মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন করে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, এভিয়েশন হাব হতে হলে বহর বাড়াতে হবে এবং এর পেছনে গোপন কিছু নেই। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে চুক্তিটি সই হয়। বোয়িং চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সরকারের এই বক্তব্য এল।
এর আগে এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির মূল্য ছিল ৩৭০ কোটি ডলার। দুই দফা মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হলো। নতুন ১১টির দাম বা মডেল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য আরেকটি উভয়পক্ষের জয় বলে উল্লেখ করেছেন।
শুধু বোয়িং নয়, ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের সঙ্গেও চুক্তির প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবরে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী মিশ্র বহর রাখার গুরুত্বের কথাও বলেছেন। অর্থাৎ একটি নির্মাতার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে দুই ধরনের উড়োজাহাজ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট আবার চালুর জন্য কারিগরি ও নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নের কাজও শুরু হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য প্রশ্ন হলো, নতুন উড়োজাহাজ কবে আসবে এবং ভাড়া বা সেবার মানে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও ইউরোপে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিমানের বড় যাত্রী। বহর বাড়লে নতুন রুট ও বাড়তি ফ্লাইটের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে দুই দফায় বড় অঙ্কের কেনাকাটা বিমানের দেনার বোঝা বাড়াবে কি না, সেই হিসাবও সামনে আসবে। বোয়িং চুক্তির অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এপ্রিলের চুক্তি আর নিউইয়র্কের চুক্তির মধ্যে ব্যবধান মাত্র পাঁচ মাস। অক্টোবরে এয়ারবাসের চুক্তি হলে তিন দফায় উড়োজাহাজের অর্ডার দাঁড়াবে ৩৫টিতে। এত উড়োজাহাজ চালানোর মতো পাইলট, প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বিমান কীভাবে গড়বে, বোয়িং চুক্তির পর সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।












