পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ঘোষিত মিছিল ও বিক্ষোভকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা রাজধানীতে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে কনটেইনার বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
পিটিআইয়ের এই কর্মসূচির মূল দাবি দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা নিশ্চিত করা। দলটি জানিয়েছে, প্রতিবাদ ও মিছিল থেকে তারা সরে আসবে না।
পাঞ্জাব-সিন্ধু থেকে পুলিশের বড় বহর
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিন্ধু থেকে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য মঙ্গলবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা। অন্যদিকে পাঞ্জাব থেকে ১৯ হাজার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা পাঠানো হচ্ছে। তাদের বহর আগামী দুই দিনের মধ্যে রাজধানীতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফেডারেল সরকার পাঞ্জাবের কাছে মোট ২৩ হাজার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা চেয়েছিল। সিন্ধু, পাঞ্জাব এবং ফ্রন্টিয়ার কোরের সদস্যদের থাকার ব্যবস্থাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টও প্রস্তাবিত মিছিল নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। আদালত বলেছে, জনসাধারণের সড়ক ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা যেন অবরুদ্ধ না হয়।
কনটেইনারে ঘেরা হচ্ছে রাজধানী
২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইসলামাবাদের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর কনটেইনার জোড়া দিয়ে দীর্ঘ ব্যারিকেড তৈরি করা হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, বের হওয়ার রাস্তা ও প্রধান সড়কে বিপুলসংখ্যক কনটেইনার সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এরই মধ্যে রাজধানীর রেড জোনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কনটেইনার মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, বিক্ষোভের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এড়ানো।
পিটিআই নেতাদের গ্রেপ্তার
নিরাপত্তা প্রস্তুতির পাশাপাশি পিটিআইয়ের কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সদস্য আদিল বাজাইকে গ্রেপ্তারের পর ইসলামাবাদে আটক পিটিআই আইনপ্রণেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সিনেটর সাইফুল্লাহ নিয়াজি এবং সংসদ সদস্য সানাউল্লাহ মাস্তি খেল, মিয়ান আহসান জামাল, দাওয়ার কুন্দি, গাউস মোহাম্মদ ও আদিল বাজাই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণ অধ্যাদেশের ৩ ধারায় তাদের আটক করে ঝিলম কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনাও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তার বোন নুরিন নিয়াজি ও উজমা খানকে ৩০ দিনের জন্য আটক করে কোট লাখপত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে আরেক বোন আলিমা খানকেও আটক করা হয়। আলিমার আটকের বিরুদ্ধে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।
মিছিল থেকে সরে আসবে না পিটিআই
পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান বলেছেন, দলটি সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে। তিনি আরও গ্রেপ্তার না করার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও দলটির দীর্ঘ মিছিল চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পিটিআই নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার।
সরকারের কঠোর অবস্থান, সংলাপের আহ্বান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, বিক্ষোভের কারণে ইসলামাবাদকে ১০ থেকে ২০ দিন অচল থাকতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা ঠেকাতে সরকার স্থায়ী কৌশল গ্রহণ করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। পিটিআই মিছিল করলে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথাও বলেছেন তিনি।
অন্যদিকে সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, আলোচনায় এমন প্রতিনিধিদের থাকতে হবে, যাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকি












