চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে ব্যস্ততা বাড়ছে। এরই মধ্যে শিকে সম্মানে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে কারা আমন্ত্রণ পাচ্ছেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই নৈশভোজের আমন্ত্রণ পাওয়া এখন এতটাই কঠিন যে তাঁর নিজের পরিচিত অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও তিনি আমন্ত্রণ জানাতে পারেননি।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে জায়গা পাওয়া ‘খুব কঠিন টিকিট’। তিনি বলেন, “আমার অনেক ভালো বন্ধুকে আমি বলেছি, তোমরা আসতে পারবে না।”
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১২৫ জন অতিথির জায়গা হতে পারে। অথচ এই বিশেষ নৈশভোজে অংশ নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা কয়েক হাজার। ফলে অতিথি তালিকা তৈরি করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে আয়োজকদের।
ব্যবসায়ী মহলেও ব্যাপক আগ্রহ
শি জিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, চীনের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরাও শির সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থাকতে পারেন এবং তাঁদের কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আমন্ত্রণ পেতে পারেন।
এ ধরনের অনুষ্ঠানে অতিথিদের তালিকা শুধু সামাজিক মর্যাদার বিষয় নয়; এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও প্রকাশ পেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা নিয়ে টানাপোড়েনের সময়ে বড় ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতি আলাদা তাৎপর্য বহন করতে পারে।
২ হাজার অতিথির জায়গা হলে সহজ হতো
ট্রাম্প নৈশভোজে জায়গার সীমাবদ্ধতা নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসের যে নতুন বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি এখনো ব্যবহারযোগ্য হয়নি। তাঁর দাবি, সেই বলরুম প্রস্তুত থাকলে সেখানে প্রায় ২ হাজার অতিথিকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হতো।
কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় অতিথির সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় আমন্ত্রণ তালিকা সীমিত রাখতেই হচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক অঙ্গনের বহু পরিচিত ব্যক্তিও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন।
শি জিনপিংয়ের এই সফর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক নানা বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে শিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা এবং তাঁর সম্মানে নৈশভোজ আয়োজনকে দুই দেশের সম্পর্ক সামলানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে শেষ পর্যন্ত কারা আমন্ত্রণ পাচ্ছেন, সেই তালিকা প্রকাশিত হলে অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী মহল এবং চীনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির ধরনও স্পষ্ট হবে। সীমিত আসনের কারণে তাই এই নৈশভোজ এখন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং ওয়াশিংটনের ক্ষমতা ও প্রভাবশালী মহলে আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।












