কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সার বিতরণে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে এক ডিলারের গুদামে হামলা চালিয়ে শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে উপজেলার মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার রাত থেকেই কৃষকদের ভিড়
স্থানীয়দের ভাষ্য, সার সংগ্রহের জন্য রোববার দিবাগত মধ্যরাত থেকেই বন্দবেড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকার কৃষকেরা ডিলার পয়েন্টে জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলারের দেখা না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
সোমবার সকালেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্য থেকে উত্তেজিত লোকজন ডিলারের গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে সারের বস্তা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার দাবি
মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান। এর মধ্যেই ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদাম থেকে আনুমানিক শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান।
তবে ঠিক কত বস্তা সার লুট হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি, সার সংকট নেই
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা ধৈর্য ধরে সার উত্তোলন করলে কোনো সমস্যা হবে না।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে সার নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবও দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন কৃষি কর্মকর্তা।
প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হাসান জানান, তিনি বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















