০২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

নড়াইলে ট্রেনের সংকট: পদ্মা সেতু রেল চালু হলেও দিনে মাত্র একটি ট্রেন, দীর্ঘ অপেক্ষায় যাত্রীরা

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের জাতীয় রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে নড়াইল। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তবে যাত্রীদের ভোগান্তি পুরোপুরি কমেনি। ঢাকা–নড়াইল–খুলনা এবং ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রুটে বর্তমানে মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরবর্তী যাত্রার জন্য।

দিনে একটি ট্রেনেই চলছে পুরো রুট

বর্তমানে এই রুটে একটি ট্রেনই দুই ভিন্ন নামে চলাচল করছে। ‘জাহানাবাদ’ নামে ট্রেনটি সকাল ছয়টায় খুলনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় সাতটা পনেরোর দিকে নড়াইলে পৌঁছে। এরপর একই ট্রেন বিকেল তিনটায় বেনাপোল থেকে ‘রূপসী বাংলা’ নামে যাত্রা শুরু করে এবং বিকেল চারটা পঁয়তাল্লিশে নড়াইলে পৌঁছায়।

নড়াইল থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। তবে রাতের দিকে রাজধানীতে যাওয়ার কোনো ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

পদ্মা সেতু হয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেন পৌনে ৪ ঘণ্টায় খুলনা পৌঁছাল

যাত্রীদের অভিযোগ ও দাবি

এই রুটের যাত্রী রেজাউল করিম বলেন, নড়াইল থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ট্রেন সবচেয়ে আরামদায়ক ও দ্রুত মাধ্যম। কিন্তু সকাল ও বিকেলের বাইরে অন্য কোনো সময় ট্রেন না থাকায় যাত্রীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

আরেক যাত্রী এ এ আল মারজান বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন নির্মাণ করা হলেও মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করায় মানুষ পুরো সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

ট্রেন চালু হওয়ায় যাতায়াতে স্বস্তি

যাত্রী আমেনা বেগম জানান, ট্রেন চালু হওয়ার পর যাতায়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে। এখন সকালে ঢাকায় গিয়ে কাজ শেষ করে আবার বাড়ি ফেরা সম্ভব হচ্ছে। তবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।

নড়াইল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। তিনি বলেন, এই রেলসেবা ইতোমধ্যে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও ট্রেন যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু রুটের ৬ ট্রেন চলবে ঢাকার শহরতলি প্ল্যাটফর্ম থেকে

ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগের আশ্বাস

নড়াইলের জেলা প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ আবদুল সালাম জানান, ঢাকা–নড়াইল–খুলনা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রেল সচিবের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে নড়াইলে ট্রেন চালু হয়েছে। তবে বর্তমান সেবা এখনো মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাই ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগের গুরুত্ব

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালে এই প্রকল্প সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে এবং বাকি অর্থায়ন করেছে চীন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

নড়াইলে ট্রেনের সংকট: পদ্মা সেতু রেল চালু হলেও দিনে মাত্র একটি ট্রেন, দীর্ঘ অপেক্ষায় যাত্রীরা

০৫:৩৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের জাতীয় রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে নড়াইল। এতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তবে যাত্রীদের ভোগান্তি পুরোপুরি কমেনি। ঢাকা–নড়াইল–খুলনা এবং ঢাকা–নড়াইল–বেনাপোল রুটে বর্তমানে মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরবর্তী যাত্রার জন্য।

দিনে একটি ট্রেনেই চলছে পুরো রুট

বর্তমানে এই রুটে একটি ট্রেনই দুই ভিন্ন নামে চলাচল করছে। ‘জাহানাবাদ’ নামে ট্রেনটি সকাল ছয়টায় খুলনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় সাতটা পনেরোর দিকে নড়াইলে পৌঁছে। এরপর একই ট্রেন বিকেল তিনটায় বেনাপোল থেকে ‘রূপসী বাংলা’ নামে যাত্রা শুরু করে এবং বিকেল চারটা পঁয়তাল্লিশে নড়াইলে পৌঁছায়।

নড়াইল থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। তবে রাতের দিকে রাজধানীতে যাওয়ার কোনো ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

পদ্মা সেতু হয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেন পৌনে ৪ ঘণ্টায় খুলনা পৌঁছাল

যাত্রীদের অভিযোগ ও দাবি

এই রুটের যাত্রী রেজাউল করিম বলেন, নড়াইল থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ট্রেন সবচেয়ে আরামদায়ক ও দ্রুত মাধ্যম। কিন্তু সকাল ও বিকেলের বাইরে অন্য কোনো সময় ট্রেন না থাকায় যাত্রীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

আরেক যাত্রী এ এ আল মারজান বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন নির্মাণ করা হলেও মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করায় মানুষ পুরো সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

ট্রেন চালু হওয়ায় যাতায়াতে স্বস্তি

যাত্রী আমেনা বেগম জানান, ট্রেন চালু হওয়ার পর যাতায়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে। এখন সকালে ঢাকায় গিয়ে কাজ শেষ করে আবার বাড়ি ফেরা সম্ভব হচ্ছে। তবে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।

নড়াইল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। তিনি বলেন, এই রেলসেবা ইতোমধ্যে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও ট্রেন যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু রুটের ৬ ট্রেন চলবে ঢাকার শহরতলি প্ল্যাটফর্ম থেকে

ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগের আশ্বাস

নড়াইলের জেলা প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ আবদুল সালাম জানান, ঢাকা–নড়াইল–খুলনা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রেল সচিবের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে নড়াইলে ট্রেন চালু হয়েছে। তবে বর্তমান সেবা এখনো মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাই ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগের গুরুত্ব

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালে এই প্রকল্প সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে এবং বাকি অর্থায়ন করেছে চীন।