চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে আতিথ্য দেবেন। নিক্কেই এশিয়া জানিয়েছে, আলোচ্যসূচি দীর্ঘ, আর দুই পরাশক্তির বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এটি চলতি বছরে দুই নেতার দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। মে মাসে ট্রাম্প বেইজিং সফর করেছিলেন। আবুধাবিভিত্তিক দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, এক দশকের মধ্যে এটিই শির প্রথম হোয়াইট হাউস সফর। ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর লিখেছে, ট্রাম্প নিজে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে বিমান থেকে নামার সময় শিকে স্বাগত জানাবেন। বেইজিংয়ের চোখে এটি বিরল সম্মান। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ফোনে বলেছেন, দুই দেশকে সমতার মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে। এই ট্রাম্প শি বৈঠক ঘিরে তাই কৌতূহল অনেক, তবে বড় সাফল্যের প্রত্যাশা কম।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বাণিজ্য, বিরল খনিজের সরবরাহ ও এআই হবে আলোচনার মূল বিষয়। তাইওয়ান ও ইরান যুদ্ধও আসবে। সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিসের জেমস লুইস একে বলছেন “তিন টির শীর্ষ সম্মেলন”। তাইওয়ান, প্রযুক্তি আর বাণিজ্য। তিনি বলেন, কেউ বড় কোনো সাফল্যের আশা করছে না। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে এক বছরের বাণিজ্য বিরতি হয়েছিল। তাতে চীন বিরল খনিজ রপ্তানির কিছু নিয়ন্ত্রণ স্থগিত করে এবং মার্কিন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রও চীনা পণ্যে কিছু শুল্ক কমায়। বিরল খনিজ নিয়ন্ত্রণের সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হবে ১০ নভেম্বর। এটিই এখন বেইজিংয়ের হাতে বড় দর-কষাকষির অস্ত্র।
তাইওয়ান প্রশ্নও কম জটিল নয়। মে মাসের বৈঠকে বেইজিং একে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়” বলেছিল। তাইওয়ানের জন্য আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের একটি মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। শি এই বিক্রি বাতিলের চাপ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনকে ইরানি তেল কেনা কমাতে চাপ দিচ্ছেন। চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মার্কেটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের মিক্কো হুওতারির মতে, শির ওয়াশিংটনে বড় সাফল্যের দরকার নেই, তাঁর দরকার সময়। ওয়াশিংটনের ক্ষেত্রেও একই কথা। তাই এই ট্রাম্প শি বৈঠক আসলে এক কৌশলগত অচলাবস্থা সামলানোর চেষ্টা।
বাংলাদেশের দৃষ্টিতে দুই বড় অর্থনীতির সম্পর্কের প্রতিটি মোড় গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র দেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় একক বাজার। আবার চীন কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ঋণের বড় উৎস। দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ আবার তীব্র হলে বিশ্ববাজারে চাহিদা কমবে, সরবরাহব্যবস্থায় ঝাঁকুনি লাগবে। আবার চীন থেকে সরে আসা কারখানার কিছু অংশ দক্ষিণ এশিয়ায় আসার সুযোগও তৈরি হতে পারে। বাণিজ্য বিরতি বাড়লে বাজারে স্থিতি ফিরবে। ঢাকার রপ্তানিকারকদের তাই এই ট্রাম্প শি বৈঠক থেকে আসা ফল দেখে পরের মৌসুমের ক্রয়াদেশের হিসাব কষতে হবে।
ট্রাম্প আক্ষেপ করেছেন, হোয়াইট হাউসে নির্মাণাধীন বলরুমটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আগে তৈরি হবে না। তিনি বলেছেন, তৈরি থাকলে দুই হাজার অতিথি বসানো যেত। বিরল খনিজের সময়সীমা অবশ্য বলরুমের জন্য অপেক্ষা করবে না।












