যুক্তরাজ্যের অংশ উত্তর আয়ারল্যান্ডকে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত করার পক্ষে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
রোববার আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের মালিকানাধীন একটি গলফ রিসোর্টে একটি গলফ প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে এক করার পক্ষে আগের দিনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।
ট্রাম্প বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড পাশাপাশি থাকা সত্ত্বেও আলাদা অবস্থায় রয়েছে—এটিকে তাঁর কাছে একসঙ্গে করে দেওয়ার বিষয়টি খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। এর মাধ্যমে তিনি শনিবার ডাবলিন সফরের সময় দেওয়া মন্তব্যের প্রতিই আবার সমর্থন জানান।
এর আগে ডাবলিন সফরে ট্রাম্প বলেছিলেন, আয়ারল্যান্ডের ঐক্য দ্রুত বাস্তবায়িত হলে তিনি খুশি হবেন। তাঁর এমন বক্তব্যে আয়ারল্যান্ডে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও যুক্তরাজ্যপন্থী রাজনীতিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উত্তর আয়ারল্যান্ড ও লন্ডনের কয়েকজন ব্রিটিশপন্থী রাজনীতিকও ট্রাম্পের মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প অবশ্য ভিন্ন অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই কথা বলতে চান না এবং বিষয়টি অন্য কোনো দিনের জন্য রেখে দিতে চান।
স্কটল্যান্ড ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হওয়ার প্রস্তাবের ওপর গণভোটে স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। দেশটিতে ট্রাম্প পরিবারেরও একটি গলফ রিসোর্ট রয়েছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। একই সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে গণভোটের বিষয়েও তিনি বিরোধিতা করেছেন।
ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। পরে রোববার ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মার্টিন বলেন, কিছু ইউনিয়নপন্থী রাজনীতিকের প্রতিক্রিয়া অতিরঞ্জিত ছিল।
মার্টিন বলেন, ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে অন্য ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেন, তাই তাঁর বক্তব্যকে বিস্ময়কর হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে এর সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও জানান তিনি।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী ও ইউনিয়নপন্থী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সংঘাত ছিল। জাতীয়তাবাদীরা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের একীকরণ চায়, আর ইউনিয়নপন্থীরা অঞ্চলটিকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেই রাখতে চায়।
১৯৯৮ সালের একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রায় তিন দশকের সহিংসতার অবসান ঘটে। সেই চুক্তি জাতীয়তাবাদী ও ইউনিয়নপন্থী দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি করে।
মার্টিন নিজে আয়ারল্যান্ডের ঐক্যের পক্ষে থাকলেও তিনি মনে করেন, এখনই সেই ঐক্য বাস্তবায়নের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহেই যদি এ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেটি পাস হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্য তাই শুধু আয়ারল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর নিজের অবস্থান ঐক্যের পক্ষে হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তিনি মনে করছেন না যে তা এখনই ঘটতে যাচ্ছে।












