রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাওয়ার খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রোববার (১ নভেম্বর) অবরোধের ১১তম দিনে একটি পক্ষ সাময়িকভাবে অবরোধ শিথিল করলেও অন্য একটি সংগঠন পাল্টা অবরোধের ডাক দিয়েছে। এতে সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ি ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বাধাগ্রস্ত রয়েছে।
সকাল থেকে বাঘাইহাট বাজার ও সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যবর্তী সড়কে কিছু ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পেয়েছেন। তবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।
মানবিক বিবেচনায় অবরোধ শিথিল
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন গত ২২ অক্টোবর থেকে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চালিয়ে আসছে। সংগঠন দুটি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সমর্থনপুষ্ট।
রোববার মানবিক বিবেচনার কথা উল্লেখ করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি। তাদের এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত দিনের কিছু সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল।
তবে এই ঘোষণার পরও সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়নি।
পাল্টা অবরোধে নতুন করে অচলাবস্থা
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের অবরোধ শিথিলের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি পাল্টা অবরোধের ডাক দেয়। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
এরপর রোববার সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি, বাঘাইছড়ি ও লংগদু থেকে সাজেকের দিকে যাওয়া যানবাহনে বাধা দেওয়া হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন অবরোধকারীরা।
ফলে অবরোধ শিথিলের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারাও যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে সমস্যায় পড়েছেন।
পিসিজেএসএস সদস্যদের সরানোর দাবি
অবরোধকারী দুটি সংগঠনের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সদস্যদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই দাবিতেই তারা ২২ অক্টোবর থেকে সড়কে অবরোধ চালিয়ে আসছে।
সংগঠন দুটি জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল রাখার পর সোমবার থেকে আবারও আগের মতো অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে।
ফলে সোমবার থেকে সাজেক সড়কে যান চলাচল আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। অবরোধ ও পাল্টা অবরোধের কারণে পর্যটনকেন্দ্রটির সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।












