রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের জেরে বন্ধ হয়ে যায় তিনটি মেট্রোস্টেশনের ট্রেন চলাচল। এ সময় মিরপুর-১১ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
রোববার সকাল থেকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্তৃত হয়। এতে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী এলাকায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ সময় শ্রমিকদের একাংশ ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় মেট্রোরেলের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে মেট্রোরেলের মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন
পোশাকশ্রমিকদের মূল দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা। শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান মজুরিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে পরিবার নিয়ে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে গিয়ে তাঁদের নিয়মিত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত ২৯ অক্টোবর থেকে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। এর আগে শনিবারও মিরপুরের শাহ আলী ও কালশী এলাকায় আন্দোলন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আশুলিয়া ও গাজীপুরেও শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
মজুরি বোর্ড গঠনের পরও থামেনি বিক্ষোভ
শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় সরকার ছয় সদস্যের একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরও আন্দোলন থামেনি। শ্রমিকদের একাংশ দ্রুত মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ চান।
পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত। এ খাতে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকলে শ্রমিকদের অসন্তোষও আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিরপুরের ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে, শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দ্রুত সমাধান না হলে তার প্রভাব কারখানার গণ্ডি ছাড়িয়ে নগরজীবনেও ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি নিয়ে কার্যকর আলোচনা যেমন জরুরি, তেমনি সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।












