বিদেশগামী কর্মীদের কল্যাণ ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা করেছে সরকার। অর্থাৎ প্রত্যেক কর্মীকে আগের চেয়ে ২ হাজার টাকা বেশি দিতে হবে। হার হিসেবে বৃদ্ধি প্রায় ৫৭ শতাংশ। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করে। নতুন ফি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার আগে প্রত্যেক কর্মীকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হয়। এই সদস্যপদের জন্যই ফি দিতে হয়। নতুন হার তিন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বিদেশগামী কর্মী, ইতোমধ্যে বিদেশে থাকা কর্মী এবং বিমানবন্দরে যাদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হয়, সবাইকে নতুন হারে টাকা দিতে হবে। বিদেশগামী কর্মীদের কল্যাণ ফি সংক্রান্ত এই পরিপত্রে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাইয়েদা ফয়জুন্নেসা। যাত্রার আগে নতুন হার জেনে নিলে বিমানবন্দরে ভোগান্তি এড়ানো যাবে।
মন্ত্রণালয় বলছে, কর্মীদের জন্য দেওয়া সেবার পরিধি ও পরিমাণ বেড়েছে। পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে, বদলেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। কল্যাণ কর্মসূচি টেকসই রাখতেই ফি সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারকে বিভিন্ন কল্যাণ সেবা দেয়। প্রয়োজনের সময় সহায়তাও এর মধ্যে রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেতে একজন কর্মীর খরচ পড়ে ৪ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। এই খরচ জোগাতে অনেককে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। মোট খরচের তুলনায় বাড়তি ২ হাজার টাকা ছোট অঙ্ক। তবে নিম্নআয়ের কর্মীদের জন্য এটি আরেকটি চাপ। এমন সময়ে ফি বাড়ল, যখন সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় নেমেছে ১১ মাসের সর্বনিম্নে, ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে।
বিদেশগামী কর্মীদের কল্যাণ ফি বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে সেবার পরিধি বাড়ার কথা বলছে মন্ত্রণালয়। তাই বাড়তি টাকার বিনিময়ে কর্মীরা কী বাড়তি সেবা পাবেন, সেটি স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বিদেশে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা চাকরি হারানোর মতো বিপদে দ্রুত সহায়তা পাওয়াই কর্মী ও তাদের পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা।











