সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পাওয়া বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম গণমাধ্যমের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। জনসমক্ষে তাঁর তোলা ছবি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন, সাজানো বা আরও আকর্ষণীয় করে প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়ামি বলেন, জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতির সময় তোলা ছবিগুলো যেন মূল অবস্থাতেই ব্যবহার করা হয়। কারও ছবি বা চেহারা এআই দিয়ে পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জ্ঞান ও সম্মতি থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইয়ামির বক্তব্য, গণমাধ্যমের কাছে তাঁর এটি আন্তরিক অনুরোধ। তিনি চান, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে উপস্থিতির সময় তোলা তাঁর ছবিগুলো কোনো ধরনের এআই সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশ করা হোক। তাঁর মতে, একজন মানুষের ছবি বা পরিচয় এআই দিয়ে বদলে দেওয়া এমন একটি বিষয়, যা তাঁর অজান্তে বা সম্মতি ছাড়া করা উচিত নয়।
ইয়ামির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তারকাদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি এআই-নির্ভর ভুয়া কনটেন্ট নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চেহারা অন্য ভিডিও বা ছবিতে বসিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে।
এরই মধ্যে অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বোম্বে হাইকোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে সামান্থাকে ঘিরে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্ট, এআই-নির্মিত ডিপফেক, ভুয়া পর্নোগ্রাফিক উপাদান, পণ্য ও বিজ্ঞাপনসহ তাঁর নাম, ছবি, পরিচয় বা ব্যক্তিসত্তা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বিভিন্ন কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ‘দেবারা: পার্ট ওয়ান’ সিনেমার ‘চুট্টামাল্লে’ গানের একটি বিকৃত এআই ভিডিও নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। ভিডিওটিতে অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের চেহারা ও উপস্থিতি ডিজিটালভাবে পরিবর্তন করে যৌনভাবে আপত্তিকর দৃশ্যের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা সরিয়ে দেওয়া হলেও ঘটনাটি এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
এ ঘটনায় অভিনেতা জুনিয়র এনটিআর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। অভিনেতা চিরঞ্জীবীও এআইয়ের এমন অপব্যবহারের নিন্দা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিষয়টি শুধু একজন অভিনেতা বা একটি সিনেমাকে ঘিরে দেখলে চলবে না। আজ অন্য কারও সঙ্গে যা ঘটছে, আগামীকাল সেটি যে কারও সঙ্গে ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

ইয়ামি গৌতমের নিজের ক্ষেত্রেও এখন আলোচনার আরেকটি কারণ তাঁর নতুন সিনেমা ‘নয়ি নাভেলি’। সিনেমাটিতে তিনি মোহিনী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গল্পে মোহিনী বিয়ের পর আওয়াস্তি পরিবারের নতুন বউ হয়ে সেখানে আসেন। শুরুতে নতুন সংসারে এক নারীর মানিয়ে নেওয়ার গল্প মনে হলেও ধীরে ধীরে তাঁর চরিত্র ও পরিবারের নানা গোপন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে।
সিনেমাটিতে ইয়ামির সঙ্গে অভিনয় করেছেন আদীনাথ এম কোঠারে, অনুরাগ ঠাকুর, সুনীতা রাজওয়ার, মিতা বশিষ্ঠ, আদিত্য কুলশ্রেষ্ঠ, সুশমিতা মুখার্জি ও প্রতীক পাচোরি। ছবিটি আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পাওয়ার পর ইয়ামির নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও বেড়েছে। এর মধ্যেই এআই দিয়ে তাঁর ছবি পরিবর্তন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আলোচনায় আনলেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রযুক্তির ব্যবহার যতই বাড়ুক, একজন মানুষের নিজের ছবি ও পরিচয়ের ওপর তাঁর সম্মতির অধিকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।












