কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে দুটি স্পিডবোটে আগুন দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কাছে নদীতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, নদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই দল সন্দেহভাজন জলদস্যুর মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি, লিসেন্দিয়া ও মাধবপুর এলাকার কাছে পদ্মা নদীতে চারটি স্পিডবোট চলাচল করতে দেখা যায়। এগুলো সন্দেহভাজন জলদস্যুদের বিভিন্ন দলের বলে ধারণা করা হচ্ছে। একপর্যায়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ প্রতিপক্ষের দুটি স্পিডবোটকে ধাওয়া করে।
ধাওয়ার মুখে নৌকা দুটি নদীর তীরে রেখে আরোহীরা পালিয়ে যান। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন স্পিডবোট দুটিতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

গুলির শব্দের পর আগুন ও কালো ধোঁয়া
নদীর তীরবর্তী পানবরজে কাজ করছিলেন কয়েকজন কৃষক। তাঁরা ঘটনার সময় একাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান। এর কিছুক্ষণ পর নদীর ওপর আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখেন তাঁরা।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে স্পিডবোট দুটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নদীতে ডুবে যায়।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, নদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জলদস্যুদের দুই পক্ষের বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

তদন্তের দায়িত্ব নদী পুলিশের
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম শেখ জানান, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তবে ঘটনাস্থল নদী পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নদী পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে লক্ষ্মীকুণ্ডা নদী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।












