সেপ্টেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ বেড়েছে। এ মাসে আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৪ কোটি ডলারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবির সর্বশেষ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রথম দেখায় খবরটি ভালো। কিন্তু হিসাব একটু গভীরে দেখলে স্বস্তির জায়গা কম। দেশের যত দ্রুত ডলার আয় দরকার, রপ্তানি বাড়ছে তার অর্ধেকেরও কম গতিতে।
এই প্রবৃদ্ধির বড় কারণ গত বছরের দুর্বল ভিত্তি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি ৪.৫ শতাংশ কমে ৩৬৩ কোটি ডলারে নেমেছিল। ফলে তুলনার ভিত্তিটাই ছিল নিচু। তার আগের বছর একই মাসে আয় ছিল ৩৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুই বছরের হিসাবে মোট বৃদ্ধি চার শতাংশেরও কম। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আয় ১১.১১ শতাংশ কমেছে। আগস্টে রপ্তানি হয়েছিল ৪৪২ কোটি ডলারের পণ্য। তৈরি পোশাক খাতে সেপ্টেম্বরে আয় ৮.৫৬ শতাংশ বেড়ে ৩০৮ কোটি ডলার হয়েছে। মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে এই একটি খাত থেকে।
রপ্তানি মানে দেশের ডলার আয়। এই ডলার দিয়েই দেশ জ্বালানি তেল, এলএনজি, ভোজ্যতেল, গম, চিনি আর কারখানার কাঁচামাল কেনে। ডলার কম এলে আমদানি করতে হয় কম, নয়তো বেশি দামে। তখন বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যায়, দাম বাড়ে। এ কারণেই সরকার চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫ হাজার ৫২০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে। এর জন্য প্রবৃদ্ধি দরকার ১৫ শতাংশ। অথচ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রয়োজনের অর্ধেক গতিও আসেনি। এই তিন মাসে আয় এসেছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলার। প্রয়োজনের তুলনায় প্রথম তিন মাসেই প্রায় ৭০ কোটি ডলার কম এসেছে।

রপ্তানি আয়ে ধীরগতি এমন সময়ে দেখা দিচ্ছে, যখন ডলারের আরেক বড় উৎস প্রবাসী আয়েও গতি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি মাত্র ২.৭ শতাংশ। দুই উৎসেই ডলার আসা ধীর হলে চাপ পড়ে টাকার মানে। টাকা দুর্বল হলে আমদানি করা প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ে। ভোজ্যতেল, চিনি, গুঁড়া দুধ থেকে শুরু করে ওষুধের কাঁচামাল পর্যন্ত সবকিছুতে এর প্রভাব পড়ে। তাই রপ্তানি আয়ে ধীরগতি শুধু ব্যবসায়ীদের সমস্যা নয়। প্রতিটি পরিবারের বাজারের ব্যাগেও এর ছাপ পড়ে।
লক্ষ্য ছুঁতে হলে বাকি নয় মাসে প্রবৃদ্ধি লাগবে প্রায় ১৮ শতাংশ। গত অর্থবছরের অভিজ্ঞতা অবশ্য আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি ০.৫৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে নামে। সে বছর লক্ষ্য ছিল ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। জুলাইয়ে নতুন লক্ষ্য ঘোষণার সময় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছিলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও কঠিন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির অবশ্য আশাবাদী। তাঁর মতে, নীতির স্থিতিশীলতা ও নতুন বাণিজ্য চুক্তি রপ্তানিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। তবে কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস আর নতুন বাজার না মিললে রপ্তানি আয়ে ধীরগতি কাটানো কঠিন হবে। সেই চাপের শেষ ভার পড়বে সাধারণ মানুষের বাজার খরচে।











