সাউথপোর্টে তিন শিশুকে হত্যার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অ্যাক্সেল রুদাকুবানার বিরুদ্ধে কারাগারে এক কর্মকর্তার ওপর চিনি মেশানো ফুটন্ত পানি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার চেষ্টা, আরও দুই কারা কর্মকর্তাকে হামলা এবং কারাগারে ছুরি বা অন্য কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০ বছর বয়সী রুদাকুবানার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৮ মে লন্ডনের এইচএমপি বেলমার্শ কারাগারে নিজের সেলের দরজার ছোট জানালা দিয়ে তিনি ফুটন্ত পানি ও চিনির মিশ্রণ এক কারা কর্মকর্তার দিকে ছুড়ে দেন। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লেও দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় তার স্থায়ী কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।
সোমবার ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে হাজির হন রুদাকুবানা। তখন তার পরনে ছিল হালকা ধূসর ও নীল রঙের ট্র্যাকস্যুটের ওপরের অংশ। শুনানিতে তিনি শুধু আদালতের প্রধান ম্যাজিস্ট্রেটের কথা শুনতে পাচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত করেন এবং নিজের নাম ও জন্মতারিখ জানান। পুরো সময় তিনি বাঁ হাতের ওপর মাথা রেখে বসে ছিলেন।
প্রসিকিউটর ক্যাথরিন প্যাটিনসন আদালতকে জানান, ২০২৫ সালের ৬ মে রুদাকুবানা তার সেলের বাইরে থাকা এক নারী কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা তাকে একটি সংবাদপত্র না দিলে তিনি তাকে ভিজিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে তিনি সেলের দরজার জানালা দিয়ে ওই কর্মকর্তার দিকে একটি ‘অজানা তরল’ ছুড়ে দেন।
এর কয়েক মাস পর, ২৮ অক্টোবর, তিনি এক পুরুষ কারা কর্মকর্তার মুখে ঘুষি মারেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা তখন রুদাকুবানা তার ওষুধ খেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন।
কারাগারে অস্ত্র রাখার অভিযোগটিও আলাদাভাবে গুরুতর। প্রসিকিউশনের দাবি, রুদাকুবানার সেল থেকে ধারালো পাথরের টুকরো উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো সেলের মেঝে থেকে আলাদা করে নেওয়া হয়েছিল। পরে পাথরের টুকরোগুলো তার সেলের একটি তাকের নিচের অংশে আটকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
আদালতে প্রসিকিউটর জানান, এ বিষয়ে এক কারা কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রুদাকুবানা বলেছিলেন, তিনি আত্মরক্ষার জন্য সেগুলো রেখে দিয়েছিলেন।
রুদাকুবানা বর্তমানে ব্রডমুর নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত মানসিক হাসপাতালে আছেন। সোমবারের শুনানিতে তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব বা স্বীকারোক্তি দিতে বলা হয়নি। তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ অক্টোবর লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে।
সাউথপোর্টের ভয়াবহ হামলার ঘটনায় রুদাকুবানা ইতোমধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে টেলর সুইফটকে ঘিরে আয়োজিত একটি নাচের ক্লাসে ছুরি হামলা চালিয়ে তিন শিশুকে হত্যা করেন তিনি।
নিহত তিন শিশু হলো ৯ বছর বয়সী অ্যালিস দা সিলভা আগুইয়ার, ৬ বছর বয়সী বিবি কিং এবং ৭ বছর বয়সী এলসি ডট স্ট্যানকম্ব। ওই হামলায় আরও আট শিশুকে হত্যার চেষ্টা এবং দুই প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যার চেষ্টার অভিযোগেও রুদাকুবানা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
সাউথপোর্টের ওই হামলা ব্রিটেনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। শিশুদের ওপর হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা, চরম সহিংসতার প্রতি আকর্ষণ এবং তরুণদের মধ্যে সহিংস আচরণের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বর্তমানে কারাগারে থাকা অবস্থায় রুদাকুবানার বিরুদ্ধে নতুন হামলার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।












