কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের চলমান অভিযানের চতুর্থ ধাপে ৩৭৯ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান জানান, জেলা পুলিশের সব ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমের সরাসরি নির্দেশনা ও নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।

পুলিশ জানায়, কুমিল্লা শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ পাওয়া স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এসব স্থান থেকে ৩৭৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, তা যাচাই করতে পুলিশ তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। যাচাইয়ে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কিশোর গ্যাংবিরোধী এ অভিযানের আগের তিন ধাপে যথাক্রমে ৬২৪, ২৫৪ ও ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৩৭৯ জনসহ চার ধাপে আটক ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৭২ জনে।
কুমিল্লায় কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এ তৎপরতা বাড়ানো হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ি পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী তুহিনকে কিশোর গ্যাংয়ের উদীয়মান নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজনের একজন অপ্রতিমের বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করত। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনকে গাজীপুরের একটি কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম শনাক্ত ও ভেঙে দেওয়াই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।












