বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট ও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডিসিদের সঙ্গে এক অনলাইন সভায় এই নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবে এলপিজি আটকে রাখা হচ্ছে কি না এবং বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে তথ্যপ্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত দাম আর বাজারের দাম
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ঠিক করেছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু ভোক্তারা বলছেন, সম্প্রতি একই সিলিন্ডার কিনতে তাঁদের ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি গুনতে হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে বাড়তি যাচ্ছে ৪০০ টাকার বেশি। বিভিন্ন এলাকা থেকে দোকানে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগও আসছে।
আমদানি কম নয়
সরকারি হিসাবে এলপিজি আমদানিতে বড় ঘাটতি দেখা যায়নি। জুলাইয়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৫ টন। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টনে। সেপ্টেম্বরে আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন। তাই সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও বাজারে সংকট কেন, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি
এলপিজি খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, নতুন চালান আনতে প্রিমিয়াম ও জাহাজভাড়া বেড়ে গেছে। এতে তাঁদের খরচ বেড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান বিইআরসির পরবর্তী দাম ঘোষণার অপেক্ষায় বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলেও জানা গেছে। অক্টোবর মাসের নতুন দাম ঘোষণা হওয়ার কথা আগামী ৪ অক্টোবর। হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম চড়া থাকায় দাম বাড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
মন্ত্রী যা বললেন
বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেখানে সরবরাহ ঘাটতি পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শহরের পাইপলাইনের বাইরে থাকা লাখো পরিবারের রান্না এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। ৪ অক্টোবরের দাম ঘোষণার আগে বাজারে সিলিন্ডার ফিরবে কি না, তা নির্ভর করছে ডিসিদের তদারকি কতটা কাজ করে তার ওপর। কেনার সময় দোকানিকে বিইআরসির নির্ধারিত দাম দেখাতে বলা এবং বেশি দাম নিলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করাই এখন ভোক্তার হাতে থাকা উপায়।












