কে-পপ দল বিটিএসের পর এবার স্ট্রে কিডসও ২০২৭ সালের গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য নিজেদের গান জমা দেয়নি। দলটির এ বছরের ইপি দিস অ্যান্ড দ্যাট বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়নি। দলের প্রতিষ্ঠান জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট শুধু জানিয়েছে, স্ট্রে কিডস গ্র্যামিতে জমা দেয়নি। কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি তারা। গ্র্যামিতে জমা দেয়নি এমন বড় নামের তালিকায় আছেন র্যাপার ড্রেকও। জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২৮ আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড ২০০ তালিকায় একাধিকবার শীর্ষে উঠেছে স্ট্রে কিডস। তাই তাদের সরে দাঁড়ানো সাধারণ ঘটনা নয়।
বিটিএসের আপত্তি কোথায়
বিটিএস তাদের ফিরে আসার অ্যালবাম আরিরাং গ্র্যামিতে জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটি জানায়, তারা চায় সংগীতকে অঞ্চল বা ভাষা দিয়ে ভাগ না করে গান হিসেবেই শোনা ও ভালোবাসা হোক। তাদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে নতুন চালু হওয়া বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স বিভাগ। বিরোধীদের মতে, এই বিভাগ এশীয় শিল্পীদের মূলধারার বড় পুরস্কার থেকে আলাদা করে রাখার ঝুঁকি তৈরি করে। বিটিএস এর আগে একাধিকবার গ্র্যামিতে মনোনয়ন পেলেও কোনো পুরস্কার জেতেনি। সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা শেষে দলটি নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরেছে। ফলে এবার বিটিএস গ্র্যামিতে জমা দেয়নি, এই খবর ভক্তদের কাছে বড় চমক হয়ে এসেছে।
রেকর্ডিং একাডেমির অবস্থান
বিতর্কের মুখে রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভে মেসন জুনিয়র শুরুতে বিভাগটি বাদ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি জানান, ২০২৭ সালের আসরে বিভাগটি থাকছে। এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন বিভাগটির বিরোধী শিল্পীরা। এরপরই একে একে বড় শিল্পীদের সরে দাঁড়ানোর খবর আসতে থাকে।
ড্রেকও একই পথে
র্যাপার ড্রেক এ বছর প্রকাশিত তাঁর তিনটি অ্যালবামের কোনোটিই জমা দেননি। অ্যালবামগুলো হলো আইসম্যান, মেইড অব অনার ও হাবিবতি। আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দিলেও আইসম্যানের শেষ গানেই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই অ্যালবাম জমা দেবেন না। গত কয়েক বছর ধরেই গ্র্যামি থেকে দূরে থাকছেন ড্রেক।
দেশের ভক্তদের চোখে
বাংলাদেশেও বিটিএস ও স্ট্রে কিডসের বড় ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের তরুণ ভক্তরা নিয়মিত দল দুটির গান ও খবর নিয়ে সরব থাকেন। অনেক ভক্তের কাছে গ্র্যামিতে মনোনয়ন ছিল স্বীকৃতির বড় মাপকাঠি। এখন প্রিয় দলগুলো নিজেরাই গ্র্যামিতে জমা দেয়নি, সরে দাঁড়িয়েছে সেই দৌড় থেকে। ফলে গ্র্যামির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। আগামী বছরের আসরে এই অনুপস্থিতি কতটা চোখে পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে সংগীতপ্রেমীদের।












