরুণদের ওপর আস্থা রাখার নীতি তিনি দিল্লিতে আনতে পারেন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্য আর কোচ হিসেবে সাফল্য এক নয়। আইপিএলের মতো চাপের টুর্নামেন্টে সেই পরীক্ষা এবার দিতে হবে তাঁকে।
বাংলাদেশেও সৌরভ গাঙ্গুলী জনপ্রিয় নাম। বাঙালি অধিনায়ক হিসেবে তাঁর উত্থান দুই বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আলাদা আবেগের। তাই দিল্লির ডাগআউটে তাঁর নতুন যাত্রা নিয়ে আগ্রহ থাকবে এ দেশের দর্শকদেরও। আগামী মৌসুমের নিলামে তিনি কেমন দল সাজান, সেখান থেকেই বোঝা যাবে তাঁর পরিকল্পনা। দিল্লির ঘরের মাঠ অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম। সেখানে উইকেটের ধরন বুঝে দল সাজানোও নতুন কোচের বড় কাজ হবে। আসর শুরুর আগে নিলামেই তাঁকে সেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।











