ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে শহরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা চার প্রজন্মের মানুষ। সবচেয়ে ছোটজনের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, সাতজনই ঘটনাস্থলে মারা যান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস বাইপাস সড়ক ধরে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসছিল মুক্তাগাছাগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। মুখোমুখি ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। অটোরিকশার চালকও প্রাণ হারিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা সড়কটিতে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
নিহত পরিবারের সদস্যরা হলেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তাঁর মা রাশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছরের ছেলে। তাঁদের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকার দরিহামিদপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি গাজীপুরে যাচ্ছিল। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের কর্মকর্তা, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। জামালপুর থেকে আসা বাসটির গন্তব্য ছিল ঢাকা। আর নিহত পরিবারটিও জামালপুরেরই বাসিন্দা। নিজ জেলা ছেড়ে কাজের শহর গাজীপুরের পথে থাকা মানুষগুলোর যাত্রা থেমে গেল ময়মনসিংহ শহরের প্রান্তে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে দুই যানের অতিরিক্ত গতিকেই সংঘর্ষের কারণ মনে হচ্ছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা দুটিই জব্দ করেছে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মহাসড়কে বাসের বেপরোয়া চলাচল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানান তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষের সময় বাসের যাত্রীদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি।
ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ নতুন নয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কে একই ধরনের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছিলেন। দেশের আঞ্চলিক ও বাইপাস সড়কে দ্রুতগতির বাস আর তিন চাকার ছোট যান একই লেনে চলে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা মফস্বল শহর আর উপজেলার যাতায়াতের প্রধান ভরসা। অল্প দূরত্বে কম খরচে চলার জন্য পরিবারগুলো এ বাহনই বেছে নেয়। কিন্তু অটোরিকশার কাঠামো হালকা, যাত্রীদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও সামান্য। ফলে ভারী যানের সঙ্গে একটি ধাক্কাতেই একসঙ্গে অনেক প্রাণ ঝরে যায়। এসব সড়কে গতিসীমা মানার বিষয়টিও প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। শুক্রবারের দুর্ঘটনায় একটি পরিবার একসঙ্গে হারাল চার প্রজন্মের চারজন মানুষকে। মা, ছেলে, নাতনি আর নাতনির শিশুসন্তান একই যাত্রায় প্রাণ হারালেন। স্বজনদের কাছে এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। তদন্তে প্রকৃত দায় নির্ধারণ হলে তবেই পরিবারগুলো কিছুটা ন্যায়বিচারের আশা করতে পারবে। তবে শুধু একটি মামলায় সমাধান নেই। গতিসীমা কঠোরভাবে মানানো, ধীরগতির যানের জন্য আলাদা লেন আর সড়কে নিয়মিত নজরদারি না বাড়লে ময়মনসিংহে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনা থামানো কঠিন হবে।












