মিয়ানমারের জন্য গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত সংস্থা আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না এবং আইনের মান নির্ধারণের এখতিয়ার এককভাবে কোনো রাষ্ট্রের হাতে থাকতে পারে না। তিনি সদস্য দেশগুলোর কাছে সংস্থার কাজে অব্যাহত সহায়তা চেয়েছেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ষোলোশোরও বেশি সূত্র ও সাড়ে সাতশো সাক্ষীর সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চেক প্রজাতন্ত্র, আইসল্যান্ড, মালদ্বীপ, মাল্টা, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও জাপান এই অধিবেশনে সংস্থার কাজে সমর্থন জানিয়েছে।
তবে বেসামরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, চীন, রাশিয়া ও কিছু আসিয়ান দেশ মিয়ানমার প্রশ্নে এখনও এমন ভাষা ব্যবহার করছে যা কার্যত জান্তাকে রক্ষাকবচ দেয়। চিন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন, বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে এবং সিস্টার্স টু সিস্টার্সের মতো সংগঠন সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো নির্যাতনের নথিভুক্তি ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জবাবদিহিতার দাবি তুলে আসছে, আর আইআইএমএমের এই আহ্বান সেই অবস্থানকেই আরও জোরালো করছে।












