অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা এবার যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। তিনি সেখানে সহযোগী গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চে তাঁর এই নিয়োগ। পর্দার পরিচিত মুখ হলেও উন্নয়ন খাতে মিথিলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলা এখন শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ নিয়ে কাজ করবেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে নতুন এই অধ্যায়ের খবর জানিয়েছেন তিনি।
কী নিয়ে কাজ করবেন
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলা যে প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছেন, তার নাম আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব। নিউইয়র্কভিত্তিক এই উদ্যোগের নকশা ও মূল্যায়নের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। প্রকল্পটি জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে। শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করাই এর লক্ষ্য। পরিবারের অংশগ্রহণ ও এলাকার স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ হবে এখানে। মিথিলা জানিয়েছেন, স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে গবেষণার লক্ষ্য মেলাতে চান তিনি। এর ভিত্তিতে তথ্যনির্ভর কার্যক্রম গড়ে তুলতে চান। শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছর বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ের যত্ন পরের জীবনের স্বাস্থ্য ও শেখার সক্ষমতায় বড় প্রভাব ফেলে।
শিক্ষকতাতেও যুক্ত
গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতাও করছেন মিথিলা। নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে তিনি খণ্ডকালীন সহকারী অধ্যাপক। সেখানে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বিষয়ে পড়াচ্ছেন। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বাস্তবে কীভাবে চলে, সেই হাতে-কলমে দিকটাই তাঁর ক্লাসের মূল বিষয়।
ব্র্যাকে দুই দশক
প্রায় দুই দশক ব্র্যাকে কাজ করেছেন মিথিলা। এর মধ্যে ১৫ বছর ছিলেন ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কার্যক্রমে। ফেসবুক পোস্টে তিনি ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, পেশাজীবনের ভিত গড়ে দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। কলাম্বিয়ার গবেষণা অবকাঠামো ও দক্ষ গবেষকদের সঙ্গে কাজের সুযোগ তাঁর অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও মনে করেন তিনি। গত বছরের আগস্টে পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করে নামের আগে ডক্টর উপাধি যুক্ত করেছিলেন মিথিলা।
পর্দা আর পেশা
টেলিভিশন নাটক দিয়েই মিথিলার পরিচিতি। পরে চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে কাজ করেছেন। কলকাতার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন খাতে সমানতালে কাজ চালিয়ে যাওয়া তারকা দেশে খুব বেশি নেই। নতুন দায়িত্বের পরও তিনি অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছেন, এমন কিছু জানাননি। ভক্তদের প্রশ্ন এখন একটাই, গবেষণা আর শিক্ষকতার ব্যস্ততার মধ্যে নতুন কোনো কাজে কবে দেখা যাবে তাঁকে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলা নতুন যে পথে হাঁটছেন, তা অনেক তরুণের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। অভিনয় আর পেশাগত পড়াশোনা যে একসঙ্গে চালানো যায়, তিনি তারই উদাহরণ।












