মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে চীনা কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপগ্রহচিত্র সরবরাহের অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে বিষয়টি অনেকটা এড়িয়ে গেছেন। অভিযোগটি সামনে এসেছে এমন এক হামলাকে ঘিরে, যাতে গত জুলাইয়ে জর্ডানে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে তিনি এ বিষয়টি তুলবেন কি না। তবে সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতাকে একই ধরনের বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা মূলত আমরা যা করি, সেটাই করে।’ চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে—এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন বলেন চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, আমি বলি, ঠিক বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, জুলাইয়ের ওই হামলার আগে ইরান চীনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটির উপগ্রহচিত্র সংগ্রহ করেছিল।
তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। মার্কিন কর্মকর্তারা উপগ্রহচিত্র সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে চীনা সরকার সরাসরি ওই ঘটনায় জড়িত ছিল—এমন অভিযোগও করা হয়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের বিস্তৃত বিরোধগুলোকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকটি নিশ্চিত করেনি।
আয়ারল্যান্ড সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে ট্রাম্প আবারও শির সঙ্গে তার ভালো সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি যুক্তিসংগত আচরণ করেছেন এবং আমরাও যুক্তিসংগত আচরণ করছি।’
ট্রাম্পের এসব মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগকে সামনে এনে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত করার বদলে তিনি বিষয়টি আপাতত এড়িয়ে যেতে চাইছেন। একই সঙ্গে শির সঙ্গে আসন্ন সম্ভাব্য বৈঠকের আগে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার একটি রাজনৈতিক বার্তাও তার বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে।












