যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনের এক নিখোঁজ নারী জোয়ান শিনের দেহাবশেষ শনাক্ত হওয়ার পর হত্যার তদন্তে ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং পরে হত্যার সন্দেহে পৃথকভাবে তদন্ত চলছে।
জোয়ান শিনের বয়স তখন ৪৪ বছর। তিন সন্তানের মা শিনকে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ফেয়ারহ্যাম থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে সাউদাম্পটনের উদ্দেশে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে নিখোঁজ হিসেবে জানানো হয়। অর্থাৎ সর্বশেষ দেখা যাওয়ার প্রায় দুই মাস পর পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিখোঁজের তদন্ত শুরু করে।
শিনের নিখোঁজের ঘটনায় বড় ধরনের তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। তদন্তে ৪ হাজারের বেশি সূত্র যাচাই করা হয়, ৩০০টির বেশি সাক্ষ্য নেওয়া হয় এবং ১০টিরও বেশি ঠিকানায় বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। এসব তল্লাশিতে বিভিন্ন ধরনের নৌযানও ব্যবহার করা হয়েছিল।
২০২০ সালে হত্যার ষড়যন্ত্রের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কাউকেই অভিযুক্ত করে আদালতে তোলা হয়নি এবং মামলাটি অমীমাংসিত অবস্থায় থেকে যায়।
পুলিশের আগের তথ্য অনুযায়ী, শিনের কোনো স্থায়ী ঠিকানা ছিল না। তার নিজের কোনো গাড়িও ছিল না এবং কোনো ব্যাংক হিসাবও ছিল না।
তবে চলতি বছরের আগস্টে তদন্তে নতুন মোড় আসে। ৫ আগস্ট দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের বেডফন্ট পিটস এলাকায় প্রায় দুই হেক্টর ঝোপঝাড়ে আগুন লাগে। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড সেখানে আগুন নেভাতে যায়।
আগুন লাগার প্রায় এক সপ্তাহ পর, ১২ আগস্ট, ওই এলাকার কাছাকাছি প্যাডস্টো ওয়াকে এক ব্যক্তি কিছু হাড় দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করে। জায়গাটি বেডফন্ট লেকস কান্ট্রি পার্কের কাছাকাছি।
দেহাবশেষ উদ্ধারের পর পুলিশ পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। পরে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো নিখোঁজ জোয়ান শিনের।
এরপর লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তদন্তটি হ্যাম্পশায়ার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। কারণ শিনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল।
এ ঘটনায় সাউদাম্পটনের ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথমে হত্যার ষড়যন্ত্রের সন্দেহে এবং পরে হত্যার সন্দেহে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২০ সালেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তাকে শর্তসাপেক্ষ জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সাউদাম্পটনের আরও এক ৫৬ বছর বয়সী ব্যক্তিকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকেও জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জোয়ান শিনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তে অনেক তথ্য ও সূত্র যাচাই করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন তার কী হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। দেহাবশেষ শনাক্ত হওয়ার পর এখন তদন্তকারীরা নতুন প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটির পুরো চিত্র পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।
পুলিশের তদন্তে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ওই এলাকা কীভাবে শিনের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত এবং তার মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছিল, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।












