১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্রেতাদের সেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮৩০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। অনেক দোকানে সিলিন্ডার মিলছেই না। এলপিজির দাম নিয়ে এই অস্থিরতার মধ্যে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে সদস্যদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)।
লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিইআরসি নির্ধারিত দামের বেশি নিলে বা অবৈধভাবে মজুত করলে অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা সবার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ ঢাকার কয়েকটি এলাকায় ক্রেতারা জানিয়েছেন, পরিচিত ব্র্যান্ড না পেয়ে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে সিলিন্ডারের দামসহ তাদের ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে সামগ্রিকভাবে এলপিজির ঘাটতি নেই। তবে কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না এবং বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জুলাইয়ে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৫ টন, আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন। সেপ্টেম্বরে এসেছে আরও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন চালান আনতে প্রিমিয়াম ও জাহাজভাড়া আবার বেড়ে গেছে। কিছু অপারেটর বাজারে সরবরাহ কমিয়ে পরের দফার দাম সমন্বয়ের অপেক্ষায় আছে। পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও কারখানা সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছে। পেট্রোবাংলার তথ্যে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় এ বছর এলপিজির দাম কয়েক দফা ওঠানামা করেছে। ভোক্তার জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন, জেলা প্রশাসনের তদন্ত আর লোয়াবের হুঁশিয়ারির পর বাজারে এলপিজির দাম কতটা নামে। নির্ধারিত দামের বেশি নিলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা স্থানীয় প্রশাসনে অভিযোগ করা যায়।











