কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই দিনে সীমান্তের আরেক এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
পুশ-ইন ঠেকিয়ে ব্যক্তিকে ভারতে ফেরত
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হলে বিজিবি সদস্যরা তা প্রতিহত করেন। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি বিএসএফকে জানানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে ভারতের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের আরশারিপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৫২/১০-এস থেকে ভারতের প্রায় ১২০ গজ ভেতরে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে জামালপুর সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি সদস্যদের খবর দেন।
খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে। পরে নদীপথে ওই ব্যক্তিকে আবার ভারতের ভূখণ্ডে নিয়ে যায় তারা।
সন্ধ্যায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর রাতে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে ভারতে ফিরিয়ে নেয়।
সীমান্তে গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড
এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দৌলতপুরের আশ্রয়ন সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় আরেকটি ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার ১৫৪/২-এস থেকে ভারতের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ গজ ভেতরে কয়েকজন ভারতীয় মাদক চোরাকারবারি মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। সেখানে বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের নিউ উদয় ক্যাম্পের টহল দলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়।
একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর মাদক চোরাকারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়েও দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নজরদারি জোরদার
দুটি ঘটনার পর সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে একই দিনে পুশ-ইনের চেষ্টা এবং মাদক চোরাকারবারিদের ঘিরে গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে সতর্কতা বাড়িয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।










