নেপালে সাম্প্রতিক প্রলয়ংকরী বন্যার তিন সপ্তাহ পরও প্রায় পাঁচ হাজার দুইশো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়শো ছত্রিশ জন বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ মরদেহও এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা যতটা প্রয়োজন ছিল, বাস্তবে ততটা গতি পায়নি।
বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন কেন এই বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক সাড়া তুলনামূলক নীরব রয়ে গেল। আল জাজিরার একটি বিশ্লেষণে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, জলবায়ু সংকটে নিজেদের ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করতে ধনী দেশগুলোর অনীহাই এই নীরবতার প্রধান কারণ, যদিও হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান চরম আবহাওয়ার সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সম্পর্ক বিজ্ঞানীরা বহুবার তুলে ধরেছেন।
নেপালের ভূপ্রকৃতিগত ভঙ্গুরতা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আর হাজার হাজার পরিবার এখনও ত্রাণ শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এখনও পর্যাপ্ত মাত্রায় পৌঁছায়নি বলে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জন্য নেপালের এই বিপর্যয় একটি সতর্কবার্তা, কারণ হিমালয়ের বরফগলা পানি ও বর্ষার ধরন পরিবর্তনের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা হয়ে বাংলাদেশেও পৌঁছায়। জলবায়ু-বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক সাড়ার এই ঘাটতি নিয়ে নেপালের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নিজস্ব দুর্যোগ-কূটনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।












