রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ফটোকপি ও স্টেশনারি দোকানে ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবির মিলন। তাঁর দাবি, অনলাইনে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ফলে সাধারণ যাত্রীদের বেশি দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি জানান, রাজধানীর শ্যামলীতে নিজের বাসার পাশের একটি ফটোকপি ও স্টেশনারি দোকানে ট্রেনের টিকিট পাওয়া গেছে। তাঁর ধারণা, শুধু শ্যামলী নয়, অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের দোকানে টিকিট বিক্রির ঘটনা থাকতে পারে।
মাহবুব কবির মিলন তাঁর পোস্টে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকায় খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ যাত্রীদের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকলেও সেই টিকিট পরে বেশি দামে দোকানে দোকানে বিক্রি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রেলমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগের বিষয়ে রেলমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনাও করেছেন সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব।
রেলমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, অনলাইনে টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তে আমলে নেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
মাহবুব কবির মিলনের মতে, অনলাইনে যে আগে টিকিট কাটতে পারবেন, তিনিই টিকিট পাবেন। কিন্তু সেই টিকিট প্রকৃত যাত্রীর কাছে না গিয়ে কালোবাজারির মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে রেলওয়ের কার্যকর সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।
সার্ভার ও সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট নিয়েও অভিযোগ
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, রেলের টিকিট বিক্রির সার্ভারে কারসাজির অভিযোগ এবং সন্দেহজনক মোবাইল নম্বর ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রায় ১০ হাজার সন্দেহজনক মোবাইল নম্বর বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপের পরও টিকিটের কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি ব্যঙ্গ করে লেখেন, মন্ত্রী, রেলওয়ে, সরকার ও মন্ত্রণালয় সবাই সন্তুষ্ট থাকলেও সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাঁর পোস্টের মূল বক্তব্য, অনলাইনে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া চালু থাকলেই সেটিকে স্বচ্ছ বলা যায় না; টিকিট প্রকৃত যাত্রীর হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় অনেক সময় সাধারণ যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন না। এ অবস্থায় দোকানে বেশি দামে টিকিট পাওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা রেলের টিকিট ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করবে।












