ভেবেছিলাম বিদেশে থাকা অবস্থায় দেশের রাজনীতি বা এ সংক্রান্ত কোনো কিছু আপাতত লিখব না।
এখন আমি লন্ডনে। আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ফেসবুক খুলে দেখতে পেলাম মুহাম্মদ ইউনুস বিদেশে যেয়ে কি জানি একটা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে এবং তার অনুগত চাকর- বাকর আর অর্ধশিক্ষিত দালাল এবং সংবাদমাধ্যমগুলো এটা নিয়ে লাফালাফি শুরু করেছে।
খবরটা দেখার পর আমার মনে যে প্রশ্নগুলো এসেছে সেটা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।

ইতিমধ্যে জেনেছেন যে ইউনুস ‘হিলারি ক্লিনটন এওয়ার্ড’ নামে একটা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। গতকাল জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার তাকে দেওয়া হয়। এটা পাওয়ার পর সেখানে উপস্থিত প্রায় ৪০০ অতিথি বিপুল করতালি দিয়ে ইউনুসকে সম্মানিত করেন। এ প্রসঙ্গে আপনাদের জানিয়ে রাখি আমেরিকার এইসব বিশ্ব বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টাকার মাধ্যমে আপনি যে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেন। আর যেসব অতিথিদের কথা বলা হচ্ছে এরাও বড় বড় ধান্দাবাজ। লাঞ্চ, ডিনার এবং মদ খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে ওখানে শ্রোতার কোন অভাব হয় না। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের সব খরচ ইউনুস দিয়েছে।
যাহোক আজকে খবরটা দেখার পর আমি ইন্টারনেট সার্চ দিয়ে এ সংক্রান্ত কোনো খবর বিদেশী গণমাধ্যম, বিশেষ করে আমেরিকাতে প্রকাশিত হয়েছে কিনা সেটা দেখার চেষ্টা করলাম। না–এটার কোন নিউজ বা ছবি কোথাও দেখলাম না। সেটা থাকারও কোনো কারণ নেই। কারণ এটা কোন খবর না এবং বিশ্ব গণমাধ্যমে এটার কোন প্রচার হয়নি। এর একমাত্র প্রচার দেখলাম বাংলাদেশের ধান্দাবাজ মিডিয়াগুলোতে।
আপনারা আজ নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন ইউনূসের দালাল এবং চাকর-বাকররা এটাকে এমনভাবে প্রচার করছে তাতে মনে হচ্ছে যে তিনি দ্বিতীয়বার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এবং তারা বলছে এ কারণে নাকি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আবারও উজ্জ্বল করেছে এই বাটপার ইউনুস। (২০০৬ সাল তার শান্তিতে নোবেল পাওয়ার ব্যাপারটাও ছিল বহুল বিতর্কিত। এটা নিয়ে আমি কিছুদিন আগে একটা বড় পোস্ট দিয়েছিলাম।)
এই দালালদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলি, খবরটা এভাবে প্রচার করার আগে তারা একবারও কি জানার চেষ্টা করেছে আসলেই পুরস্কারটা কি?

হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড নামে যে এই ব্যাপারটা আছে এটা আমি আজ প্রথম শুনলাম। আমি নিশ্চিত আপনারাও এটা সম্পর্কে আগে কোনদিন কোন কিছু শুনেন নি। প্রশ্ন হল হঠাৎ এভাবে ইউনুসকে কেন এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে এবং এটা কবে থেকে চালু হয়েছে?
আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি সেটা হল ইউনুস যে দেশে একজন নিন্দিত এবং ঘৃণিত ব্যক্তি এটা থেকে দেশবাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো দরকার। আর এই বাটপার যখনই কোন বিপদে পড়ে তখন তার তথাকথিত প্রভাবশালী বন্ধুদের সাহায্য নেয়। আর এই বন্ধুরা টাকা ছাড়া কোন কাজ করে না এটা সবাই জানে।
এ প্রসঙ্গে আপনাদের জানিয়ে রাখি এই ক্লিনটন দম্পতি আমেরিকার রাজনীতিবিদদের মধ্যে সবচেয়ে করাপট হিসেবে পরিচিত। এরা টাকা ছাড়া কোন কাজ করে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী মিলে নির্লজ্জ চান্দাবাজিতে নেমেছে। আর এই চান্দাবাজির মাধ্যম হল ক্লিনটন ফাউন্ডেশন। কয়েক বছর আগে বিল ক্লিনটনের করাপশন নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস একটা বড় রিপোর্ট করেছিল। সেখানে তারা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছে যে সে কাজাকিস্তানের স্বৈরশাসক নুর সুলতান নাজার বাইয়েভের কাছ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার নিয়েছে। ওই রিপোর্টে আরো উল্লেখ ছিল সে বাহরাইনের ক্রাউন প্রিন্স থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার নিয়েছে। সবই নিয়েছে তার ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে।
এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ করি ২০১০ বা ১১ সালে আমেরিকার CNBC একটা রিপোর্ট করে তৎকালীন সেক্রেটারি অফ স্টেট হিলারী ক্লিনটন বিভিন্ন লোকের সঙ্গে দেখা করার জন্য কত টাকা নিয়েছে সেই প্রসঙ্গে। এই রিপোর্টে অনেকের নাম ছিল। তবে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম ইউনূসের নাম দেখে। ওই রিপোর্টে উল্লেখ ছিল ইউনুস দেড় লক্ষ ডলার দিয়েছে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে এবং তার বিনিময়ে সেক্রেটারি অফ স্টেট এর সঙ্গে ১০ মিনিটের একটা এক্সক্লুসিভ সময় পেয়েছিল। খবরটা দেখার পর আমার বারবার মনে হচ্ছিল এই লোক না ক্লিনটন দম্পতির খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু? প্রশ্ন হল, এত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলে ফরমাল দেখা করার জন্য ইউনুসকে কেন দেড় লক্ষ ডলার দিতে হবে?
একটা জিনিস আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে ইউনুস যখনই ঝামেলায় পড়ে তখন এই ক্লিনটন দম্পতির শরণাপন্ন হয়। এ প্রসঙ্গে হিলারি ক্লিনটনের শেখ হাসিনাকে ফোন করা সম্পর্কে একটা খবর দেখেছিলাম। তখন শুনেছিলাম তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে হিলারি বলেছিলেন যে ইউনূসের বিরুদ্ধে যেন মামলা মকদ্দমা না হয়। আমি ৯৯ ভাগ নিশ্চিত বিরাট অংকের টাকা ছাড়া হিলারি ক্লিনটন এই ফোন করেনি।

আমাদের দেশের গণমাধ্যমে প্রায়ই ইউনূসের সঙ্গে এই দুর্নীতিবাজ দম্পতির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে খবর দেখতে পাই। এর উদ্দেশ্য হল ইউনুস ওই দেশে কত প্রভাবশালী সেটা আমাদের জানানো। আর এই খবর আপনারা দেখবেন যখনই ইউনুস কোন বিপদে পড়ে। এবার এই হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড এর ব্যাপারটার উদ্দেশ্য একই। এখনো দেখি কথায় কথায় এই ক্লিনটন দম্পতির সঙ্গে ইউনূসের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রচার হচ্ছে । এর একমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের ভয় দেখানো যে ইউনুসের বিরুদ্ধে কোন কিছু বললে বা ব্যবস্থা নিলে আমেরিকা লাফ দিয়ে আসবে আমাদেরকে মারার জন্য।
আমার কেন জানি মনে হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইউনুসকে যেভাবে প্রটেকশন দিচ্ছে এটার পিছনেও ওই ভয় কাজ করে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান থাকার আঠারো মাসে সে যে ধরনের অপকর্ম, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি করেছে সে কারণে তো তার এখন জেলে থাকার কথা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় বর্তমান সরকার তার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত করতে দিচ্ছে না। বিচারকরা ইউনুসের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো খারিজ করে দিচ্ছে কোন রকম শুনানি ছাড়া। আমার আশঙ্কা হচ্ছে তারেক রহমানকে এজন্য হয়তো চড়ামূল্য দিতে হবে।
আরশাদ মাহমুদের আরও লেখা
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন!
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকতা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে খলিলুর রহমানের মনোনয়ন: দেশের কি লাভ হবে?
ডা.জাহেদ কি তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ডাস্টবিন











